চুয়াডাঙ্গা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দর্শনা জয়নগর স্থলপথ দিয়ে ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ হওয়ায় ৩০ মাসে ১৫ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত সরকার

Padma Sangbad
৩৫

দর্শনা জয়নগর স্থলপথ দিয়ে ট্যুরিস্ট ভিসায় পাসপোর্ট যাত্রীরা কবে থেকে ভারতে যাতায়াত করতে পারবেন তার সঠিক উত্তর মিলছে না!

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।।
দর্শনা জয়ননগর স্থলপথ দিয়ে বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রীরা ভারতে যাতায়াত করতে না পারায় ১০-১২টি জেলা শহরের মানুষ যেমন ভোগান্তিতে পড়েছেন তেমনি কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে  বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
করোনার মহামারী কারণে ২০২০ সালে ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ হওয়ার পর ৩০ মাস হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত দর্শনা জয়ননগর স্থলপথ দিয়ে বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রীরা ভারতে যাতায়াত করতে পারছেন না। এতে ১০-১২টি জেলা শহরের মানুষ যেমন ভোগান্তিতে পড়েছেন, তেমনি গত ৩০ মাসে এই বন্দর থেকে সরকার প্রায় ১৫ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে।
করোনার সংক্রমণ দেখা দেয়ায় ২০২০ সালের ২৬ মার্চ দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলবন্দরের মাধ্যমে ভারতীয় মালামাল আমদানি এবং স্থলপথে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ট্যুরিস্টসহ সকল ভিসার পাসপোর্ট যাত্রীদের যাতায়াত পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে। কিছুদিন পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলপথে ভারত থেকে মালামাল আমদানি শুরু হয়। ২০২১ সালের ১৭ মে থেকে ভারতে আটকাপড়া বাংলাদেশীদের দর্শনা আন্তর্জাতিক স্থলপথের মাধ্যমে দেশে ফেরত আনার একটি নির্দেশনা জারি করা হয় সরকারের পক্ষ থেকে । একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে শুধুমাত্র মেডিক্যাল ও বিজনেস ভিসায় দর্শনা-গেদে হয়ে পাসপোর্ট যাত্রীরা যাতায়াত করতে পারবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায় । চলতি বছরের ২৯ মে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস দর্শনা আন্তর্জাতিক রেল স্টেশনের মাধ্যমে চলাচল শুরু করলেও অদ্যবদি দর্শনা-গেদে স্থলপথে বাংলাদেশীদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হয়নি।
বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পাসপোর্ট যাত্রীরা দর্শনা চেকপোস্টে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সেই সাথে হতাশা হয়ে বাড়ি ফিরে যান । কুষ্টিয়া ,ঝিনাইদহ, ঈশ্বরদী ,মাগুরা, মেহেরপুর, রাজবাড়ী, চুয়াডাঙ্গাসহ ১০-১২টি জেলার মানুষ ট্যুরিস্ট ভিসায় দর্শনা-গেদে স্থলপথে যাতায়াত করতে না পেরে বাধ্য হয়ে বেনাপোল দিয়ে ভারতে যাচ্ছেন। এতে একদিকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। অন্যদিকে যাতায়াত খরচ লাগছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত যাত্রীরা বলছেন, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুরসহ আশপাশের জেলা থেকে দর্শনা চেকপোস্টে আসতে খরচ হয় মাত্র ৫০ থেকে ৮০ টাকা। আর দর্শনা থেকে ভারতের গেদে রেলস্টেশনে হেঁটেই যাওয়া যায়। সেই হিসেবে ধরে নেয়া যাক কুষ্টিয়া থেকে যশোরের ভাড়া একশ’ টাকা, যশোর থেকে বেনাপোলের ভাড়া ৫০ টাকা আর বেনাপোল থেকে ভারতের বনগাঁও রেলস্টেশনে পৌঁছাতে জনপ্রতি খরচ দেড়শো টাকা।
দর্শনা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা জানান, ২০২১ সালের ১৭ মে মেডিক্যাল বিজনেস ভিসা চালু হলেও গত ৫ ডিসেম্বরে তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে ভারতীয়রা সব ভিসায় দর্শনা স্থলপথে যাতায়াত করছে। দর্শনার সচেতন নাগরিকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী দুই দেশের নাগরিকদের জন্য দুই রকম নিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এতে ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশের সরকার বিপুল পরিমাণে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে  বঞ্চিত হচ্ছে।

দর্শনা-গেদে স্থলপথে ২০২০ সালের আগে প্রতিদিন এক হাজার থেকে ১২ শ’ পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত করতেন। সেই হিসেবে প্রতিদিন চার-পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থাৎ ৩০ মাসে প্রায় ১৫ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে। তা ছাড়া দর্শনা থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ১০৭ কিলোমিটার। এতে অতিরিক্ত সময়
বাচে ও ভ্রমন যাত্রার ক্লান্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
দর্শনা কাস্টমস সুপার শুভাশীষ কুণ্ডু জানান, কোভিডের আগে এ পথে প্রতিদিন রমরমাভাবে পাসপোর্ট যাত্রীরা যাতায়াত করতেন। বাংলাদেশীদের জন্য এ পথে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হলে আগের মতোই পাসপোর্ট যাত্রীরা যাতায়াত করবেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের থানা সভাপতি, মাহফুজুর রহমান মঞ্জু জানান, খুব দ্রুত দর্শনা-গেদে স্থলপথে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি লোকমোর্চা ও দর্শনা নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।
চুুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম খান জানান, এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হবে ।।

আপডেট : ১০:২৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২

দর্শনা জয়নগর স্থলপথ দিয়ে ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ হওয়ায় ৩০ মাসে ১৫ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত সরকার

আপডেট : ১০:২৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২
৩৫

দর্শনা জয়নগর স্থলপথ দিয়ে ট্যুরিস্ট ভিসায় পাসপোর্ট যাত্রীরা কবে থেকে ভারতে যাতায়াত করতে পারবেন তার সঠিক উত্তর মিলছে না!

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।।
দর্শনা জয়ননগর স্থলপথ দিয়ে বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রীরা ভারতে যাতায়াত করতে না পারায় ১০-১২টি জেলা শহরের মানুষ যেমন ভোগান্তিতে পড়েছেন তেমনি কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে  বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
করোনার মহামারী কারণে ২০২০ সালে ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ হওয়ার পর ৩০ মাস হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত দর্শনা জয়ননগর স্থলপথ দিয়ে বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রীরা ভারতে যাতায়াত করতে পারছেন না। এতে ১০-১২টি জেলা শহরের মানুষ যেমন ভোগান্তিতে পড়েছেন, তেমনি গত ৩০ মাসে এই বন্দর থেকে সরকার প্রায় ১৫ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে।
করোনার সংক্রমণ দেখা দেয়ায় ২০২০ সালের ২৬ মার্চ দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলবন্দরের মাধ্যমে ভারতীয় মালামাল আমদানি এবং স্থলপথে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ট্যুরিস্টসহ সকল ভিসার পাসপোর্ট যাত্রীদের যাতায়াত পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে। কিছুদিন পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলপথে ভারত থেকে মালামাল আমদানি শুরু হয়। ২০২১ সালের ১৭ মে থেকে ভারতে আটকাপড়া বাংলাদেশীদের দর্শনা আন্তর্জাতিক স্থলপথের মাধ্যমে দেশে ফেরত আনার একটি নির্দেশনা জারি করা হয় সরকারের পক্ষ থেকে । একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে শুধুমাত্র মেডিক্যাল ও বিজনেস ভিসায় দর্শনা-গেদে হয়ে পাসপোর্ট যাত্রীরা যাতায়াত করতে পারবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায় । চলতি বছরের ২৯ মে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস দর্শনা আন্তর্জাতিক রেল স্টেশনের মাধ্যমে চলাচল শুরু করলেও অদ্যবদি দর্শনা-গেদে স্থলপথে বাংলাদেশীদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হয়নি।
বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পাসপোর্ট যাত্রীরা দর্শনা চেকপোস্টে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সেই সাথে হতাশা হয়ে বাড়ি ফিরে যান । কুষ্টিয়া ,ঝিনাইদহ, ঈশ্বরদী ,মাগুরা, মেহেরপুর, রাজবাড়ী, চুয়াডাঙ্গাসহ ১০-১২টি জেলার মানুষ ট্যুরিস্ট ভিসায় দর্শনা-গেদে স্থলপথে যাতায়াত করতে না পেরে বাধ্য হয়ে বেনাপোল দিয়ে ভারতে যাচ্ছেন। এতে একদিকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। অন্যদিকে যাতায়াত খরচ লাগছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত যাত্রীরা বলছেন, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুরসহ আশপাশের জেলা থেকে দর্শনা চেকপোস্টে আসতে খরচ হয় মাত্র ৫০ থেকে ৮০ টাকা। আর দর্শনা থেকে ভারতের গেদে রেলস্টেশনে হেঁটেই যাওয়া যায়। সেই হিসেবে ধরে নেয়া যাক কুষ্টিয়া থেকে যশোরের ভাড়া একশ’ টাকা, যশোর থেকে বেনাপোলের ভাড়া ৫০ টাকা আর বেনাপোল থেকে ভারতের বনগাঁও রেলস্টেশনে পৌঁছাতে জনপ্রতি খরচ দেড়শো টাকা।
দর্শনা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা জানান, ২০২১ সালের ১৭ মে মেডিক্যাল বিজনেস ভিসা চালু হলেও গত ৫ ডিসেম্বরে তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে ভারতীয়রা সব ভিসায় দর্শনা স্থলপথে যাতায়াত করছে। দর্শনার সচেতন নাগরিকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী দুই দেশের নাগরিকদের জন্য দুই রকম নিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এতে ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশের সরকার বিপুল পরিমাণে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে  বঞ্চিত হচ্ছে।

দর্শনা-গেদে স্থলপথে ২০২০ সালের আগে প্রতিদিন এক হাজার থেকে ১২ শ’ পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত করতেন। সেই হিসেবে প্রতিদিন চার-পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থাৎ ৩০ মাসে প্রায় ১৫ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে। তা ছাড়া দর্শনা থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ১০৭ কিলোমিটার। এতে অতিরিক্ত সময়
বাচে ও ভ্রমন যাত্রার ক্লান্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
দর্শনা কাস্টমস সুপার শুভাশীষ কুণ্ডু জানান, কোভিডের আগে এ পথে প্রতিদিন রমরমাভাবে পাসপোর্ট যাত্রীরা যাতায়াত করতেন। বাংলাদেশীদের জন্য এ পথে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হলে আগের মতোই পাসপোর্ট যাত্রীরা যাতায়াত করবেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের থানা সভাপতি, মাহফুজুর রহমান মঞ্জু জানান, খুব দ্রুত দর্শনা-গেদে স্থলপথে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি লোকমোর্চা ও দর্শনা নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।
চুুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম খান জানান, এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হবে ।।