চুয়াডাঙ্গা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

’৭৩-এর অধ্যাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে

Padma Sangbad
৪৭

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল (সি আর) আবরার। তিনি বলেন, এই অধ্যাদেশ বহুক্ষেত্রে শিক্ষার পরিবেশকে কলুষিত করেছে। শনিবার (২ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ‘অভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশে কেমন বিশ্ববিদ্যালয় পেলাম?’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, স্বায়ত্তশাসনের নামে অনেক শিক্ষক সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছেন। যার ফলে জাতীয় রাজনীতির পঙ্কিল ধারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঢুকে পড়েছে—এটা অজানা নয়।

তিনি আরও বলেন, রাতারাতি কোনো সরকারের পক্ষেই ’৭৩-এর অধ্যাদেশ বাতিল করা সম্ভব নয়। এটি একটি কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়, যা ভেতর থেকে পরিবর্তন আনতে হবে। এজন্য দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ নিয়ে দাবির সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন।

কুয়েটের চলমান অচলাবস্থার প্রসঙ্গে সি আর আবরার বলেন, সেখানে শিক্ষক সমিতির নেতারাই প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকেছেন। এতে দ্বৈত ভূমিকা তৈরি হয়েছে এবং সেই ফাঁকফোকরে সবচেয়ে বেশি ভুগেছে শিক্ষার্থীরা।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকার কুয়েটের ঘটনায় নির্লিপ্ত ছিল, এমন বলা সঠিক নয়। দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে—একটি ইউজিসির অধীনে, আরেকটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। ইউজিসি তদন্ত করেছে আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম, মন্ত্রণালয়ের কমিটি বিশ্লেষণ করেছে ঘটনার পেছনের দায়ী ব্যক্তিদের ও শিক্ষার্থীদের দাবি।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আগে উপাচার্য নিয়োগে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো। এখন একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে ইউজিসি প্রতিনিধি, একজন বিশেষজ্ঞ এবং এক ভাইস চ্যান্সেলর থাকেন। এটি একটি গঠনগত অগ্রগতি। এই কাঠামোর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ কমে এসেছে।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের অভ্যুত্থান শিক্ষা খাতে নতুন কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। বর্তমান কাঠামোগত সংকটগুলো নতুনভাবে ভাবা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আরও উন্নত, স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীবান্ধব হতে পারে।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক তানজিমউদ্দীন খান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ।

এছাড়া, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতা তুলে ধরেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শুসমিন আফসানা, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষক কাজী ফরিদ এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অভিনু কিবরিয়া এ বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।

আপডেট : ০১:৪৩:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

’৭৩-এর অধ্যাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে

আপডেট : ০১:৪৩:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
৪৭

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল (সি আর) আবরার। তিনি বলেন, এই অধ্যাদেশ বহুক্ষেত্রে শিক্ষার পরিবেশকে কলুষিত করেছে। শনিবার (২ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ‘অভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশে কেমন বিশ্ববিদ্যালয় পেলাম?’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, স্বায়ত্তশাসনের নামে অনেক শিক্ষক সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছেন। যার ফলে জাতীয় রাজনীতির পঙ্কিল ধারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঢুকে পড়েছে—এটা অজানা নয়।

তিনি আরও বলেন, রাতারাতি কোনো সরকারের পক্ষেই ’৭৩-এর অধ্যাদেশ বাতিল করা সম্ভব নয়। এটি একটি কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়, যা ভেতর থেকে পরিবর্তন আনতে হবে। এজন্য দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ নিয়ে দাবির সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন।

কুয়েটের চলমান অচলাবস্থার প্রসঙ্গে সি আর আবরার বলেন, সেখানে শিক্ষক সমিতির নেতারাই প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকেছেন। এতে দ্বৈত ভূমিকা তৈরি হয়েছে এবং সেই ফাঁকফোকরে সবচেয়ে বেশি ভুগেছে শিক্ষার্থীরা।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকার কুয়েটের ঘটনায় নির্লিপ্ত ছিল, এমন বলা সঠিক নয়। দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে—একটি ইউজিসির অধীনে, আরেকটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। ইউজিসি তদন্ত করেছে আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম, মন্ত্রণালয়ের কমিটি বিশ্লেষণ করেছে ঘটনার পেছনের দায়ী ব্যক্তিদের ও শিক্ষার্থীদের দাবি।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আগে উপাচার্য নিয়োগে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো। এখন একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে ইউজিসি প্রতিনিধি, একজন বিশেষজ্ঞ এবং এক ভাইস চ্যান্সেলর থাকেন। এটি একটি গঠনগত অগ্রগতি। এই কাঠামোর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ কমে এসেছে।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের অভ্যুত্থান শিক্ষা খাতে নতুন কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। বর্তমান কাঠামোগত সংকটগুলো নতুনভাবে ভাবা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আরও উন্নত, স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীবান্ধব হতে পারে।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক তানজিমউদ্দীন খান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ।

এছাড়া, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতা তুলে ধরেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শুসমিন আফসানা, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষক কাজী ফরিদ এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অভিনু কিবরিয়া এ বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।