চুয়াডাঙ্গা ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে শীর্ষে মেসি

Padma Sangbad
১৫

স্পোর্টস ডেস্ক।।
২০২৬ বিশ্বকাপে চোখধাঁধানো গোল, অবিশ্বাস্য অঘটন আর রোমাঞ্চকর ম্যাচের অভাব ছিল না। তবে পুরো আসরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিগত লড়াই হয়ে উঠেছে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সেরা গোলদাতার পুরস্কারের প্রতিযোগিতা।

এবার সেই লড়াইয়ে নতুন মোড় এসেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ২-১ গোলে জয় পাওয়া ম্যাচে গোল করতে পারেননি মেসি। তবুও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবচেয়ে বড় লাভ হয়েছে তারই।

ম্যাচে দুটি অসাধারণ গোলের সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের নায়ক হন তিনি। ৩৯ বছর ২১ দিন বয়সে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলা সবচেয়ে বয়স্ক মাঠের খেলোয়াড়ের রেকর্ডও গড়েন মেসি।

৮৫তম মিনিটে এনসো ফের্নান্দেসের সমতাসূচক গোল এবং যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেসের জয়সূচক গোল—দুটিই এসেছে মেসির নিখুঁত পাস থেকে। এই জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

গোল না করেও এই দুই সহায়তার সুবাদে আবারও গোল্ডেন বুটের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন মেসি। তার গোলসংখ্যা এখনো আটটিতেই রয়েছে।

মেসি ও এমবাপ্পে দুজনেরই গোল আটটি করে। তবে সমান গোল হলে প্রথমে বিবেচনায় আসে কতটি গোলে সহায়তা করেছেন, সেই হিসাব। আর সেখানেই এগিয়ে আছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

পুরো বিশ্বকাপজুড়েই এই দুই তারকার লড়াই ছিল দারুণ উপভোগ্য। এক ম্যাচে মেসি এগিয়ে গেছেন, পরের ম্যাচেই জবাব দিয়েছেন এমবাপ্পে। তাদের এই দ্বৈরথ টুর্নামেন্টে বাড়তি রোমাঞ্চ যোগ করেছে।

এখন আর মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি। ফলে লড়াইও পৌঁছে গেছে শেষ অধ্যায়ে।

রোববারের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামবেন মেসি। সেখানে গোল কিংবা সহায়তার সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে তার সামনে। অন্যদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে ফ্রান্স। সেখানে এমবাপ্পেও জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াই এখনো পুরোপুরি খোলা। যদি শেষ পর্যন্ত গোল ও সহায়তা—দুই দিক থেকেই সমতা থাকে, তাহলে পুরস্কার নির্ধারণ হবে মাঠে খেলা মোট সময়ের ভিত্তিতে। সেই ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন এমবাপ্পে। তিনি খেলেছেন ৬৬৬ মিনিট, আর মেসি খেলেছেন ৭১২ মিনিট। তাই গোল ও সহায়তায় সমতা থাকলে কম সময় খেলায় এগিয়ে থাকায় সোনার জুতা জিতবেন ফরাসি তারকা।

তবে পরিসংখ্যান দিয়ে মেসির প্রভাব পুরোপুরি বোঝানো যায় না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি যেন একজন সুরকারের মতো পুরো আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ পরিচালনা করেছেন। তার নিখুঁত পাসে এসেছে সমতাসূচক গোল, আর অসাধারণ ক্রসে হয়েছে জয়সূচক গোল। এই দুই সহায়তায় ফুটে উঠেছে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সেই চিরচেনা দৃষ্টি, সৃজনশীলতা ও অসাধারণ দক্ষতা।

অন্যদিকে এমবাপ্পেও এমন লড়াইয়ের সঙ্গে পরিচিত। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে সেরা গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। এবারও আরেকটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাঁকে সেই সম্মান আবার এনে দিতে পারে।

প্রায় এক মাসের বিশ্বকাপ শেষে এসেও মেসি ও এমবাপ্পের এই দ্বৈরথ ঠিক ততটাই রোমাঞ্চকর, যতটা বিশ্বকাপের শিরোপার লড়াই।

আপডেট : ১২:৪৬:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে শীর্ষে মেসি

আপডেট : ১২:৪৬:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
১৫

স্পোর্টস ডেস্ক।।
২০২৬ বিশ্বকাপে চোখধাঁধানো গোল, অবিশ্বাস্য অঘটন আর রোমাঞ্চকর ম্যাচের অভাব ছিল না। তবে পুরো আসরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিগত লড়াই হয়ে উঠেছে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সেরা গোলদাতার পুরস্কারের প্রতিযোগিতা।

এবার সেই লড়াইয়ে নতুন মোড় এসেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ২-১ গোলে জয় পাওয়া ম্যাচে গোল করতে পারেননি মেসি। তবুও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবচেয়ে বড় লাভ হয়েছে তারই।

ম্যাচে দুটি অসাধারণ গোলের সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের নায়ক হন তিনি। ৩৯ বছর ২১ দিন বয়সে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলা সবচেয়ে বয়স্ক মাঠের খেলোয়াড়ের রেকর্ডও গড়েন মেসি।

৮৫তম মিনিটে এনসো ফের্নান্দেসের সমতাসূচক গোল এবং যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেসের জয়সূচক গোল—দুটিই এসেছে মেসির নিখুঁত পাস থেকে। এই জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

গোল না করেও এই দুই সহায়তার সুবাদে আবারও গোল্ডেন বুটের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন মেসি। তার গোলসংখ্যা এখনো আটটিতেই রয়েছে।

মেসি ও এমবাপ্পে দুজনেরই গোল আটটি করে। তবে সমান গোল হলে প্রথমে বিবেচনায় আসে কতটি গোলে সহায়তা করেছেন, সেই হিসাব। আর সেখানেই এগিয়ে আছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

পুরো বিশ্বকাপজুড়েই এই দুই তারকার লড়াই ছিল দারুণ উপভোগ্য। এক ম্যাচে মেসি এগিয়ে গেছেন, পরের ম্যাচেই জবাব দিয়েছেন এমবাপ্পে। তাদের এই দ্বৈরথ টুর্নামেন্টে বাড়তি রোমাঞ্চ যোগ করেছে।

এখন আর মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি। ফলে লড়াইও পৌঁছে গেছে শেষ অধ্যায়ে।

রোববারের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামবেন মেসি। সেখানে গোল কিংবা সহায়তার সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে তার সামনে। অন্যদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে ফ্রান্স। সেখানে এমবাপ্পেও জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াই এখনো পুরোপুরি খোলা। যদি শেষ পর্যন্ত গোল ও সহায়তা—দুই দিক থেকেই সমতা থাকে, তাহলে পুরস্কার নির্ধারণ হবে মাঠে খেলা মোট সময়ের ভিত্তিতে। সেই ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন এমবাপ্পে। তিনি খেলেছেন ৬৬৬ মিনিট, আর মেসি খেলেছেন ৭১২ মিনিট। তাই গোল ও সহায়তায় সমতা থাকলে কম সময় খেলায় এগিয়ে থাকায় সোনার জুতা জিতবেন ফরাসি তারকা।

তবে পরিসংখ্যান দিয়ে মেসির প্রভাব পুরোপুরি বোঝানো যায় না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি যেন একজন সুরকারের মতো পুরো আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ পরিচালনা করেছেন। তার নিখুঁত পাসে এসেছে সমতাসূচক গোল, আর অসাধারণ ক্রসে হয়েছে জয়সূচক গোল। এই দুই সহায়তায় ফুটে উঠেছে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সেই চিরচেনা দৃষ্টি, সৃজনশীলতা ও অসাধারণ দক্ষতা।

অন্যদিকে এমবাপ্পেও এমন লড়াইয়ের সঙ্গে পরিচিত। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে সেরা গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। এবারও আরেকটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাঁকে সেই সম্মান আবার এনে দিতে পারে।

প্রায় এক মাসের বিশ্বকাপ শেষে এসেও মেসি ও এমবাপ্পের এই দ্বৈরথ ঠিক ততটাই রোমাঞ্চকর, যতটা বিশ্বকাপের শিরোপার লড়াই।