চুয়াডাঙ্গা ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুরে শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় ৭ জুন

Padma Sangbad
১৯

অনলাইন ডেস্ক।।

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এ মামলার রায় আগামী ৭ জুন ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেকীন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপক্ষ মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে টানা ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের মধ্যে নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং মা পারভীন আক্তারও ছিলেন।

তাদের জবানবন্দিতে ঘটনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও মর্মান্তিক তথ্য উঠে আসে, যা মামলার বিচার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৪ মে আদালত পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ১ জুন অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত রামিসা রাজধানীর পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। এক পর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল দেখতে পান তিনি।

ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।

ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়।

পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারের পর গত ২০ মে আদালতে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আপডেট : ০১:১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

মিরপুরে শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় ৭ জুন

আপডেট : ০১:১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
১৯

অনলাইন ডেস্ক।।

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এ মামলার রায় আগামী ৭ জুন ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেকীন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপক্ষ মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে টানা ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের মধ্যে নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং মা পারভীন আক্তারও ছিলেন।

তাদের জবানবন্দিতে ঘটনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও মর্মান্তিক তথ্য উঠে আসে, যা মামলার বিচার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৪ মে আদালত পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ১ জুন অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত রামিসা রাজধানীর পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। এক পর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল দেখতে পান তিনি।

ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।

ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়।

পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারের পর গত ২০ মে আদালতে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।