চুয়াডাঙ্গা ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেনজেমার হ্যাটট্রিকে শেষ আটে রিয়াল

Padma Sangbad
২০১

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।। তারকাসমৃদ্ধ পিএসজির বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের চ্যালেঞ্জ ছিল বেশ কঠিন। কিলিয়ান এমবাপের প্রথমার্ধের গোলে সেটা হয়ে উঠল আরও কঠিন। বিরতির পর প্রবল চাপ তৈরি করেও মিলছিল না গোলের দেখা। একটা সময় সেটা অসম্ভবই মনে হচ্ছিল। কিন্তু এরপর যেভাবে তারা ঘুরে দাঁড়াল, তা অসাধারণের চেয়েও বেশি কিছু। প্রতিপক্ষের ভুল আর সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় হ্যাটট্রিকের আনন্দে ভাসলেন করিম বেনজেমা। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনারে পা রাখল রিয়াল মাদ্রিদ।

সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে বুধবার রাতে ফিরতি লেগে ৩-১ গোল জিতে শেষ আটে উঠল রিয়াল। প্রথম লেগে ১-০ গোলে জিতেছিল পিএসজি। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ অগ্রগামিতায় পরের ধাপে গেল কার্লো আনচেলত্তির দল।

টিকে থাকতে গোল করতেই হতো, সেই লক্ষ্যে প্রথম মিনিট থেকে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে রিয়াল। পাঁচ মিনিটের মধ্যে দু্বার প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে বক্সে ঢুকেও পড়ে তারা। দুবারই বল যায় মার্কো আসেনসিওর পায়ে; প্রথমবার শটই নিতে পারেননি তিনি, দ্বিতীয়বারে তার ভলি রক্ষণে প্রতিহত হয়।

কিলিয়ান এমবাপের একক প্রচেষ্টার প্রতি-আক্রমণে অষ্টম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো পিএসজি। কিন্তু ফরাসি ফরোয়ার্ডের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান থিবো কোর্তোয়া। চার মিনিট পর নিজেদের ভুলে আবারও গোল খেতে বসেছিল স্বাগতিকরা। এবারও এমবাপের নিচু শট ঠেকিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক।

সমানতালে চলতে থাকা আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মাঝে ২৫তম মিনিটে জানলুইজি দোন্নারুম্মার নৈপুণ্যে বেঁচে যায় পিএসজি। দূর থেকে বেনজেমার বুলেট গতির শটে ঝাঁপিয়ে কোনোমতে আঙুল ছোঁয়ান ইতালিয়ান গোলরক্ষক, বল দূরের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।

৩১তম মিনিটে দুই তারকার দারুণ বোঝাপড়ায় নিশ্চিত সুযোগ পায় পিএসজি। সতীর্থকে বল বাড়িয়ে চোখের পলকে ছয় গজ বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। রক্ষণচেরা পাস বাড়ান নেইমার। বল ধরে দুরূহ কোণ থেকে শটটি যদিও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি আর্জেন্টাইন তারকা।

দুই মিনিট পর জালে বল পাঠিয়ে উচ্ছ্বাসে মাতেন এমবাপে। তবে আক্রমণের শুরুতে নুনো মেন্দেস অফসাইডে ছিলেন। ভিএআরেরে সিদ্ধান্তে থেমে যায় তাদের উদযাপন।

হতাশা ঝেড়ে ফেলতে অবশ্য মোটেও সময় নেননি এমবাপে। নিজেদের সীমানা থেকে থ্রু বল বাড়ালেন নেইমার। দারুণ ক্ষীপ্রতায় ছুটে বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় সামনে এক পলক দেখে ডিফেন্ডার দাভিদ আলাবাকে কোনো সুযোগ না দিয়ে শট নিলেন বিশ্বকাপ জয়ী তারকা। ঝাঁপিয়ে বলের নাগাল পেলেন না কোর্তোয়া।

ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতাটিতে নবম খেলোয়াড় হিসেবে রিয়ালের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে গোল করলেন এমবাপে। কনিষ্ঠতম হিসেবে করলেন তিনি, ২৩ বছর ৭৯ দিন বয়সে।

দ্বিতীয়ার্ধের নবম মিনিটে বল পায়ে দারুণ কারিকুরিতে কোর্তোয়াকে কাটিয়ে আবারও লক্ষ্যভেদ করেন এমবাপে। তবে এবার তিনি নিজেই অফসাইডে ছিলেন।

নিজেদের অমার্জনীয় ভুলে ৬১তম মিনিটে গোল হজম করে পিএসজি। অনেক দূর থেকে গোলরক্ষককে অহেতুক ব্যাকপাস দিলেন মার্কো ভেরাত্তি। সতীর্থকে পাস বাড়াতে এক মুহূর্ত দেরি করে ফেললেন দোন্নারুম্মা, ছুটে গিয়ে চ্যালেঞ্জ জানালেন বেনজেমা। চাপের মুখে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ছয় গজ বক্সের অন্য পাশে ভিনিসিউসের পায়ে বল তুলে দিলেন ইউরো-২০২০ এর সেরা গোলরক্ষক। ওখান থেকে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের পাস পেয়ে ফাঁকা জালে গোলটি করেন বেনজেমা।

জমে ওঠে লড়াই।

গোল পেয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা কয়েক মিনিটে দারুণ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। বেনজেমার হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর ভিনিসিউসের শট রুখে দেন গোলরক্ষক।

৭২তম মিনিটে ছয় গজ বক্সের বাইরে ফাঁকায় বল পেয়ে উড়িয়ে মারেন ভিনিসিউস! প্রবল চাপ ধরে রেখে খানিক পরই দুই মিনিটের মধ্যে আরও দুই গোল করে চালকের আসরে উঠে বসে রিয়াল।

৭৬তম মিনিটে মদ্রিচের পাস বক্সে পেয়ে ঘুরেই শট নিলেন বেনজেমা। ছুটে এসে স্লাইড করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেন মার্কিনিয়োস, তার পায়ে লেগেই বল একটু ওপরে উঠে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে খুঁজে নিল ঠিকানা।

সেই ধাক্কা কাটিয়ে না উঠতেই আবারও গোল হজম করল পিএসজি। প্রতি-আক্রমণে ডি-বক্সে ঢুকে ভিনিসিউস যার কাছে বল হারান সেই মার্কিনিয়োসই ক্লিয়ার করতে গিয়ে তুলে দেন বেনজেমার পায়ে। প্রথম ছোঁয়ায় নিচু শটে কাছের পোস্ট দিয়ে দলকে স্কোরলাইন ৩-১ করেন তিনি।৭৮ মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের পাশ থেকে বল পেয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন করিম বেনজেমা।

শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। এবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন লিগের শিরোপা জেতার জন্য মেসিকে দলে টানে পিএনজি। মেসি নেইমার এবং এমবাপ্পের মতো তারকাদের নিয়েও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে পিএসজি বিদায় নেওয়ায় সর্মথকরা হতাশ।।

আপডেট : ০৪:০৬:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ মার্চ ২০২২

বেনজেমার হ্যাটট্রিকে শেষ আটে রিয়াল

আপডেট : ০৪:০৬:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ মার্চ ২০২২
২০১

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।। তারকাসমৃদ্ধ পিএসজির বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের চ্যালেঞ্জ ছিল বেশ কঠিন। কিলিয়ান এমবাপের প্রথমার্ধের গোলে সেটা হয়ে উঠল আরও কঠিন। বিরতির পর প্রবল চাপ তৈরি করেও মিলছিল না গোলের দেখা। একটা সময় সেটা অসম্ভবই মনে হচ্ছিল। কিন্তু এরপর যেভাবে তারা ঘুরে দাঁড়াল, তা অসাধারণের চেয়েও বেশি কিছু। প্রতিপক্ষের ভুল আর সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় হ্যাটট্রিকের আনন্দে ভাসলেন করিম বেনজেমা। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনারে পা রাখল রিয়াল মাদ্রিদ।

সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে বুধবার রাতে ফিরতি লেগে ৩-১ গোল জিতে শেষ আটে উঠল রিয়াল। প্রথম লেগে ১-০ গোলে জিতেছিল পিএসজি। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ অগ্রগামিতায় পরের ধাপে গেল কার্লো আনচেলত্তির দল।

টিকে থাকতে গোল করতেই হতো, সেই লক্ষ্যে প্রথম মিনিট থেকে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে রিয়াল। পাঁচ মিনিটের মধ্যে দু্বার প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে বক্সে ঢুকেও পড়ে তারা। দুবারই বল যায় মার্কো আসেনসিওর পায়ে; প্রথমবার শটই নিতে পারেননি তিনি, দ্বিতীয়বারে তার ভলি রক্ষণে প্রতিহত হয়।

কিলিয়ান এমবাপের একক প্রচেষ্টার প্রতি-আক্রমণে অষ্টম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো পিএসজি। কিন্তু ফরাসি ফরোয়ার্ডের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান থিবো কোর্তোয়া। চার মিনিট পর নিজেদের ভুলে আবারও গোল খেতে বসেছিল স্বাগতিকরা। এবারও এমবাপের নিচু শট ঠেকিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক।

সমানতালে চলতে থাকা আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মাঝে ২৫তম মিনিটে জানলুইজি দোন্নারুম্মার নৈপুণ্যে বেঁচে যায় পিএসজি। দূর থেকে বেনজেমার বুলেট গতির শটে ঝাঁপিয়ে কোনোমতে আঙুল ছোঁয়ান ইতালিয়ান গোলরক্ষক, বল দূরের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।

৩১তম মিনিটে দুই তারকার দারুণ বোঝাপড়ায় নিশ্চিত সুযোগ পায় পিএসজি। সতীর্থকে বল বাড়িয়ে চোখের পলকে ছয় গজ বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। রক্ষণচেরা পাস বাড়ান নেইমার। বল ধরে দুরূহ কোণ থেকে শটটি যদিও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি আর্জেন্টাইন তারকা।

দুই মিনিট পর জালে বল পাঠিয়ে উচ্ছ্বাসে মাতেন এমবাপে। তবে আক্রমণের শুরুতে নুনো মেন্দেস অফসাইডে ছিলেন। ভিএআরেরে সিদ্ধান্তে থেমে যায় তাদের উদযাপন।

হতাশা ঝেড়ে ফেলতে অবশ্য মোটেও সময় নেননি এমবাপে। নিজেদের সীমানা থেকে থ্রু বল বাড়ালেন নেইমার। দারুণ ক্ষীপ্রতায় ছুটে বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় সামনে এক পলক দেখে ডিফেন্ডার দাভিদ আলাবাকে কোনো সুযোগ না দিয়ে শট নিলেন বিশ্বকাপ জয়ী তারকা। ঝাঁপিয়ে বলের নাগাল পেলেন না কোর্তোয়া।

ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতাটিতে নবম খেলোয়াড় হিসেবে রিয়ালের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে গোল করলেন এমবাপে। কনিষ্ঠতম হিসেবে করলেন তিনি, ২৩ বছর ৭৯ দিন বয়সে।

দ্বিতীয়ার্ধের নবম মিনিটে বল পায়ে দারুণ কারিকুরিতে কোর্তোয়াকে কাটিয়ে আবারও লক্ষ্যভেদ করেন এমবাপে। তবে এবার তিনি নিজেই অফসাইডে ছিলেন।

নিজেদের অমার্জনীয় ভুলে ৬১তম মিনিটে গোল হজম করে পিএসজি। অনেক দূর থেকে গোলরক্ষককে অহেতুক ব্যাকপাস দিলেন মার্কো ভেরাত্তি। সতীর্থকে পাস বাড়াতে এক মুহূর্ত দেরি করে ফেললেন দোন্নারুম্মা, ছুটে গিয়ে চ্যালেঞ্জ জানালেন বেনজেমা। চাপের মুখে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ছয় গজ বক্সের অন্য পাশে ভিনিসিউসের পায়ে বল তুলে দিলেন ইউরো-২০২০ এর সেরা গোলরক্ষক। ওখান থেকে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের পাস পেয়ে ফাঁকা জালে গোলটি করেন বেনজেমা।

জমে ওঠে লড়াই।

গোল পেয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা কয়েক মিনিটে দারুণ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। বেনজেমার হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর ভিনিসিউসের শট রুখে দেন গোলরক্ষক।

৭২তম মিনিটে ছয় গজ বক্সের বাইরে ফাঁকায় বল পেয়ে উড়িয়ে মারেন ভিনিসিউস! প্রবল চাপ ধরে রেখে খানিক পরই দুই মিনিটের মধ্যে আরও দুই গোল করে চালকের আসরে উঠে বসে রিয়াল।

৭৬তম মিনিটে মদ্রিচের পাস বক্সে পেয়ে ঘুরেই শট নিলেন বেনজেমা। ছুটে এসে স্লাইড করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেন মার্কিনিয়োস, তার পায়ে লেগেই বল একটু ওপরে উঠে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে খুঁজে নিল ঠিকানা।

সেই ধাক্কা কাটিয়ে না উঠতেই আবারও গোল হজম করল পিএসজি। প্রতি-আক্রমণে ডি-বক্সে ঢুকে ভিনিসিউস যার কাছে বল হারান সেই মার্কিনিয়োসই ক্লিয়ার করতে গিয়ে তুলে দেন বেনজেমার পায়ে। প্রথম ছোঁয়ায় নিচু শটে কাছের পোস্ট দিয়ে দলকে স্কোরলাইন ৩-১ করেন তিনি।৭৮ মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের পাশ থেকে বল পেয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন করিম বেনজেমা।

শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। এবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন লিগের শিরোপা জেতার জন্য মেসিকে দলে টানে পিএনজি। মেসি নেইমার এবং এমবাপ্পের মতো তারকাদের নিয়েও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে পিএসজি বিদায় নেওয়ায় সর্মথকরা হতাশ।।