চুয়াডাঙ্গা ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চার পশুর হাট নিয়ে সিন্ডিকেটের দৌরাত্মের অভিযোগ

Padma Sangbad
১৪

অনলাইন ডেস্ক।।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আসন্ন কোরবানির পশুর হাট ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়ম এবং যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে।কোনো ধরনের অফিসিয়াল গেজেট ঘোষণা ছাড়া অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পছন্দের বিশেষ মহলকে হাট পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

চারটি প্রধান হাটের দরপত্র প্রক্রিয়ায় এই অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। এ কারণে বড় অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়ছে সরকার। সিটি কর্পোরেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এর নেপথ্যে আছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বাড্ডা থানার আওতাধীন স্বদেশ প্রপার্টির খালি জায়গায় হাটের সরকারি ভিত্তি মূল্য ছিল ৫০ লক্ষ টাকা। এখানে মোট চারটি টেন্ডার জমা পড়ে। যার মধ্যে এ্যামাবা ট্রেড অ্যাসোসিয়েট এর পক্ষ থেকে ফাহিম মোহাম্মদ আকিল মাহমুদ সর্বোচ্চ ৭ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা বিড করেন। এই হাটের জন্য তুহিনুল ইসলাম ২ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা বিড করে ৭০ লক্ষ টাকার পে-অর্ডার জমা দেন। এছাড়া মোহাম্মদ মেহেদী মাসুদ রানা ৯১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বিড করে ২৯ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকার পে-অর্ডার এবং মোঃ ওমর ফারুক ৭১ লক্ষ টাকা বিড করে ২১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার পে-অর্ডার জমা দেন। মেহেদী মাসুদ বলেন, ভুয়া পে-অর্ডার দিয়ে এই হাটটি নেওয়া হয়েছে।

বড় বেড়াইদ বা বসুন্ধরার ভেতরের খালি জায়গায় হাটের জন্য সরকারি ভিত্তি মূল্য ছিল ১ কোটি টাকা। এখানে তিনটি টেন্ডার জমা পড়ে। এএম এন্টারপ্রাইজ নামে আতাউর রহমান ৫ কোটি ৭ লক্ষ টাকা বিড করেন এবং ১ কোটি ৫২ লক্ষ ১০ হাজার টাকার পে-অর্ডার জমা দেন। মাহমুদ হাসান মুনির নামের আরেকটি টেন্ডার জমা পড়ে ১ কোটি ৮২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার এবং পে-অর্ডার হয় ৫৪ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার। একই হাটের জন্য মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম নামে আরেকটি টেন্ডার জমা পড়ে ১ কোটি ২১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার, যার পে-অর্ডার ছিল ৩৬ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা। মাহমুদ হাসান মুনির অভিযোগ করেন ভুয়া পে-অর্ডারের মাধ্যমে হাটটি নেওয়া হয়েছে এবং সরকারের কোষাগারে আজকে পর্যন্ত তাদের টাকা জমা হয়নি। আমরা প্রকৃত টাকা জমা দিয়েও কারসাজিতে পরে গিয়েছি।

বনরুপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গায় পশুর হাটের জন্য সরকারি ভিত্তি মূল্য ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে এই হাটের জন্য মাত্র একটি টেন্ডার জমা পড়ে। আরিফিন এন আরাফ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ভিত্তি মূল্যের চেয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১ কোটি ৮০ লক্ষ ১০ হাজার টাকা বিড করে। নিয়ম অনুযায়ী, মাত্র একটি দরপত্র জমা পড়লে পুনরায় টেন্ডার ডাকার বিধান থাকলেও, এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিডের বিপরীতে ৫৪ লক্ষ ৩ হাজার টাকার পে-অর্ডার জমা দেয়। একক দরদাতার মাধ্যমে হাটটি চূড়ান্ত করার এই প্রক্রিয়াকে সাজানো নাটক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

মহাখালী টিএনটি মাঠের হাটের সরকারি ভিত্তি মূল্য ছিল ৫০ লক্ষ টাকা। অথচ এখানে যে তিনটি টেন্ডার জমা পড়েছে, তার প্রতিটিই সরকারি মূল্যের অর্ধেকেরও কম। এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেডিং ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বিড করে ৫ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার পে-অর্ডার জমা দেয়। মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন আহমেদ নামের আরেকজন ১৭ লক্ষ টাকা বিড করে ৫ লক্ষ ১০ হাজার টাকার পে-অর্ডার করেন। একই হাটের জন্য আরেকটি কোম্পানি ১৬ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা বিড করে ৫ লক্ষ ১০ হাজার টাকার পে-অর্ডার জমা দেয়। এই তিনটি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানই মূলত একই সিন্ডিকেটের সদস্য অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারীরা বলেন, সরকারি ভিত্তি মূল্য ৫০ লক্ষ টাকা হওয়া সত্ত্বেও কেন ১৭ লক্ষ টাকার ঘরে বিড গ্রহণ করা হলো, তা নিয়ে কোনো সদুত্তর নেই ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষের। এটি স্পষ্টত একটি যোগসাজশের বিডিং, যেখানে রাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

নিয়ম অনুযায়ী, টেন্ডার খোলার পর সর্বোচ্চ দরদাতাকে সাময়িকভাবে নির্বাচিত করে সাথে সাথে অফিসিয়াল গেজেট প্রকাশ করার কথা। কিন্তু এই চারটি হাটের ইজারার জন্য ডিএনসিসি তাৎক্ষণিক কোনো গেজেট ইস্যু করে নাই।

কে বা কারা সর্বোচ্চ বিড করে টেন্ডার পেয়েছে, তারও কোন অফিসিয়াল ডিক্লারেশন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে না দিয়ে এর পাঁচ দিন পরে গেজেট প্রকাশ করে। এদিকে নিয়ম অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পর নির্ধারিত দিন থেকে হাট পরিচালনার কথা। অথচ ডিএসিসি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগসাজসে নির্ধারিত দিনের তিন দিন আগে থেকেই হাট পরিচালনা করা হচ্ছে। যা রাষ্ট্রিয় আইন অনুযায়ী স্পষ্ট ভাবে অনিয়ম বা দুর্নীতি।

ডিএনসিসির গুরুত্বপূর্ণ একজন কর্মকর্তা জানান, ‘এসব বিষয় রিভিউ কমিটি সিদ্ধান্ত নিবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা জানান, ওপর মহল থেকে চাপ থাকায় অনেক সময় নিয়ম ভেঙে কম মূল্যের টেন্ডার গ্রহণ করতে হয়। আমরা এবার এমনো পে অর্ডার গ্রহণ করেছি যা সম্পূর্ণ ভূয়া এবং লোক দেখানো। উপরের মহলের নির্দেশে আমরা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছি।

আপডেট : ০৪:২৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

চার পশুর হাট নিয়ে সিন্ডিকেটের দৌরাত্মের অভিযোগ

আপডেট : ০৪:২৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
১৪

অনলাইন ডেস্ক।।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আসন্ন কোরবানির পশুর হাট ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়ম এবং যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে।কোনো ধরনের অফিসিয়াল গেজেট ঘোষণা ছাড়া অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পছন্দের বিশেষ মহলকে হাট পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

চারটি প্রধান হাটের দরপত্র প্রক্রিয়ায় এই অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। এ কারণে বড় অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়ছে সরকার। সিটি কর্পোরেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এর নেপথ্যে আছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বাড্ডা থানার আওতাধীন স্বদেশ প্রপার্টির খালি জায়গায় হাটের সরকারি ভিত্তি মূল্য ছিল ৫০ লক্ষ টাকা। এখানে মোট চারটি টেন্ডার জমা পড়ে। যার মধ্যে এ্যামাবা ট্রেড অ্যাসোসিয়েট এর পক্ষ থেকে ফাহিম মোহাম্মদ আকিল মাহমুদ সর্বোচ্চ ৭ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা বিড করেন। এই হাটের জন্য তুহিনুল ইসলাম ২ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা বিড করে ৭০ লক্ষ টাকার পে-অর্ডার জমা দেন। এছাড়া মোহাম্মদ মেহেদী মাসুদ রানা ৯১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বিড করে ২৯ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকার পে-অর্ডার এবং মোঃ ওমর ফারুক ৭১ লক্ষ টাকা বিড করে ২১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার পে-অর্ডার জমা দেন। মেহেদী মাসুদ বলেন, ভুয়া পে-অর্ডার দিয়ে এই হাটটি নেওয়া হয়েছে।

বড় বেড়াইদ বা বসুন্ধরার ভেতরের খালি জায়গায় হাটের জন্য সরকারি ভিত্তি মূল্য ছিল ১ কোটি টাকা। এখানে তিনটি টেন্ডার জমা পড়ে। এএম এন্টারপ্রাইজ নামে আতাউর রহমান ৫ কোটি ৭ লক্ষ টাকা বিড করেন এবং ১ কোটি ৫২ লক্ষ ১০ হাজার টাকার পে-অর্ডার জমা দেন। মাহমুদ হাসান মুনির নামের আরেকটি টেন্ডার জমা পড়ে ১ কোটি ৮২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার এবং পে-অর্ডার হয় ৫৪ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার। একই হাটের জন্য মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম নামে আরেকটি টেন্ডার জমা পড়ে ১ কোটি ২১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার, যার পে-অর্ডার ছিল ৩৬ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা। মাহমুদ হাসান মুনির অভিযোগ করেন ভুয়া পে-অর্ডারের মাধ্যমে হাটটি নেওয়া হয়েছে এবং সরকারের কোষাগারে আজকে পর্যন্ত তাদের টাকা জমা হয়নি। আমরা প্রকৃত টাকা জমা দিয়েও কারসাজিতে পরে গিয়েছি।

বনরুপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গায় পশুর হাটের জন্য সরকারি ভিত্তি মূল্য ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে এই হাটের জন্য মাত্র একটি টেন্ডার জমা পড়ে। আরিফিন এন আরাফ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ভিত্তি মূল্যের চেয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১ কোটি ৮০ লক্ষ ১০ হাজার টাকা বিড করে। নিয়ম অনুযায়ী, মাত্র একটি দরপত্র জমা পড়লে পুনরায় টেন্ডার ডাকার বিধান থাকলেও, এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিডের বিপরীতে ৫৪ লক্ষ ৩ হাজার টাকার পে-অর্ডার জমা দেয়। একক দরদাতার মাধ্যমে হাটটি চূড়ান্ত করার এই প্রক্রিয়াকে সাজানো নাটক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

মহাখালী টিএনটি মাঠের হাটের সরকারি ভিত্তি মূল্য ছিল ৫০ লক্ষ টাকা। অথচ এখানে যে তিনটি টেন্ডার জমা পড়েছে, তার প্রতিটিই সরকারি মূল্যের অর্ধেকেরও কম। এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেডিং ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বিড করে ৫ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার পে-অর্ডার জমা দেয়। মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন আহমেদ নামের আরেকজন ১৭ লক্ষ টাকা বিড করে ৫ লক্ষ ১০ হাজার টাকার পে-অর্ডার করেন। একই হাটের জন্য আরেকটি কোম্পানি ১৬ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা বিড করে ৫ লক্ষ ১০ হাজার টাকার পে-অর্ডার জমা দেয়। এই তিনটি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানই মূলত একই সিন্ডিকেটের সদস্য অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারীরা বলেন, সরকারি ভিত্তি মূল্য ৫০ লক্ষ টাকা হওয়া সত্ত্বেও কেন ১৭ লক্ষ টাকার ঘরে বিড গ্রহণ করা হলো, তা নিয়ে কোনো সদুত্তর নেই ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষের। এটি স্পষ্টত একটি যোগসাজশের বিডিং, যেখানে রাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

নিয়ম অনুযায়ী, টেন্ডার খোলার পর সর্বোচ্চ দরদাতাকে সাময়িকভাবে নির্বাচিত করে সাথে সাথে অফিসিয়াল গেজেট প্রকাশ করার কথা। কিন্তু এই চারটি হাটের ইজারার জন্য ডিএনসিসি তাৎক্ষণিক কোনো গেজেট ইস্যু করে নাই।

কে বা কারা সর্বোচ্চ বিড করে টেন্ডার পেয়েছে, তারও কোন অফিসিয়াল ডিক্লারেশন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে না দিয়ে এর পাঁচ দিন পরে গেজেট প্রকাশ করে। এদিকে নিয়ম অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পর নির্ধারিত দিন থেকে হাট পরিচালনার কথা। অথচ ডিএসিসি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগসাজসে নির্ধারিত দিনের তিন দিন আগে থেকেই হাট পরিচালনা করা হচ্ছে। যা রাষ্ট্রিয় আইন অনুযায়ী স্পষ্ট ভাবে অনিয়ম বা দুর্নীতি।

ডিএনসিসির গুরুত্বপূর্ণ একজন কর্মকর্তা জানান, ‘এসব বিষয় রিভিউ কমিটি সিদ্ধান্ত নিবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা জানান, ওপর মহল থেকে চাপ থাকায় অনেক সময় নিয়ম ভেঙে কম মূল্যের টেন্ডার গ্রহণ করতে হয়। আমরা এবার এমনো পে অর্ডার গ্রহণ করেছি যা সম্পূর্ণ ভূয়া এবং লোক দেখানো। উপরের মহলের নির্দেশে আমরা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছি।