চুয়াডাঙ্গা ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমালোচনার মুখে ডাকসু থেকে সর্বমিত্রের পদত্যাগ

Padma Sangbad
৫৩

অনলাইন ডেস্ক।।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে আসায় প্রায় ৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত ডাকসুর সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

গত রবিবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব কোণায় প্রায় ৩০ জন কিশোর-তরুণ সারিবদ্ধভাবে কানে ধরে উঠবস করছে। তাদের বয়স আনুমানিক ১৩ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। তাদের সামনে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন সর্বমিত্র চাকমা। ঘটনাস্থলে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইসমাইল নাহিদ ফেসবুকে লেখেন- শিবির প্যানেল থেকে মনোনীত ডাকসুর সদস্য সর্বমিত্র চাকমা একদল শিশুকে ভয় দেখিয়ে কানে ধরে উঠবস করাচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সর্বমিত্র তার ফেসবুক পোস্টে কেন্দ্রীয় মাঠে চুরি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে এ ঘটনার যৌক্তিকতা দেখানোর চেষ্টা করেছেন। ইসমাইল নাহিদ আশঙ্কা প্রকাশ করে লেখেন- কোনো নির্দোষ ছেলের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ উঠলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে, যার সঙ্গে অতীতের সহিংস ঘটনার স্মৃতি তার মনে ভেসে উঠছে।

অন্যদিকে শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান মিশু ভিডিওটি শেয়ার করে লেখেন- শিবিরের গৃহপালিত ডাকসু সদস্য প্রক্টরের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিয়ে বাচ্চাদের কানে ধরে উঠবস করাচ্ছে। অপরাধ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে এসেছে। কোনো অপরাধ হলে তার বিচার করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের, কোনো ছাত্রনেতার নয়। তিনি এটিকে শিবিরের শাসনব্যবস্থার নমুনা বলে আখ্যা দেন।

সমালোচনার মুখে সর্বমিত্র চাকমা নিজের ফেসবুক পোস্টে ঘটনার ব্যাখ্যা দেন। তিনি লেখেন- ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর ইন্টার ডিপার্টমেন্ট ফুটবল টুর্নামেন্টের অনুশীলনের সময় সেন্ট্রাল ফিল্ডে সাইকেল রেখে প্র্যাকটিস করতে গিয়ে একটি সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি কম বয়সী ছেলে সাইকেলটি নিয়ে চলে যাচ্ছে। পরে শাহবাগ থানায় অভিযোগ জানানো হলেও জিডি নেওয়া হয়নি, শুধু লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। চুরি যাওয়া সাইকেলের মালিক ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফিজুর রহমান আবির। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় মাঠে নিয়মিত মোবাইল, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছে। বহিরাগতরা দেয়াল টপকে মাঠে প্রবেশ করে এবং বাধা দিলে স্টাফদের দিকে ঢিল ছুড়ে পালিয়ে যায়। প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন জানালেও নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা থেকেই ওই পদক্ষেপ নিতে তিনি বাধ্য হন বলে দাবি করেন।

এরপর সোমবার ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপ ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ-২’-তে এক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা ডাকসু থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ‘শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ এবং পদত্যাগের সিদ্ধান্ত’ শীর্ষক পোস্টে তিনি লেখেন- কেন্দ্রীয় মাঠটি শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য হলেও দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, মোবাইল, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির ঘটনাও ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পোস্টে প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে সর্বমিত্র বলেন, শিক্ষার্থীরা বারবার বিষয়টি জানালেও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা জোরদার বা বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই প্রশাসনিক ব্যর্থতার মধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।

নিজের আচরণ প্রসঙ্গে সর্বমিত্র চাকমা লেখেন- ‘কাউকে এভাবে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ একই সঙ্গে তিনি ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে তাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন, তা তিনি পূরণ করতে পারেননি। প্রশাসনের অসহযোগিতা ও ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

আপডেট : ০১:০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

সমালোচনার মুখে ডাকসু থেকে সর্বমিত্রের পদত্যাগ

আপডেট : ০১:০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
৫৩

অনলাইন ডেস্ক।।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে আসায় প্রায় ৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত ডাকসুর সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

গত রবিবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব কোণায় প্রায় ৩০ জন কিশোর-তরুণ সারিবদ্ধভাবে কানে ধরে উঠবস করছে। তাদের বয়স আনুমানিক ১৩ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। তাদের সামনে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন সর্বমিত্র চাকমা। ঘটনাস্থলে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইসমাইল নাহিদ ফেসবুকে লেখেন- শিবির প্যানেল থেকে মনোনীত ডাকসুর সদস্য সর্বমিত্র চাকমা একদল শিশুকে ভয় দেখিয়ে কানে ধরে উঠবস করাচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সর্বমিত্র তার ফেসবুক পোস্টে কেন্দ্রীয় মাঠে চুরি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে এ ঘটনার যৌক্তিকতা দেখানোর চেষ্টা করেছেন। ইসমাইল নাহিদ আশঙ্কা প্রকাশ করে লেখেন- কোনো নির্দোষ ছেলের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ উঠলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে, যার সঙ্গে অতীতের সহিংস ঘটনার স্মৃতি তার মনে ভেসে উঠছে।

অন্যদিকে শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান মিশু ভিডিওটি শেয়ার করে লেখেন- শিবিরের গৃহপালিত ডাকসু সদস্য প্রক্টরের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিয়ে বাচ্চাদের কানে ধরে উঠবস করাচ্ছে। অপরাধ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে এসেছে। কোনো অপরাধ হলে তার বিচার করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের, কোনো ছাত্রনেতার নয়। তিনি এটিকে শিবিরের শাসনব্যবস্থার নমুনা বলে আখ্যা দেন।

সমালোচনার মুখে সর্বমিত্র চাকমা নিজের ফেসবুক পোস্টে ঘটনার ব্যাখ্যা দেন। তিনি লেখেন- ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর ইন্টার ডিপার্টমেন্ট ফুটবল টুর্নামেন্টের অনুশীলনের সময় সেন্ট্রাল ফিল্ডে সাইকেল রেখে প্র্যাকটিস করতে গিয়ে একটি সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি কম বয়সী ছেলে সাইকেলটি নিয়ে চলে যাচ্ছে। পরে শাহবাগ থানায় অভিযোগ জানানো হলেও জিডি নেওয়া হয়নি, শুধু লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। চুরি যাওয়া সাইকেলের মালিক ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফিজুর রহমান আবির। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় মাঠে নিয়মিত মোবাইল, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছে। বহিরাগতরা দেয়াল টপকে মাঠে প্রবেশ করে এবং বাধা দিলে স্টাফদের দিকে ঢিল ছুড়ে পালিয়ে যায়। প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন জানালেও নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা থেকেই ওই পদক্ষেপ নিতে তিনি বাধ্য হন বলে দাবি করেন।

এরপর সোমবার ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপ ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ-২’-তে এক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা ডাকসু থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ‘শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ এবং পদত্যাগের সিদ্ধান্ত’ শীর্ষক পোস্টে তিনি লেখেন- কেন্দ্রীয় মাঠটি শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য হলেও দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, মোবাইল, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির ঘটনাও ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পোস্টে প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে সর্বমিত্র বলেন, শিক্ষার্থীরা বারবার বিষয়টি জানালেও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা জোরদার বা বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই প্রশাসনিক ব্যর্থতার মধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।

নিজের আচরণ প্রসঙ্গে সর্বমিত্র চাকমা লেখেন- ‘কাউকে এভাবে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ একই সঙ্গে তিনি ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে তাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন, তা তিনি পূরণ করতে পারেননি। প্রশাসনের অসহযোগিতা ও ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।