চুয়াডাঙ্গা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হত্যার পরের দিন অপ্রতিমের মাকে সান্ত্বনাও দেয় খুনিরা: পুলিশ

Padma Sangbad

অনলাইন ডেস্ক।।
আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশে নির্জন পাহাড়ি জঙ্গলে ডেকে নিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে পিটিয়ে হত্যা করা হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সী সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমকে। মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে নিহত অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।

নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। অপ্রতীম স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো।

গ্রেপ্তার চারজন হলো—কুমিল্লা সিটির ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), কোতোয়ালি থানার হাতিগাড়া এলাকার মো. কামরুল হাসান এবং আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মো. সিয়াম (১৯)।

আইফোনের লোভেই এই হত্যাকাণ্ড

পুলিশের দেওয়া তথ্য ও ডিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর অপ্রতীমকে কুমিল্লা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মূল ফটকের সামনে দেখা যায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারে চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে অপ্রতীমকে এক ঘণ্টার কথা বলে ডেকে নেয় তার পরিচিত বড়ো ভাই তুহিন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিকেল তিনটা ১৫ মিনিটে তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে দিয়ে হেঁটে সানন্দা এলাকার দিকে যায়। পরবর্তী সময়ে অন্য একটি পথে ফাহাদ ও কামরুলও সানন্দার নির্জন জঙ্গলের দিকে যায়।

বিকেল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে সানন্দার চারপাশ পাহাড়ঘেরা নির্জন বনের ভেতরে অপ্রতীমের কাছে থাকা মায়ের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তুহিন। অপ্রতীম এতে বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় অতর্কিত আঘাত করে। লাঠির আঘাতে অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা আইফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

হত্যাকাণ্ডের পর বাসায় গিয়ে সান্ত্বনা

হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পর ঘাতকেরা অত্যন্ত নির্ভার থাকে। শনিবার সকাল আটটার দিকে তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামের কয়েকজন অপ্রতীমের বাসায় গিয়ে তার ক্রন্দনরত মা ড. নাহিদা বেগমকে সান্ত্বনা পর্যন্ত দেয়। সেখান থেকে ফিরে তুহিন নিজ বাসায় স্বাভাবিক সময় কাটাতে থাকে। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিকেলেই তুহিনকে আটক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করে। তুহিনের দেখানো স্থান থেকেই নিহত অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিখোঁজের পর পাহাড়ঘেরা জঙ্গলে মরদেহ

এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে বাসা থেকে আইফোন নিয়ে বের হওয়ার পর অপ্রতীম আর ফিরে আসেনি। স্বজনেরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজে না পেয়ে রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর শনিবার দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই-তিন কিলোমিটার দক্ষিণে সালমানপুর এলাকার জঙ্গলঘেরা পাহাড়ে স্থানীয় লোক ও শিক্ষার্থীরা অপ্রতীমের মরদেহ দেখতে পান। লাশ উদ্ধারের সময় পাশে একটি শিয়াল ঘুরছিল, যা শিক্ষার্থীরা তাড়িয়ে দেন। পরে পুলিশ এসে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যার কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া ও কান্না

এদিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা ড. নাহিদা বেগম ও বাবা ফিরোজ শাহরিয়ারের আহাজারিতে কান্নার রোল পড়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। বারবার মূর্ছা গিয়ে মা ড. নাহিদা বেগম বলছিলেন, ‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছিল? আমাকে জবাব দেন, আমি কেমনে জীবন পার করবো? এটা কোনো দেশ, একটা ছেলে ঘর থেকে বের হলে তাকে মেরে ফেলতে হবে?’

রোববার সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে অপ্রতীমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে কোটবাড়ী গন্ধমতি এলাকায় নিজ বাড়ির পাশের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও শ্রদ্ধায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সাধারণ শোক দিবস পালন করা হচ্ছে, স্থগিত রাখা হয়েছে সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও নিহতের বাসায় গিয়ে নিহতের স্বজনদের সমবেদনা জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ও কুবি প্রশাসন। এমপি মনিরুল হক চৌধুরী ৯০ দিনের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান।

একইদিন ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অপ্রতীম হত্যার বিচারও রামিসা হত্যা মামলার মতো দ্রুত করা হবে।

এদিকে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, জিডির ভিত্তিতে তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিবির টানা জিজ্ঞাসাবাদে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই যে অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়েছে তা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

আপডেট : ১০:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হত্যার পরের দিন অপ্রতিমের মাকে সান্ত্বনাও দেয় খুনিরা: পুলিশ

আপডেট : ১০:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক।।
আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশে নির্জন পাহাড়ি জঙ্গলে ডেকে নিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে পিটিয়ে হত্যা করা হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সী সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমকে। মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে নিহত অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।

নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। অপ্রতীম স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো।

গ্রেপ্তার চারজন হলো—কুমিল্লা সিটির ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), কোতোয়ালি থানার হাতিগাড়া এলাকার মো. কামরুল হাসান এবং আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মো. সিয়াম (১৯)।

আইফোনের লোভেই এই হত্যাকাণ্ড

পুলিশের দেওয়া তথ্য ও ডিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর অপ্রতীমকে কুমিল্লা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মূল ফটকের সামনে দেখা যায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারে চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে অপ্রতীমকে এক ঘণ্টার কথা বলে ডেকে নেয় তার পরিচিত বড়ো ভাই তুহিন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিকেল তিনটা ১৫ মিনিটে তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে দিয়ে হেঁটে সানন্দা এলাকার দিকে যায়। পরবর্তী সময়ে অন্য একটি পথে ফাহাদ ও কামরুলও সানন্দার নির্জন জঙ্গলের দিকে যায়।

বিকেল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে সানন্দার চারপাশ পাহাড়ঘেরা নির্জন বনের ভেতরে অপ্রতীমের কাছে থাকা মায়ের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তুহিন। অপ্রতীম এতে বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় অতর্কিত আঘাত করে। লাঠির আঘাতে অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা আইফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

হত্যাকাণ্ডের পর বাসায় গিয়ে সান্ত্বনা

হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পর ঘাতকেরা অত্যন্ত নির্ভার থাকে। শনিবার সকাল আটটার দিকে তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামের কয়েকজন অপ্রতীমের বাসায় গিয়ে তার ক্রন্দনরত মা ড. নাহিদা বেগমকে সান্ত্বনা পর্যন্ত দেয়। সেখান থেকে ফিরে তুহিন নিজ বাসায় স্বাভাবিক সময় কাটাতে থাকে। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিকেলেই তুহিনকে আটক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করে। তুহিনের দেখানো স্থান থেকেই নিহত অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিখোঁজের পর পাহাড়ঘেরা জঙ্গলে মরদেহ

এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে বাসা থেকে আইফোন নিয়ে বের হওয়ার পর অপ্রতীম আর ফিরে আসেনি। স্বজনেরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজে না পেয়ে রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর শনিবার দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই-তিন কিলোমিটার দক্ষিণে সালমানপুর এলাকার জঙ্গলঘেরা পাহাড়ে স্থানীয় লোক ও শিক্ষার্থীরা অপ্রতীমের মরদেহ দেখতে পান। লাশ উদ্ধারের সময় পাশে একটি শিয়াল ঘুরছিল, যা শিক্ষার্থীরা তাড়িয়ে দেন। পরে পুলিশ এসে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যার কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া ও কান্না

এদিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা ড. নাহিদা বেগম ও বাবা ফিরোজ শাহরিয়ারের আহাজারিতে কান্নার রোল পড়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। বারবার মূর্ছা গিয়ে মা ড. নাহিদা বেগম বলছিলেন, ‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছিল? আমাকে জবাব দেন, আমি কেমনে জীবন পার করবো? এটা কোনো দেশ, একটা ছেলে ঘর থেকে বের হলে তাকে মেরে ফেলতে হবে?’

রোববার সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে অপ্রতীমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে কোটবাড়ী গন্ধমতি এলাকায় নিজ বাড়ির পাশের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও শ্রদ্ধায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সাধারণ শোক দিবস পালন করা হচ্ছে, স্থগিত রাখা হয়েছে সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও নিহতের বাসায় গিয়ে নিহতের স্বজনদের সমবেদনা জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ও কুবি প্রশাসন। এমপি মনিরুল হক চৌধুরী ৯০ দিনের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান।

একইদিন ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অপ্রতীম হত্যার বিচারও রামিসা হত্যা মামলার মতো দ্রুত করা হবে।

এদিকে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, জিডির ভিত্তিতে তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিবির টানা জিজ্ঞাসাবাদে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই যে অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়েছে তা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।