চুয়াডাঙ্গা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বারবার মৃত্যুর ছায়া এই ক্লিনিকে — এবার প্রাণ গেল তরুণ মায়ের

দর্শনায় মুক্তি ক্লিনিকে সিজারের প্রস্তুতিকালে প্রসূতির মৃত্যু, স্বজনদের অপচিকিৎসার অভিযোগ

Padma Sangbad
১৭

মোঃ আব্দুর রহমান অনিক।।

দর্শনার মুক্তি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রস্তুতিকালে রেহানা খাতুন (২৫) নামে এক তরুণ প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃতের স্বজনরা অপচিকিৎসার অভিযোগ তুলেছেন, যদিও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও এই ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

মৃত রেহানা খাতুন দর্শনা পৌরসভার শ্যামপুর গ্রামের ইসরাফিল হোসেনের মেয়ে এবং কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের আরামডাঙ্গা গ্রামের নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী।

স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার (২ আগস্ট) সকাল থেকে প্রসব বেদনা শুরু হলে বেলা ১১টার দিকে রেহানাকে দর্শনা রেলগেট এলাকার মুক্তি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সিজারিয়ান অপারেশনের প্রস্তুতির জন্য তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।

প্রসূতির খালাতো ভাই মো. জাহিদ হোসেন অভিযোগ করেন, অপারেশনের আগে অজ্ঞান করার জন্য কয়েকটি ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তীব্র খিচুনি শুরু হয়। অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নিজেরাই গাড়ি ভাড়া করে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা জানান রোগী আগেই মারা গেছেন। তার দাবি, সঠিক চিকিৎসা পেলে রেহানাকে বাঁচানো সম্ভব হতো।

তবে ক্লিনিকের এনেস্থিসিওলজিস্ট মো. মমিন হোসেন দাবি করেন, অপারেশন শুরুর আগেই রোগীর খিচুনি ওঠে এবং আতঙ্কের কারণেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে। একইভাবে ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. সিমু জানান, অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পরপরই রোগী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখনও অপারেশন শুরু হয়নি এবং রোগীর শরীরে কোনো অস্ত্রোপচার বা স্পর্শ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তবে স্বজন ও স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন — অপারেশনের আগে স্বাভাবিক অবস্থায় আসা একজন রোগী ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই কেন এভাবে মারাত্মক অবস্থায় পড়লেন? আর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নিজেরাই যদি সুচিকিৎসা দিতে পারতেন, তাহলে কেন তারা রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দিলেন?

মৃতের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ক্লিনিকটির চিকিৎসা কার্যক্রমের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আপডেট : ১২:৫০:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বারবার মৃত্যুর ছায়া এই ক্লিনিকে — এবার প্রাণ গেল তরুণ মায়ের

দর্শনায় মুক্তি ক্লিনিকে সিজারের প্রস্তুতিকালে প্রসূতির মৃত্যু, স্বজনদের অপচিকিৎসার অভিযোগ

আপডেট : ১২:৫০:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
১৭

মোঃ আব্দুর রহমান অনিক।।

দর্শনার মুক্তি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রস্তুতিকালে রেহানা খাতুন (২৫) নামে এক তরুণ প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃতের স্বজনরা অপচিকিৎসার অভিযোগ তুলেছেন, যদিও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও এই ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

মৃত রেহানা খাতুন দর্শনা পৌরসভার শ্যামপুর গ্রামের ইসরাফিল হোসেনের মেয়ে এবং কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের আরামডাঙ্গা গ্রামের নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী।

স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার (২ আগস্ট) সকাল থেকে প্রসব বেদনা শুরু হলে বেলা ১১টার দিকে রেহানাকে দর্শনা রেলগেট এলাকার মুক্তি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সিজারিয়ান অপারেশনের প্রস্তুতির জন্য তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।

প্রসূতির খালাতো ভাই মো. জাহিদ হোসেন অভিযোগ করেন, অপারেশনের আগে অজ্ঞান করার জন্য কয়েকটি ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তীব্র খিচুনি শুরু হয়। অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নিজেরাই গাড়ি ভাড়া করে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা জানান রোগী আগেই মারা গেছেন। তার দাবি, সঠিক চিকিৎসা পেলে রেহানাকে বাঁচানো সম্ভব হতো।

তবে ক্লিনিকের এনেস্থিসিওলজিস্ট মো. মমিন হোসেন দাবি করেন, অপারেশন শুরুর আগেই রোগীর খিচুনি ওঠে এবং আতঙ্কের কারণেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে। একইভাবে ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. সিমু জানান, অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পরপরই রোগী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখনও অপারেশন শুরু হয়নি এবং রোগীর শরীরে কোনো অস্ত্রোপচার বা স্পর্শ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তবে স্বজন ও স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন — অপারেশনের আগে স্বাভাবিক অবস্থায় আসা একজন রোগী ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই কেন এভাবে মারাত্মক অবস্থায় পড়লেন? আর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নিজেরাই যদি সুচিকিৎসা দিতে পারতেন, তাহলে কেন তারা রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দিলেন?

মৃতের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ক্লিনিকটির চিকিৎসা কার্যক্রমের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।