দিল্লি-তেহরান বন্ধুত্বে জোর, নজরে চাবাহার ব্রিকস সম্মেলনের আগে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহী ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান। আগামী ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস রাষ্ট্রনেতাদের সম্মেলনের আগে তেহরানের পক্ষ থেকে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত-ইরান সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র চাবাহার বন্দর নিয়েও নতুন করে জোর দিয়েছে ইরান।
সোমবার ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘেই বলেন, ভারতের সঙ্গে ইরানের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের এবং এই সম্পর্কের শিকড় ইতিহাস ও দুই দেশের সমাজব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর কথায়, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে তেহরান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং সময়ের সঙ্গে এই সম্পর্ক আরও উন্নত হচ্ছে।
সম্প্রতি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকেও সম্পর্কের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট কিরগিজ়স্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজ়েশন (এসসিও) সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর এটিই ছিল দুই নেতার প্রথম মুখোমুখি বৈঠক।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত একই সঙ্গে এসসিও ও ব্রিকসের সদস্য এবং তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারদের অন্যতম। ফলে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনকে ভারত-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে তেহরান।
চাবাহার বন্দরে বিশেষ গুরুত্ব
ভারত-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে চাবাহার বন্দরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান। দুই দেশের বৈঠকে সাধারণত বন্দরটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও এর মাধ্যমে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় আসে বলে জানিয়েছে ইরান।
ভারতের জন্য চাবাহার বন্দর গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার অংশ হিসেবে ভারত ও ইরান বন্দরটির উন্নয়ন ও পরিচালনায় কাজ করে আসছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে চাবাহারের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে শেষ কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছিল এবং মূল চুক্তি অনুযায়ী ভারতের ১২ কোটি মার্কিন ডলারের আর্থিক দায় ইতিমধ্যেই পূরণ হয়েছে।
এর মধ্যেই ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসন চারটি ভারতীয় সংস্থার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত-ইরান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও কূটনৈতিক মহলে নজর রয়েছে।
সব মিলিয়ে, আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনের আগে চাবাহারসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা আরও এগিয়ে নিতে চাইছে তেহরান। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্ভাব্য বৈঠক সেই সম্পর্ককে নতুন গতি দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।


















