চুয়াডাঙ্গা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃদ্ধ কাল-অসহায়ত্ব ও পিতা মাতার হক!

Padma Sangbad
৪৩

রাশিদা-য়ে আশরার,কবি ও সাহিত্য সম্পাদক, দৈনিক পদ্মা সংবাদ।

দিনবদলের পালা- বিবর্তনের ধারায় বদলেছে দিন… সমাজ ও সভ্যতা! বদলেছে বাঙ্গালীদের জীবন যাপনের মান,উন্নয়নের ধারায় দেশ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ।

একবিংশ শতাব্দীতে এসে এদেশের মানুষ উন্নত বিশ্বের দ্বারপ্রান্তে… ভোগ করছে ডিজিটাল পদ্ধতি ও সুযোগ সুবিধা। বিশ্ব জুড়ে চলছে এখন বৈশ্বিক আন্দোলন, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও তথ্যপ্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের কল্যাণে গোটা বিশ্ব হাতের মুঠোয়। হাতের একটি ছোঁয়ায় বা স্পর্শে এক নিমিষেই পৌঁছে যাওয়া যায় ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন ধারার জীবন যাপনের পদ্ধতিতে। মানুষ সহজেই হচ্ছে জ্ঞানলব্ধ কিন্তু অধঃপতন ঘটছে মানবতা মনুষত্ব ও বিবেকবোধের! সেই সঙ্গে কমেছে মায়া- মমতার বন্ধন, শ্রদ্ধা, স্নেহ ও ভালোবাসা। যতই দিন যাচ্ছে মানুষ নিষ্ঠুর প্রকৃতির হয়ে উঠছে- স্বার্থ ছাড়া জীবন বেকার। মানুষ এতোটাই স্বার্থপর হয়ে পড়েছে যে, নিজের স্বার্থ বা লাভ ছাড়া কিছুই বোঝে না। লাভ- লোকসানের পাল্লায় সব সময় জীবন চলে না কারণ মানুষ সামাজিক জীব। মুখে যতই বড় বড় কথা বলুক আর অস্বীকার করুক না কেন, কোন না কোন ভাবেই একজন অপরের উপর নির্ভরশীল।

জন্মদাতা পিতা-মাতাকে পর্যন্ত মানুষ ভুলে যায়,
ভুলে যায় তাদের কষ্ট, ত্যাগ ও মায়া- মমতা স্নেহ ভালোবাসার কথা। ভুলে যায় বেমালুম তাঁদের যখন বয়সন্ধিকাল, অসহায়ত্ব ও বৃদ্ধকালে তাঁদের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্যের কথা! এমনকি অবশেষে তাঁদের একমাত্র আশ্রয় ওর ঠিকানা হয় বৃদ্ধাশ্রম! তবে একথা মনে রাখা প্রয়োজন, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত! সৃষ্টিকর্তা মায়ের মর্যাদা রেখেছেন সবার উপরে, কিন্তু পিতা তাই বলে কম মর্যাদার নয়-আলাদা করে দেখার কোন সুযোগ নেই।

পিতা-মাতা উভয়ের সুখে যেমন মঙ্গল তেমনি কষ্টতেও সন্তানের অমঙ্গল। তাঁদের দোওয়া তে যেমন বরকত বদ দোয়াতে তেমনি ক্ষতি। পিতা মাতা কখনো সন্তানের অমঙ্গল চায়না এবং বদ দোওয়া দেয় না তবে অনেক কুসন্তান রয়েছে যারা পশুর মত আচরণ করে। বৃদ্ধ বয়সে দেখভাল করে না, দায়িত্ব পালন ও হক আদায় করে না। পিতা-মাতার সঙ্গে এরকম আচরণ সৃষ্টিকর্তা সহ্য করেন না কাজেই তারা মুখ দিয়ে কিছু না বলেও অন্তরের কষ্ট এমন কি মায়ের একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস এবং চোখের পানিও সন্তানের জন্য ক্ষতিকর! সন্তান হিসেবে যদি কখনো অপরাধ হয়ে যায়ও সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করা আর পরবর্তীতে নিজের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সতর্ক হওয়া দরকার।

গর্ভবতী মায়ের মর্যাদা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে চারবার- প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় ও চতুর্থবার উপরে স্থান দিয়েছেন। আর পঞ্চম বারে পিতার কথা বলা হয়েছে। আবার স্ত্রী দের প্রতি- পৃথিবীতে যদি কারো সিজদার বিধান থাকতো তাহলে সৃষ্টিকর্তার পর স্বামীকেই স্থান দেওয়া হতো। এভাবেই নারী-পুরুষ উভয়কে সৃষ্টিকর্তা সম্মানিত করেছেন। যে যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালনের কথা বা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শ্রেষ্ঠ ও শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে মেরাজের রাতে; তখন তিনি দেখতে পান নারীরা বেশি জাহান্নামী নারী গণ, দাও দাও করা জ্বলন্ত আগুনে জ্বলছে! কারণ জানতে চাইলে বর্ণনা করা হয়, তারা বেশি অকৃতজ্ঞ; স্বামীর নাফরমানী করে, কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না আর বলতে থাকে সারা জীবন কি করেছ আমার জন্য? এটা হয়নি- ওটা হয়নি অভিযোগের পাহাড়। নারী জাতির উদ্দেশ্যে বলি- আমি নিজেও একজন নারী, এমনটি কখনোই করা যাবে না আর। পবিত্র কোরআন শরীফ অনুযায়ী, “পুরুষরা নারীদের দায়িত্ব নেবে, তারা বাইরে কাজ করবে আর নারীরা ভেতরে কাজ করবে।” কিন্তু আজ- বর্তমানে স্বামী- স্ত্রী সন্তানেরা কেউ তার মর্যাদার জায়গাতে নেই বা অনেক অনেক দূরে।নারী স্বাধীনতার কথা এখানে টানছি না।

মায়ের মর্যাদা রাখতে আসুন যাদের মা বেঁচে আছেন তারা তৎপর হোন, এ পৃথিবীতেই দায়িত্ব-কর্তব্য ভালোবাসা দিয়ে জান্নাতের পথ সুদূর করুন ও উভয় জাহানে প্রাচুর্যময় হোন। আর যাদের সে সুযোগ নেই তারা দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে পিতা মাতার আত্মাকে শান্তিময় করে তুলি। হুজুর ডেকে, লোকজন নিয়ে মিলাদ পড়িয়ে কোরআন শরীফ খতম বা মিলাদ না দিয়ে বরং সন্তানেরাই দোয়া প্রার্থনা করতে থাকুন তাহলেই হবে প্রকৃত দায়িত্ব পালন। একথা অনেকেই জানেন না আর জেনেও অনেক মানেন না সামাজিক প্রথা অনুযায়ী।

পরিশেষে,জান্নাতের আটটি দরজার মধ্যে দু’টি দরজা পিতা মাতার নামে। “আম” ও “আব” নামে। সংগত কারণেই আসুন এখন থেকেই ব্যাপারটি যেন আমরা অনুধাবন করতে পারি। ইহকাল পরকাল, আখিরাত ও অনন্তকালের জীবনের পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাই। আল্লাহ সবাইকে আপনি হেদায়েত প্রাপ্ত করুন; মেনে চলার ও বোঝার তৌফিক দান করুন! আমীন।

আপডেট : ০৬:১৮:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ মার্চ ২০২২

বৃদ্ধ কাল-অসহায়ত্ব ও পিতা মাতার হক!

আপডেট : ০৬:১৮:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ মার্চ ২০২২
৪৩

রাশিদা-য়ে আশরার,কবি ও সাহিত্য সম্পাদক, দৈনিক পদ্মা সংবাদ।

দিনবদলের পালা- বিবর্তনের ধারায় বদলেছে দিন… সমাজ ও সভ্যতা! বদলেছে বাঙ্গালীদের জীবন যাপনের মান,উন্নয়নের ধারায় দেশ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ।

একবিংশ শতাব্দীতে এসে এদেশের মানুষ উন্নত বিশ্বের দ্বারপ্রান্তে… ভোগ করছে ডিজিটাল পদ্ধতি ও সুযোগ সুবিধা। বিশ্ব জুড়ে চলছে এখন বৈশ্বিক আন্দোলন, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও তথ্যপ্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের কল্যাণে গোটা বিশ্ব হাতের মুঠোয়। হাতের একটি ছোঁয়ায় বা স্পর্শে এক নিমিষেই পৌঁছে যাওয়া যায় ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন ধারার জীবন যাপনের পদ্ধতিতে। মানুষ সহজেই হচ্ছে জ্ঞানলব্ধ কিন্তু অধঃপতন ঘটছে মানবতা মনুষত্ব ও বিবেকবোধের! সেই সঙ্গে কমেছে মায়া- মমতার বন্ধন, শ্রদ্ধা, স্নেহ ও ভালোবাসা। যতই দিন যাচ্ছে মানুষ নিষ্ঠুর প্রকৃতির হয়ে উঠছে- স্বার্থ ছাড়া জীবন বেকার। মানুষ এতোটাই স্বার্থপর হয়ে পড়েছে যে, নিজের স্বার্থ বা লাভ ছাড়া কিছুই বোঝে না। লাভ- লোকসানের পাল্লায় সব সময় জীবন চলে না কারণ মানুষ সামাজিক জীব। মুখে যতই বড় বড় কথা বলুক আর অস্বীকার করুক না কেন, কোন না কোন ভাবেই একজন অপরের উপর নির্ভরশীল।

জন্মদাতা পিতা-মাতাকে পর্যন্ত মানুষ ভুলে যায়,
ভুলে যায় তাদের কষ্ট, ত্যাগ ও মায়া- মমতা স্নেহ ভালোবাসার কথা। ভুলে যায় বেমালুম তাঁদের যখন বয়সন্ধিকাল, অসহায়ত্ব ও বৃদ্ধকালে তাঁদের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্যের কথা! এমনকি অবশেষে তাঁদের একমাত্র আশ্রয় ওর ঠিকানা হয় বৃদ্ধাশ্রম! তবে একথা মনে রাখা প্রয়োজন, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত! সৃষ্টিকর্তা মায়ের মর্যাদা রেখেছেন সবার উপরে, কিন্তু পিতা তাই বলে কম মর্যাদার নয়-আলাদা করে দেখার কোন সুযোগ নেই।

পিতা-মাতা উভয়ের সুখে যেমন মঙ্গল তেমনি কষ্টতেও সন্তানের অমঙ্গল। তাঁদের দোওয়া তে যেমন বরকত বদ দোয়াতে তেমনি ক্ষতি। পিতা মাতা কখনো সন্তানের অমঙ্গল চায়না এবং বদ দোওয়া দেয় না তবে অনেক কুসন্তান রয়েছে যারা পশুর মত আচরণ করে। বৃদ্ধ বয়সে দেখভাল করে না, দায়িত্ব পালন ও হক আদায় করে না। পিতা-মাতার সঙ্গে এরকম আচরণ সৃষ্টিকর্তা সহ্য করেন না কাজেই তারা মুখ দিয়ে কিছু না বলেও অন্তরের কষ্ট এমন কি মায়ের একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস এবং চোখের পানিও সন্তানের জন্য ক্ষতিকর! সন্তান হিসেবে যদি কখনো অপরাধ হয়ে যায়ও সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করা আর পরবর্তীতে নিজের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সতর্ক হওয়া দরকার।

গর্ভবতী মায়ের মর্যাদা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে চারবার- প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় ও চতুর্থবার উপরে স্থান দিয়েছেন। আর পঞ্চম বারে পিতার কথা বলা হয়েছে। আবার স্ত্রী দের প্রতি- পৃথিবীতে যদি কারো সিজদার বিধান থাকতো তাহলে সৃষ্টিকর্তার পর স্বামীকেই স্থান দেওয়া হতো। এভাবেই নারী-পুরুষ উভয়কে সৃষ্টিকর্তা সম্মানিত করেছেন। যে যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালনের কথা বা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শ্রেষ্ঠ ও শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে মেরাজের রাতে; তখন তিনি দেখতে পান নারীরা বেশি জাহান্নামী নারী গণ, দাও দাও করা জ্বলন্ত আগুনে জ্বলছে! কারণ জানতে চাইলে বর্ণনা করা হয়, তারা বেশি অকৃতজ্ঞ; স্বামীর নাফরমানী করে, কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না আর বলতে থাকে সারা জীবন কি করেছ আমার জন্য? এটা হয়নি- ওটা হয়নি অভিযোগের পাহাড়। নারী জাতির উদ্দেশ্যে বলি- আমি নিজেও একজন নারী, এমনটি কখনোই করা যাবে না আর। পবিত্র কোরআন শরীফ অনুযায়ী, “পুরুষরা নারীদের দায়িত্ব নেবে, তারা বাইরে কাজ করবে আর নারীরা ভেতরে কাজ করবে।” কিন্তু আজ- বর্তমানে স্বামী- স্ত্রী সন্তানেরা কেউ তার মর্যাদার জায়গাতে নেই বা অনেক অনেক দূরে।নারী স্বাধীনতার কথা এখানে টানছি না।

মায়ের মর্যাদা রাখতে আসুন যাদের মা বেঁচে আছেন তারা তৎপর হোন, এ পৃথিবীতেই দায়িত্ব-কর্তব্য ভালোবাসা দিয়ে জান্নাতের পথ সুদূর করুন ও উভয় জাহানে প্রাচুর্যময় হোন। আর যাদের সে সুযোগ নেই তারা দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে পিতা মাতার আত্মাকে শান্তিময় করে তুলি। হুজুর ডেকে, লোকজন নিয়ে মিলাদ পড়িয়ে কোরআন শরীফ খতম বা মিলাদ না দিয়ে বরং সন্তানেরাই দোয়া প্রার্থনা করতে থাকুন তাহলেই হবে প্রকৃত দায়িত্ব পালন। একথা অনেকেই জানেন না আর জেনেও অনেক মানেন না সামাজিক প্রথা অনুযায়ী।

পরিশেষে,জান্নাতের আটটি দরজার মধ্যে দু’টি দরজা পিতা মাতার নামে। “আম” ও “আব” নামে। সংগত কারণেই আসুন এখন থেকেই ব্যাপারটি যেন আমরা অনুধাবন করতে পারি। ইহকাল পরকাল, আখিরাত ও অনন্তকালের জীবনের পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাই। আল্লাহ সবাইকে আপনি হেদায়েত প্রাপ্ত করুন; মেনে চলার ও বোঝার তৌফিক দান করুন! আমীন।