চুয়াডাঙ্গা ১২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ‘শান্তি চুক্তি’, বন্ধ হচ্ছে যুদ্ধ

Padma Sangbad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

গত দুয়েক মাস ধরেই চুক্তি ‘হচ্ছে-হচ্ছে’ অবস্থা চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হচ্ছিল না। অবশেষে শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার কথা জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রোববার ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন।’ একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণাও করেছেন তিনি। তবে এখনও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি কোনো পক্ষই। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের শীর্ষ কর্তারা মুখোমুখি বসবেন। সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন তারা। এরপরই খুলে যাবে হরমুজ প্রণালি।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, শনিবারই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ইরানের দিক থেকে তেমন কোনো সাড়া মেলেনি। তখন থেকেই জল্পনা চলছিল। এদিন মধ্যরাতে শান্তি চুক্তি ‘সম্পন্ন’ হওয়ার বার্তা দিয়ে গোটা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে অভিনন্দন জানান ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন।’ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণাও করেন তিনি। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে টোলমুক্ত জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছি।’ তবে শুক্রবার আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের পরই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।

শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইরানের সব বন্দর অবরোধ করে রেখেছিল মার্কিন বাহিনী। সেই অবরোধ তুলে নেওয়ার ঘোষণাও করেছেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, ‘মার্কিন নৌবাহিনীকে এখনই অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিলাম।’ একই সঙ্গে তেলের বাজারকে স্বস্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সব জাহাজকে বলছি, আবার ইঞ্জিন চালু করো। তেল বয়ে যেতে দাও।’

ট্রাম্পের এই পোস্টের কিছুক্ষণ আগে নিজের এক্স হ্যান্ডলে চুক্তি স্বাক্ষরের দিনক্ষণ জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি লেখেন, ‘ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। উভয় পক্ষই লেবানন-সহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা করেছে।’ আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই পক্ষ চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শরিফ ও ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি ইরান। চুক্তির কোনো শর্তই প্রকাশ করা হয়নি। ফলে চুক্তি ঠিক কতটা চূড়ান্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশ্বের সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি ঠিক কবে থেকে খুলে দেওয়া হবে, তাও এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও ট্রাম্প ইতিমধ্যেই এটি খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু ইরানের সহযোগিতা ছাড়া পরিস্থিতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব। ফলে এ নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তিনটি শহরে একযোগে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় হরমুজ প্রণালিও। তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে। পরে গত এপ্রিলে দুই দফায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে চোরাগোপ্তা হামলা চলছিল। লেবাননে হামলা চালানোও বন্ধ করেনি ইসরায়েল। ফলে বাস্তবে যুদ্ধ থেমেছে কি না, তা বলার সময় এখনও আসেনি বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

আপডেট : ০৯:৫১:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ‘শান্তি চুক্তি’, বন্ধ হচ্ছে যুদ্ধ

আপডেট : ০৯:৫১:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

গত দুয়েক মাস ধরেই চুক্তি ‘হচ্ছে-হচ্ছে’ অবস্থা চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হচ্ছিল না। অবশেষে শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার কথা জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রোববার ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন।’ একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণাও করেছেন তিনি। তবে এখনও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি কোনো পক্ষই। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের শীর্ষ কর্তারা মুখোমুখি বসবেন। সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন তারা। এরপরই খুলে যাবে হরমুজ প্রণালি।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, শনিবারই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ইরানের দিক থেকে তেমন কোনো সাড়া মেলেনি। তখন থেকেই জল্পনা চলছিল। এদিন মধ্যরাতে শান্তি চুক্তি ‘সম্পন্ন’ হওয়ার বার্তা দিয়ে গোটা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে অভিনন্দন জানান ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন।’ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণাও করেন তিনি। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে টোলমুক্ত জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছি।’ তবে শুক্রবার আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের পরই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।

শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইরানের সব বন্দর অবরোধ করে রেখেছিল মার্কিন বাহিনী। সেই অবরোধ তুলে নেওয়ার ঘোষণাও করেছেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, ‘মার্কিন নৌবাহিনীকে এখনই অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিলাম।’ একই সঙ্গে তেলের বাজারকে স্বস্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সব জাহাজকে বলছি, আবার ইঞ্জিন চালু করো। তেল বয়ে যেতে দাও।’

ট্রাম্পের এই পোস্টের কিছুক্ষণ আগে নিজের এক্স হ্যান্ডলে চুক্তি স্বাক্ষরের দিনক্ষণ জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি লেখেন, ‘ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। উভয় পক্ষই লেবানন-সহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা করেছে।’ আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই পক্ষ চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শরিফ ও ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি ইরান। চুক্তির কোনো শর্তই প্রকাশ করা হয়নি। ফলে চুক্তি ঠিক কতটা চূড়ান্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশ্বের সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি ঠিক কবে থেকে খুলে দেওয়া হবে, তাও এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও ট্রাম্প ইতিমধ্যেই এটি খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু ইরানের সহযোগিতা ছাড়া পরিস্থিতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব। ফলে এ নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তিনটি শহরে একযোগে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় হরমুজ প্রণালিও। তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে। পরে গত এপ্রিলে দুই দফায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে চোরাগোপ্তা হামলা চলছিল। লেবাননে হামলা চালানোও বন্ধ করেনি ইসরায়েল। ফলে বাস্তবে যুদ্ধ থেমেছে কি না, তা বলার সময় এখনও আসেনি বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।