চুয়াডাঙ্গা ১২:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে ৮ কোটি টাকার ‘শান্তিনিবাস’ তালাবদ্ধ, অযত্নে নষ্ট হচ্ছে সরঞ্জাম

Padma Sangbad
১০৬

বেলাল হোসেন, লালমনিরহাট।।

অসহায় ও আশ্রয়হীন প্রবীণদের নিরাপদ আবাসনের জন্য লালমনিরহাটে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘শান্তিনিবাস’ এখনো চালু হয়নি। উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটিতে ঠাঁই হয়নি কোনো প্রবীণের। জনবল নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন তিনতলা ভবনটি পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়।

লালমনিরহাট শহরের কলেজ রোড এলাকায় আল-নাহিয়ান শিশু পরিবারের পেছনে সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) ক্যাম্পাসসংলগ্ন ৩০ শতক জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে শান্তিনিবাস। ২৫ জন ষাটোর্ধ্ব প্রবীণের আবাসনের উপযোগী করে তৈরি ভবনটিতে রয়েছে শয্যাকক্ষ, লিফট, প্রার্থনাকক্ষ, পাঠকক্ষ, ডাইনিং রুম, শরীরচর্চার সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্যসেবা কর্নার।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের সব কক্ষ তালাবদ্ধ। ডাইনিং রুমের আসবাব, শরীরচর্চার যন্ত্রপাতি ও স্বাস্থ্যসেবা কর্নারের সরঞ্জামে জমেছে ধুলার আস্তর। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ভবনটির ভেতরে বিরাজ করছে সুনসান পরিবেশ। প্রবীণদের সেবায় ব্যবহারের জন্য তৈরি সরঞ্জামগুলোও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট লালমনিরহাট সরকারি শিশু পরিবারের ক্যাম্পাসে শান্তিনিবাসের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের নভেম্বরে তৎকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নূরুজ্জামান আহমেদ ভবনটির উদ্বোধন করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সরকারি শিশু পরিবার কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভবনটির দেখভাল করছে।

শান্তিনিবাসের দেখভালের দায়িত্বে থাকা লালমনিরহাট সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)-এর উপতত্ত্বাবধায়ক হাওয়া বেগম বলেন, শিশু পরিবারের ক্যাম্পাসে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। জনবল না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তিনি এটি দেখভাল করছেন। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় শান্তিনিবাস চালু করা সম্ভব হয়নি।

লালমনিরহাট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফজলুল হক জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের আওতায় দেশের আটটি বিভাগে আটটি সরকারি শিশু পরিবারের অভ্যন্তরে শান্তিনিবাস নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে এসব অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হয়। রংপুর বিভাগের শান্তিনিবাসটি লালমনিরহাটে নির্মিত হয়েছে। তিনি বলেন, পদ সৃজনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পদ সৃজন সম্পন্ন হলে জনবল নিয়োগের কার্যক্রমও শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, লালমনিরহাটের শান্তিনিবাস চালু না হওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা রয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

প্রবীণদের আবাসন ও সেবার জন্য নির্মিত প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রকল্পটি দ্রুত চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও বিদ্যুৎ-সহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করে শান্তিনিবাসটি চালু করা গেলে অসহায় প্রবীণদের জন্য এটি কার্যকর আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

প্রকাশের আগে ভবনটির মোট ব্যয়, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় এবং জনবল নিয়োগের বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নিশ্চিত করে নিলে প্রতিবেদনটি আরও তথ্যসমৃদ্ধ হবে।

আপডেট : ১২:৩৫:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

লালমনিরহাটে ৮ কোটি টাকার ‘শান্তিনিবাস’ তালাবদ্ধ, অযত্নে নষ্ট হচ্ছে সরঞ্জাম

আপডেট : ১২:৩৫:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
১০৬

বেলাল হোসেন, লালমনিরহাট।।

অসহায় ও আশ্রয়হীন প্রবীণদের নিরাপদ আবাসনের জন্য লালমনিরহাটে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘শান্তিনিবাস’ এখনো চালু হয়নি। উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটিতে ঠাঁই হয়নি কোনো প্রবীণের। জনবল নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন তিনতলা ভবনটি পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়।

লালমনিরহাট শহরের কলেজ রোড এলাকায় আল-নাহিয়ান শিশু পরিবারের পেছনে সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) ক্যাম্পাসসংলগ্ন ৩০ শতক জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে শান্তিনিবাস। ২৫ জন ষাটোর্ধ্ব প্রবীণের আবাসনের উপযোগী করে তৈরি ভবনটিতে রয়েছে শয্যাকক্ষ, লিফট, প্রার্থনাকক্ষ, পাঠকক্ষ, ডাইনিং রুম, শরীরচর্চার সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্যসেবা কর্নার।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের সব কক্ষ তালাবদ্ধ। ডাইনিং রুমের আসবাব, শরীরচর্চার যন্ত্রপাতি ও স্বাস্থ্যসেবা কর্নারের সরঞ্জামে জমেছে ধুলার আস্তর। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ভবনটির ভেতরে বিরাজ করছে সুনসান পরিবেশ। প্রবীণদের সেবায় ব্যবহারের জন্য তৈরি সরঞ্জামগুলোও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট লালমনিরহাট সরকারি শিশু পরিবারের ক্যাম্পাসে শান্তিনিবাসের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের নভেম্বরে তৎকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নূরুজ্জামান আহমেদ ভবনটির উদ্বোধন করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সরকারি শিশু পরিবার কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভবনটির দেখভাল করছে।

শান্তিনিবাসের দেখভালের দায়িত্বে থাকা লালমনিরহাট সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)-এর উপতত্ত্বাবধায়ক হাওয়া বেগম বলেন, শিশু পরিবারের ক্যাম্পাসে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। জনবল না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তিনি এটি দেখভাল করছেন। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় শান্তিনিবাস চালু করা সম্ভব হয়নি।

লালমনিরহাট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফজলুল হক জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের আওতায় দেশের আটটি বিভাগে আটটি সরকারি শিশু পরিবারের অভ্যন্তরে শান্তিনিবাস নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে এসব অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হয়। রংপুর বিভাগের শান্তিনিবাসটি লালমনিরহাটে নির্মিত হয়েছে। তিনি বলেন, পদ সৃজনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পদ সৃজন সম্পন্ন হলে জনবল নিয়োগের কার্যক্রমও শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, লালমনিরহাটের শান্তিনিবাস চালু না হওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা রয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

প্রবীণদের আবাসন ও সেবার জন্য নির্মিত প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রকল্পটি দ্রুত চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও বিদ্যুৎ-সহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করে শান্তিনিবাসটি চালু করা গেলে অসহায় প্রবীণদের জন্য এটি কার্যকর আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

প্রকাশের আগে ভবনটির মোট ব্যয়, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় এবং জনবল নিয়োগের বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নিশ্চিত করে নিলে প্রতিবেদনটি আরও তথ্যসমৃদ্ধ হবে।