চুয়াডাঙ্গা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোণায় চায়ের দোকানে বসা সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

Padma Sangbad
১০৭

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক:
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে প্রকাশ্যে চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নামের এক স্থানীয় সাংবাদিককে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল/তেলনজিয়া বাজার এলাকায় এক চা-দোকানের সামনে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল ‘রূপসী বাংলা’-এর নেত্রকোণা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামক একটি জনপ্রিয় পেজ পরিচালনা করতেন, যার মাধ্যমে স্থানীয় নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রচার ও লেখালেখি করতেন। তাঁর মূল বাড়ি পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে লুৎফুজ্জামান স্থানীয় একটি চা-দোকান থেকে বের হওয়ার মুখে ওঁৎ পেতে থাকা মোটরসাইকেল আরোহী দুই সশস্ত্র যুবক তাঁর ওপর অতর্কিত চড়াও হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে পরপর কয়েকটি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। গুলির বিকট শব্দে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানা-পুলিশ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ জানান, নিহত ওই সাংবাদিকের মাথা, গলা ও বুকসহ শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে মোট পাঁচটি গুলির স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, “প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে যৌথ বাহিনীর একাধিক টিম মাঠে অভিযানে নেমেছে।”
উল্লেখ্য, পেশাগত কারণে শত্রুতাবশত এর আগেও গত বছরের ১০ নভেম্বর সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় লুৎফুজ্জামান আলিফকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করেছিল একদল দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় মামলা হলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিকার মেলেনি বলে স্থানীয়দের অভিমত।

আপডেট : ০১:২৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোণায় চায়ের দোকানে বসা সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

আপডেট : ০১:২৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
১০৭

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক:
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে প্রকাশ্যে চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নামের এক স্থানীয় সাংবাদিককে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল/তেলনজিয়া বাজার এলাকায় এক চা-দোকানের সামনে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল ‘রূপসী বাংলা’-এর নেত্রকোণা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামক একটি জনপ্রিয় পেজ পরিচালনা করতেন, যার মাধ্যমে স্থানীয় নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রচার ও লেখালেখি করতেন। তাঁর মূল বাড়ি পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে লুৎফুজ্জামান স্থানীয় একটি চা-দোকান থেকে বের হওয়ার মুখে ওঁৎ পেতে থাকা মোটরসাইকেল আরোহী দুই সশস্ত্র যুবক তাঁর ওপর অতর্কিত চড়াও হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে পরপর কয়েকটি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। গুলির বিকট শব্দে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানা-পুলিশ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ জানান, নিহত ওই সাংবাদিকের মাথা, গলা ও বুকসহ শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে মোট পাঁচটি গুলির স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, “প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে যৌথ বাহিনীর একাধিক টিম মাঠে অভিযানে নেমেছে।”
উল্লেখ্য, পেশাগত কারণে শত্রুতাবশত এর আগেও গত বছরের ১০ নভেম্বর সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় লুৎফুজ্জামান আলিফকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করেছিল একদল দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় মামলা হলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিকার মেলেনি বলে স্থানীয়দের অভিমত।