কেরুর জৈব সার কারখানা ও কৃষি খামার পরিদর্শন; বৃক্ষরোপণ ও আখচাষে গুরুত্ব চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সুরুজের
দর্শনায় বিএসএফআইসির বাণিজ্যিক অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি নিয়ে কর্মশালা
মোঃ আব্দুর রহমান অনিক।।
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) উদ্যোগে বাণিজ্যিক অডিট আপত্তি ও তা নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে দর্শনার আকন্দবাড়ীয়া জৈব সার কারখানা ও ডিহি কৃষি খামার পরিদর্শন করেন বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান মো. শামসুজ্জামান (সুরুজ)। এ সময় কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্সে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাব্বিক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান মো. শামসুজ্জামান (সুরুজ)। বিশেষ অতিথি ছিলেন করপোরেশনের সচিব মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান
,কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফআইসির পরিচালক (বাণিজ্যিক) ও পরিচালক (অর্থ)-এর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা আজহারুল ইসলাম, বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুহাম্মদ খাদেমুল বাশার, খুলনার উপপরিচালক নাসিফ কবির, বিএসএফআইসির হিসাব নিয়ন্ত্রক মো. শফিকুল ইসলাম ও প্রধান নিরীক্ষক জীবন্নাহারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কর্মশালায় বাণিজ্যিক অডিট আপত্তির ধরন, আপত্তি নিষ্পত্তির পদ্ধতি, কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও দ্রুত নিষ্পত্তির করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কর্মশালা শেষে চেয়ারম্যান আকন্দবাড়ীয়া জৈব সার কারখানা পরিদর্শন করেন। এরপর দর্শনা-হিজলগাড়িতে ইক্ষু পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানির পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এ সময় ইক্ষু পরিদর্শনকালে বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান মো. শামসুজ্জামান (সুরুজ) বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অনুপযোগী জমি আখচাষ ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কাজে লাগিয়ে আমরা এ কর্মসূচির অংশীদার হচ্ছি।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বেশি কৃষি বাগান গড়ে তোলা হবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণ করে সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
চেয়ারম্যান বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর আখচাষিদের প্রণোদনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৩ সালে আখচাষিদের জন্য এক কোটি টাকা প্রণোদনা চালু করেছিলেন। পরবর্তীতে তা পর্যায়ক্রমে বেড়ে ৬ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।
তিনি আরও বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিনি শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া এবং আখচাষিদের উৎসাহিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রণোদনার পরিমাণ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ কোটি টাকা করেছেন। আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যে ৩৮ হাজার ৯০০ কৃষকের কাছে এই প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।
চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের চিনি শিল্পকে তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে দিতে এবং শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ চলছে। মিলের চাকা সচল রাখা, উৎপাদন বাড়ানো ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান বলেন, চিনি শিল্পের ট্রেড গ্যাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ চলছে। এ সমস্যা সমাধান করা গেলে চিনি শিল্পের বড় একটি অংশের সংকট দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দায়িত্ব দিয়ে বলেছেন, মিলের চাকা ঘোরাতে হবে, উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে আমরা কাজ করছি। বেশি বেশি আখচাষ করে দেশের চিনি শিল্পকে শক্তিশালী করতে হবে।

আখচাষিদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে চলতি অর্থবছরে প্রতি কুইন্টাল আখের মূল্য ২৬ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, মোবারকগঞ্জ চিনিকলে ইতোমধ্যে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আখের মূল্য পরিশোধ করা হচ্ছে। এ বছর কেরু চিনিকলের আখচাষিদেরও আংশিক পাওনা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সার্ভার ডেভেলপমেন্টের কাজ চলছে। আগামী অর্থবছরে প্রতিটি চিনিকলের আখচাষিদের পাওনা অর্থ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরে বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান দর্শনার ডিহি কৃষি খামার পরিদর্শন করেন। এ সময় কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ও বিএসএফআইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।।
















