চুয়াডাঙ্গা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু, লাশ নিয়ে বন্দর থানায় বিক্ষোভ

Padma Sangbad
১২৪

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক ।।

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত জোবায়ের (১৮) নামে এক যুবকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নিহতের লাশ নিয়ে বন্দর থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক উপপরিদর্শককে (এসআই) থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত রোববার রাতে জোবায়েরের লাশ বন্দরে পৌঁছালে এলাকাবাসী তা নিয়ে থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এর আগে একই দিন ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত জোবায়ের পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি বন্দরের এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। পাশাপাশি অটোরিকশাও চালাতেন।

পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বুধবার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এনায়েতনগরের ভাঙা ব্রিজের উত্তর পাশের ঢালে তিন ছিনতাইকারী জোবায়েরের পথরোধ করে। এ সময় তিনি বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে সঙ্গে থাকা মুঠোফোন ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় জোবায়েরকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

এলাকাবাসী ও পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর জোবায়েরের বাবা জাহাঙ্গীর মামলা করতে বন্দর থানায় গেলেও তখন মামলা নেওয়া হয়নি। জোবায়েরের প্রতিবেশী টিপু অভিযোগ করেন, মামলা করার জন্য থানায় গেলে জোবায়েরের বাবার এক বন্ধুর কাছে পুলিশ টাকা দাবি করেছিল। টাকা না দেওয়ায় মামলা নেওয়া হয়নি বলে তাঁর দাবি।

এদিকে নিহতের লাশ নিয়ে এলাকাবাসী থানার সামনে বিক্ষোভ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলে। পরে বন্দর থানার এসআই মাসুদ রানাকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, দায়িত্বে অবহেলার কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় এসআই মাসুদ রানাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এলাকার কিছু লোকজন থানায় এসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিষয়ে ওসি বলেন, জোবায়েরের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে আসার তথ্য তাঁর কাছে নেই। তবে এ ঘটনায় জড়িত একজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা না হওয়ায় তাকে অন্য একটি মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবার মামলা করলে ওই মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে জানান তিনি।।

আপডেট : ১১:০৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু, লাশ নিয়ে বন্দর থানায় বিক্ষোভ

আপডেট : ১১:০৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১২৪

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক ।।

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত জোবায়ের (১৮) নামে এক যুবকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নিহতের লাশ নিয়ে বন্দর থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক উপপরিদর্শককে (এসআই) থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত রোববার রাতে জোবায়েরের লাশ বন্দরে পৌঁছালে এলাকাবাসী তা নিয়ে থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এর আগে একই দিন ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত জোবায়ের পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি বন্দরের এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। পাশাপাশি অটোরিকশাও চালাতেন।

পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বুধবার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এনায়েতনগরের ভাঙা ব্রিজের উত্তর পাশের ঢালে তিন ছিনতাইকারী জোবায়েরের পথরোধ করে। এ সময় তিনি বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে সঙ্গে থাকা মুঠোফোন ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় জোবায়েরকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

এলাকাবাসী ও পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর জোবায়েরের বাবা জাহাঙ্গীর মামলা করতে বন্দর থানায় গেলেও তখন মামলা নেওয়া হয়নি। জোবায়েরের প্রতিবেশী টিপু অভিযোগ করেন, মামলা করার জন্য থানায় গেলে জোবায়েরের বাবার এক বন্ধুর কাছে পুলিশ টাকা দাবি করেছিল। টাকা না দেওয়ায় মামলা নেওয়া হয়নি বলে তাঁর দাবি।

এদিকে নিহতের লাশ নিয়ে এলাকাবাসী থানার সামনে বিক্ষোভ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলে। পরে বন্দর থানার এসআই মাসুদ রানাকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, দায়িত্বে অবহেলার কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় এসআই মাসুদ রানাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এলাকার কিছু লোকজন থানায় এসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিষয়ে ওসি বলেন, জোবায়েরের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে আসার তথ্য তাঁর কাছে নেই। তবে এ ঘটনায় জড়িত একজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা না হওয়ায় তাকে অন্য একটি মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবার মামলা করলে ওই মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে জানান তিনি।।