যশোরে পেরেক আল আমিন হত্যা মামলায় ‘ব্ল্যাক আলামিন’ আটক

যশোর সংবাদদাতা।।
যশোরে আলোচিত আল আমিন হোসেন ওরফে ‘পেরেক আল আমিন’ হত্যা মামলায় আলামিন ওরফে ‘ব্ল্যাক আলামিন’ নামে এক যুবককে আটক করেছে র্যাব-৬ যশোরের সদস্যরা। শুক্রবার রাতে শহরের মনিহার এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শনিবার আলামিনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আটক আলামিন যশোর শহরের সিটি কলেজপাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নিহত আল আমিনের মা, শহরের বারান্দী মাঠপাড়ার মৃত আক্কাস আলীর স্ত্রী আয়শা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আল আমিন হোসেন পেশায় স্বর্ণের কারিগর ছিলেন। যশোর শহরের চৌরাস্তা মোড়ের স্বর্ণপট্টিতে তার একটি দোকান রয়েছে। প্রতিদিনের মতো গত ২০ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বাসা থেকে দোকানের উদ্দেশ্যে বের হন। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দোকানে অবস্থানকালে তার মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। তাকে জানানো হয়, এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। এরপর তিনি দোকান থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার মা জানতে পারেন, কে বা কারা আল আমিনকে হত্যা করে বারান্দীপাড়া লিচুতলা এলাকায় ফেলে রেখে গেছে। খবর পেয়ে আয়শা বেগম লিচুতলা মাদরাসার পেছনে বাবুর মেহগনি বাগানে গিয়ে ছেলের মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান জানান, নিহত আল আমিনের সঙ্গে আটক আলামিনের পূর্বশত্রুতা ছিল। ঘটনার কিছু সময় আগে ‘ব্ল্যাক আলামিন’ নিজে পেরেক আল আমিনকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টি উঠে এসেছে।
তিনি আরও জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে পেরেক আল আমিনকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আটক আলামিনকে রিমান্ডে নেওয়া হলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।





















