চুয়াডাঙ্গা ০১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরের বিখ্যাত লোহাপট্টির ব্যবসায় ধস: ৫০ কোটির বাজার নেমেছে ২০ কোটিতে

Padma Sangbad
৭২

যশোর সংবাদদাতা:

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও কলকারখানায় কাজের প্রবাহ কমে যাওয়ায় এবং তীব্র চাহিদাসংকটে যশোরের ঐতিহ্যবাহী লৌহজাত পণ্যের মোকাম ‘লোহাপট্টি’র ব্যবসা অর্ধেকে নেমে এসেছে। একসময়ে কম দামের লোহায় বছরে অর্ধশত কোটি টাকার লেনদেন হওয়া এই বাজারে বর্তমানে চড়া দামেও বার্ষিক বেচাকেনা ২০ কোটি টাকার নিচে ঠেকেছে।

যশোর শহরের বড় বাজারের গোহাটা সড়কের লোহাপট্টি এলাকা ঘুরে জানা যায়, বিগত শতাব্দীর ষাটের দশকে ফুটপাতে পুরোনো লোহা বিক্রির মাধ্যমে যার সূচনা হয়েছিল, আশির ও নব্বইয়ের দশকে তা জমজমাট মোকামে রূপ নেয়। একসময় এখানে ১২০টির বেশি দোকান থাকলেও নানা সংকটে বর্তমান সংখ্যা অর্ধশতের নিচে নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মোংলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জাহাজকাটা লোহা, পুরোনো কার্গো, বার্জ, বিভিন্ন কলকারখানার যন্ত্রাংশ এবং ভবন ভাঙার লোহা সংগ্রহ করে বৃহত্তর যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গে সরবরাহ করে থাকেন। নছিমন-করিমন থেকে শুরু করে স্থানীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত সব ধরনের লোহা ও যন্ত্রাংশ এখানে পাওয়া যায়।

বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, স্ক্র্যাপ লোহা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, লোহার প্লেট ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পাইপ ৮০ থেকে ১৫০ টাকা, শেপ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং এক্সেল ৭০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দা ও বটিসহ বিভিন্ন লৌহজাত পণ্য পিসপ্রতি ২০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং কেজিতে সাড়ে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পণ্যের দাম কিছুটা কম বা সহনীয় থাকলেও ক্রেতা ও চাহিদার চরম খরায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।

চার দশকের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করা অন্তরা বিরিয়িং হাউজের স্বত্বাধিকারী ওলিয়ার রহমান জানান, ইটভাঙা মেশিন ও স্থানীয় মিলকারখানায় যন্ত্রাংশের চাহিদা কমে যাওয়ায় তার দৈনিক বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে। নিউ ফাতেমা আয়রনের মাসুদ পারভেজ ও নজরুল আয়রন স্টোরের ইকরামুল ইসলাম রিংকু বলেন, দোকানভাড়া এবং শহরের ভেতর মালামাল আনা-নেওয়ার বাড়তি ঝক্কির পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রজেক্ট ও কলকারখানায় কাজ কমে যাওয়ায় বাজারে চরম স্থবিরতা বিরাজ করছে। আগের মতো প্রতিদিন দুই-তিন শ কেজি লোহা বিক্রির সেই দিন আর নেই। বড় বাজারের আলিফ হার্ডওয়ারের হৃদয় সরদার জানান, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের চাপে দা-বটিসহ সামগ্রিক হার্ডওয়ার পণ্যের বিক্রিও কমে গেছে।

লোহাপট্টি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এম এস সাইদুর রহমান বাবু জানান, যখন রডের দাম ১৬ থেকে ২০ টাকা কেজি ছিল, তখনো এই বাজারে বছরে অর্ধশত কোটি টাকার বেচাকেনা হতো। অথচ বর্তমানে রডের দাম অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও সার্বিক চাহিদা ও বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ কমে যাওয়ায় পুরো বাজারের বার্ষিক লেনদেন এখন ২০ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে।

আপডেট : ০৪:২৩:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

যশোরের বিখ্যাত লোহাপট্টির ব্যবসায় ধস: ৫০ কোটির বাজার নেমেছে ২০ কোটিতে

আপডেট : ০৪:২৩:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
৭২

যশোর সংবাদদাতা:

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও কলকারখানায় কাজের প্রবাহ কমে যাওয়ায় এবং তীব্র চাহিদাসংকটে যশোরের ঐতিহ্যবাহী লৌহজাত পণ্যের মোকাম ‘লোহাপট্টি’র ব্যবসা অর্ধেকে নেমে এসেছে। একসময়ে কম দামের লোহায় বছরে অর্ধশত কোটি টাকার লেনদেন হওয়া এই বাজারে বর্তমানে চড়া দামেও বার্ষিক বেচাকেনা ২০ কোটি টাকার নিচে ঠেকেছে।

যশোর শহরের বড় বাজারের গোহাটা সড়কের লোহাপট্টি এলাকা ঘুরে জানা যায়, বিগত শতাব্দীর ষাটের দশকে ফুটপাতে পুরোনো লোহা বিক্রির মাধ্যমে যার সূচনা হয়েছিল, আশির ও নব্বইয়ের দশকে তা জমজমাট মোকামে রূপ নেয়। একসময় এখানে ১২০টির বেশি দোকান থাকলেও নানা সংকটে বর্তমান সংখ্যা অর্ধশতের নিচে নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মোংলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জাহাজকাটা লোহা, পুরোনো কার্গো, বার্জ, বিভিন্ন কলকারখানার যন্ত্রাংশ এবং ভবন ভাঙার লোহা সংগ্রহ করে বৃহত্তর যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গে সরবরাহ করে থাকেন। নছিমন-করিমন থেকে শুরু করে স্থানীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত সব ধরনের লোহা ও যন্ত্রাংশ এখানে পাওয়া যায়।

বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, স্ক্র্যাপ লোহা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, লোহার প্লেট ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পাইপ ৮০ থেকে ১৫০ টাকা, শেপ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং এক্সেল ৭০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দা ও বটিসহ বিভিন্ন লৌহজাত পণ্য পিসপ্রতি ২০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং কেজিতে সাড়ে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পণ্যের দাম কিছুটা কম বা সহনীয় থাকলেও ক্রেতা ও চাহিদার চরম খরায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।

চার দশকের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করা অন্তরা বিরিয়িং হাউজের স্বত্বাধিকারী ওলিয়ার রহমান জানান, ইটভাঙা মেশিন ও স্থানীয় মিলকারখানায় যন্ত্রাংশের চাহিদা কমে যাওয়ায় তার দৈনিক বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে। নিউ ফাতেমা আয়রনের মাসুদ পারভেজ ও নজরুল আয়রন স্টোরের ইকরামুল ইসলাম রিংকু বলেন, দোকানভাড়া এবং শহরের ভেতর মালামাল আনা-নেওয়ার বাড়তি ঝক্কির পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রজেক্ট ও কলকারখানায় কাজ কমে যাওয়ায় বাজারে চরম স্থবিরতা বিরাজ করছে। আগের মতো প্রতিদিন দুই-তিন শ কেজি লোহা বিক্রির সেই দিন আর নেই। বড় বাজারের আলিফ হার্ডওয়ারের হৃদয় সরদার জানান, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের চাপে দা-বটিসহ সামগ্রিক হার্ডওয়ার পণ্যের বিক্রিও কমে গেছে।

লোহাপট্টি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এম এস সাইদুর রহমান বাবু জানান, যখন রডের দাম ১৬ থেকে ২০ টাকা কেজি ছিল, তখনো এই বাজারে বছরে অর্ধশত কোটি টাকার বেচাকেনা হতো। অথচ বর্তমানে রডের দাম অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও সার্বিক চাহিদা ও বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ কমে যাওয়ায় পুরো বাজারের বার্ষিক লেনদেন এখন ২০ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে।