চুয়াডাঙ্গা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুন্সীগঞ্জে কাজীকে আটকে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায়: যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২, দল থেকে বহিষ্কার

Padma Sangbad
১২০

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:

বিয়ে পড়ানোর কথা বলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে এক কাজীকে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে যুবদল নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত যুবদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রাজীব হোসেন অপু এবং তার সহযোগী স্বপন (৩৫)। এ ঘটনায় রাজীবকে প্রধান আসামি করে তিনজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার কাটাখালী এলাকায় প্রায় ২০ বছর ধরে কাজী ও বিবাহ নিবন্ধকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন কাজী মো. হাবিবুর রহমান। তিনি দৈনিক মানবজমিনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাহিদ হাসানের বাবা। গত সোমবার দুপুর ২টার দিকে যুবদল নেতা রাজীব ও তার সহযোগীরা তিনটি মোটরসাইকেলে করে কাজী হাবিবুর রহমানের বাসায় যান। পরে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে তাকে প্রথমে কাজী অফিসে এবং পরবর্তীতে সদর উপজেলার মুক্তারপুরের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।

সেখানে উপস্থিত সহযোগী স্বপন দাবি করেন, তার স্ত্রী ইতি গত ১ অক্টোবর কাজী হাবিবুর রহমানের কার্যালয়ে বসে তাকে তালাক দিয়েছেন এবং কাজী সাহেব তা নিবন্ধন করেছেন। এই অজুহাতে কাজীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তার লাইসেন্স বাতিল ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ে ভুক্তভোগী কাজী অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ শাখা থেকে নিজের হিসাব থেকে দুই লাখ টাকা তুলে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার পর মুক্তি পান।

ঘটনার পরদিন সোমবার রাতেই কাজী হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সদর থানায় রাজীব হোসেন অপু, স্বপন (৩৫) ও সোহেলের (৪৫) নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগীর ছেলে সাংবাদিক নাহিদ হাসান জানান, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং মামলা না করতে নানা ধরনের হুমকি ও চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পরিচয় উপেক্ষা করে তিনি ন্যায়বিচার চেয়ে মামলা করেছেন।

এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যুবদল নেতা রাজীব হোসেন অপুকে তাৎক্ষণিকভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন জানান, সোমবার দিগত রাতে সদর উপজেলার মুক্তারপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাজীব হোসেন ও স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপডেট : ১০:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

মুন্সীগঞ্জে কাজীকে আটকে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায়: যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২, দল থেকে বহিষ্কার

আপডেট : ১০:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
১২০

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:

বিয়ে পড়ানোর কথা বলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে এক কাজীকে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে যুবদল নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত যুবদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রাজীব হোসেন অপু এবং তার সহযোগী স্বপন (৩৫)। এ ঘটনায় রাজীবকে প্রধান আসামি করে তিনজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার কাটাখালী এলাকায় প্রায় ২০ বছর ধরে কাজী ও বিবাহ নিবন্ধকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন কাজী মো. হাবিবুর রহমান। তিনি দৈনিক মানবজমিনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাহিদ হাসানের বাবা। গত সোমবার দুপুর ২টার দিকে যুবদল নেতা রাজীব ও তার সহযোগীরা তিনটি মোটরসাইকেলে করে কাজী হাবিবুর রহমানের বাসায় যান। পরে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে তাকে প্রথমে কাজী অফিসে এবং পরবর্তীতে সদর উপজেলার মুক্তারপুরের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।

সেখানে উপস্থিত সহযোগী স্বপন দাবি করেন, তার স্ত্রী ইতি গত ১ অক্টোবর কাজী হাবিবুর রহমানের কার্যালয়ে বসে তাকে তালাক দিয়েছেন এবং কাজী সাহেব তা নিবন্ধন করেছেন। এই অজুহাতে কাজীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তার লাইসেন্স বাতিল ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ে ভুক্তভোগী কাজী অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ শাখা থেকে নিজের হিসাব থেকে দুই লাখ টাকা তুলে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার পর মুক্তি পান।

ঘটনার পরদিন সোমবার রাতেই কাজী হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সদর থানায় রাজীব হোসেন অপু, স্বপন (৩৫) ও সোহেলের (৪৫) নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগীর ছেলে সাংবাদিক নাহিদ হাসান জানান, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং মামলা না করতে নানা ধরনের হুমকি ও চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পরিচয় উপেক্ষা করে তিনি ন্যায়বিচার চেয়ে মামলা করেছেন।

এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যুবদল নেতা রাজীব হোসেন অপুকে তাৎক্ষণিকভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন জানান, সোমবার দিগত রাতে সদর উপজেলার মুক্তারপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাজীব হোসেন ও স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।