চুয়াডাঙ্গা ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পানির ৩৩ ফুট গভীরেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, নতুন সম্ভাবনা দেখাল চীনা প্রযুক্তি

Padma Sangbad

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"addons":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সমুদ্রের পানির প্রায় ৩৩ ফুট বা ১০ মিটার গভীরেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল হয়েছেন চীনা গবেষকেরা। পেরোভস্কাইটভিত্তিক বিশেষ সোলার প্যানেল ব্যবহার করে চালানো পরীক্ষায় পানির গভীরতা বাড়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমলেও প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা বজায় থাকার প্রমাণ মিলেছে। গবেষকদের মতে, এই উদ্ভাবন ভবিষ্যতে সমুদ্রের তলদেশে থাকা বিভিন্ন সেন্সর, পর্যবেক্ষণযন্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় ডিভাইসে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহের নতুন পথ তৈরি করতে পারে।
ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দক্ষিণ চীন সাগরে রোবটের সহায়তায় পরীক্ষাটি পরিচালনা করেন। এ সময় ১১৫ বর্গসেন্টিমিটার আয়তনের একটি পেরোভস্কাইট সোলার প্যানেল সমুদ্রের ২, ৬ ও ১০ মিটার গভীরে নিয়ে এর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ২ মিটার গভীরতায় প্যানেলটি ১ হাজার ৪১৬ মিলিওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ৬ মিটার গভীরতায় উৎপাদন নেমে আসে ৭৫২ মিলিওয়াট-ঘণ্টায়। আর ১০ মিটার গভীরতায়ও প্যানেলটি ৩২৪ মিলিওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়। উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করার পাশাপাশি এলইডি বাতিও জ্বালানো হয়।
গবেষকেরা জানান, পানির গভীরতা বাড়ার সঙ্গে সূর্যের আলোর বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্য পানিতে ভিন্ন হারে শোষিত হয়। বিশেষ করে লাল আলোর বড় একটি অংশ তুলনামূলক অগভীর স্তরেই শোষিত হয়ে যায়। ফলে প্রায় ৫ থেকে ১০ মিটার গভীরে নীল ও সবুজ আলোর উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি থাকে।
এই বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়েই নতুন প্যানেলগুলোকে ৪০০ থেকে ৬০০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো ব্যবহার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। প্যানেলে ব্যবহৃত হয়েছে সীসা-হ্যালাইড পেরোভস্কাইট নামের বিশেষ অর্ধপরিবাহী উপাদান। এর সঙ্গে পলিহেক্সামেথিলিন গুয়ানিডিন হাইড্রোক্লোরাইড নামের একটি পলিমার যুক্ত করা হয়েছে, যা প্যানেলের কার্যক্ষমতা ও স্থায়িত্ব বাড়াতে সহায়তা করে।
গবেষক ওয়েন-হুয়া ঝাং বলেন, পানির নিচে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে আগের অধিকাংশ গবেষণা অগভীর পানিতে, সাধারণত ২ মিটার বা তার কম গভীরতায় সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন গবেষণায় প্রায় ১০ মিটার গভীরতায় প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে।
বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জুল’-এ ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, পরীক্ষিত নতুন প্যানেলগুলো প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষকদের মতে, প্রযুক্তিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হতে পারে সমুদ্রের নিচে স্থাপিত স্থির সেন্সর, শনাক্তকারী যন্ত্র ও অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় ডিভাইসে বিদ্যুৎ সরবরাহ। পাশাপাশি সামুদ্রিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগব্যবস্থা এবং বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে দীর্ঘ সময় ধরে বাইরের বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়াই কাজ করতে পারে—এমন স্বয়ংসম্পূর্ণ শক্তিব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
তবে গবেষণাটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বাস্তব সমুদ্র পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার, সামুদ্রিক ক্ষয়, জৈব আবরণ এবং পানির বিভিন্ন অবস্থায় প্যানেলের কার্যক্ষমতা কতটা স্থায়ী থাকে—এসব বিষয় ভবিষ্যৎ গবেষণায় আরও যাচাই করতে হবে।

আপডেট : ১০:২৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পানির ৩৩ ফুট গভীরেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, নতুন সম্ভাবনা দেখাল চীনা প্রযুক্তি

আপডেট : ১০:২৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সমুদ্রের পানির প্রায় ৩৩ ফুট বা ১০ মিটার গভীরেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল হয়েছেন চীনা গবেষকেরা। পেরোভস্কাইটভিত্তিক বিশেষ সোলার প্যানেল ব্যবহার করে চালানো পরীক্ষায় পানির গভীরতা বাড়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমলেও প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা বজায় থাকার প্রমাণ মিলেছে। গবেষকদের মতে, এই উদ্ভাবন ভবিষ্যতে সমুদ্রের তলদেশে থাকা বিভিন্ন সেন্সর, পর্যবেক্ষণযন্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় ডিভাইসে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহের নতুন পথ তৈরি করতে পারে।
ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দক্ষিণ চীন সাগরে রোবটের সহায়তায় পরীক্ষাটি পরিচালনা করেন। এ সময় ১১৫ বর্গসেন্টিমিটার আয়তনের একটি পেরোভস্কাইট সোলার প্যানেল সমুদ্রের ২, ৬ ও ১০ মিটার গভীরে নিয়ে এর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ২ মিটার গভীরতায় প্যানেলটি ১ হাজার ৪১৬ মিলিওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ৬ মিটার গভীরতায় উৎপাদন নেমে আসে ৭৫২ মিলিওয়াট-ঘণ্টায়। আর ১০ মিটার গভীরতায়ও প্যানেলটি ৩২৪ মিলিওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়। উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করার পাশাপাশি এলইডি বাতিও জ্বালানো হয়।
গবেষকেরা জানান, পানির গভীরতা বাড়ার সঙ্গে সূর্যের আলোর বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্য পানিতে ভিন্ন হারে শোষিত হয়। বিশেষ করে লাল আলোর বড় একটি অংশ তুলনামূলক অগভীর স্তরেই শোষিত হয়ে যায়। ফলে প্রায় ৫ থেকে ১০ মিটার গভীরে নীল ও সবুজ আলোর উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি থাকে।
এই বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়েই নতুন প্যানেলগুলোকে ৪০০ থেকে ৬০০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো ব্যবহার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। প্যানেলে ব্যবহৃত হয়েছে সীসা-হ্যালাইড পেরোভস্কাইট নামের বিশেষ অর্ধপরিবাহী উপাদান। এর সঙ্গে পলিহেক্সামেথিলিন গুয়ানিডিন হাইড্রোক্লোরাইড নামের একটি পলিমার যুক্ত করা হয়েছে, যা প্যানেলের কার্যক্ষমতা ও স্থায়িত্ব বাড়াতে সহায়তা করে।
গবেষক ওয়েন-হুয়া ঝাং বলেন, পানির নিচে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে আগের অধিকাংশ গবেষণা অগভীর পানিতে, সাধারণত ২ মিটার বা তার কম গভীরতায় সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন গবেষণায় প্রায় ১০ মিটার গভীরতায় প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে।
বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জুল’-এ ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, পরীক্ষিত নতুন প্যানেলগুলো প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষকদের মতে, প্রযুক্তিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হতে পারে সমুদ্রের নিচে স্থাপিত স্থির সেন্সর, শনাক্তকারী যন্ত্র ও অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় ডিভাইসে বিদ্যুৎ সরবরাহ। পাশাপাশি সামুদ্রিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগব্যবস্থা এবং বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে দীর্ঘ সময় ধরে বাইরের বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়াই কাজ করতে পারে—এমন স্বয়ংসম্পূর্ণ শক্তিব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
তবে গবেষণাটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বাস্তব সমুদ্র পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার, সামুদ্রিক ক্ষয়, জৈব আবরণ এবং পানির বিভিন্ন অবস্থায় প্যানেলের কার্যক্ষমতা কতটা স্থায়ী থাকে—এসব বিষয় ভবিষ্যৎ গবেষণায় আরও যাচাই করতে হবে।