সাধারণ সম্পাদক পদে লড়াইয়ের আভাস শাহীন-জিউসের, আলোচনায় নেই মন্টু

প্রচারণা প্রায় শেষের দিকে। আর একদিন পরেই ভোট। এ কারণে উৎসবমুখর যশোরের আদালত প্রাঙ্গণ। এবারের নির্বাচনে সেক্রেটারি পদে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের মধ্যে না, লড়াই হবে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সমর্থকের মধ্যে। এই দু’জন হচ্ছেন, শাহানুর আলম শাহীন ও খালেদ হাসান জিউস। এই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীকে নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য ফোরামের মাথাব্যথা না থাকলেও তাদের এখন মাথাব্যথা শাহীন ও জিউসকে নিয়ে। বিএনপি সমর্থকরা অধিকাংশই নিজেদের প্রার্থী বাদ দিয়ে গোপনে যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের দু’ গ্রুপে। তাদের কেউ কেউ নিজ পছন্দের প্রার্থীদের জয়লাভ করাতে গোপনে আসরও বসাচ্ছেন। এ কারণে ফোরামের কোনো কোনো সদস্যের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এসব বিষয়ে কথা হয় অন্তত ১৫-২০ জন আইনজীবীর সাথে। সাধারণ সম্পাদক পদে কে জয়লাভ করতে পারেন এবং অন্যরা কেন পরাজিত হতে পারেন এমন প্রশ্নের জবাবে একেকজন একেক রকম কথা বলছেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে শাহানুর আলম শাহীন সম্পর্কে কেউ কেউ বলেন, তিনি একঝাঁক তরুণ ভোটারকে নিয়ে কাজ করছেন। তিনি একাধিকবার এ পদে দায়িত্বপালন করেছেন। তিনি একবার আইনজীবীদের জন্য মৃত্যুভাতা বাড়িয়ে ছিলেন। একইসাথে আদালত চত্বর থেকে টাউট উচ্ছেদে ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি ফের নির্বাচিত হলে আইনজীবী সমিতির উন্নয়ন হবে বলে তারা দাবি করেন।
অন্যদিকে, খালেদ হাসান জিউস সম্পর্কে অনেকেই বলছেন, তিনি তরুণ ও কোয়ালিটি সম্পন্ন। তিনি সাবেক এমপি খালেদুর রহমান টিটোর সন্তান। তার বাবার সাথে অনেকেই রাজনীতি করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ সম্পাদক পদ হাতেগোনা কয়েকজনের দখলে রয়েছে। সাধারণ আইনজীবীরা এটি আর চাচ্ছেন না। মূলতঃ তারাই পরিবর্তন চাচ্ছেন। নতুন হিসেবে জিউস নির্বাচিত হতে পারেন বলে তাদের ধারণা। এছাড়া, অপ্রকাশ্যে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি জিউসকে সমর্থন দিয়েছে। এসব কারণে জিউস জয়লাভ করে রেকর্ড গড়তে পারেন বলে দাবি কারো কারো।
এসবের পাশাপাশি শাহীন ও জিউস সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেন অনেকেই।
তারা শাহীন সম্পর্কে বলেন, তিনি নিজেই সিন্ডিকেট তৈরি করেন। বিশেষ করে চৌগাছার মামলাগুলো একচেটিয়া শাহীনই করেন। হাজতখানায় শাহীনের শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। কয়েকমাস আগে শাহানুর আলম শাহীনের বিরুদ্ধে জেলা আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ দেন বর্তমান সহসভাপতি খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন মুকুল। এর বাইরে আরও অভিযোগ করা হয় তার বিরুদ্ধে। কিন্তু তা আমলে নেয়নি সমিতি। এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। যার প্রভাব নির্বাচনে পড়ছে বলে দাবি করেছেন কেউ কেউ। এছাড়া, কেউ কেউ বলেন, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ থেকে বের হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন শাহীন। এটিও তার জন্য কাল হতে পারে। অপরদিকে,খালেদ হাসান জিউস সম্পর্কে কেউ কেউ বলছেন, তিনি আইনজীবী হলেও আইনজীবীদের সাথে তার সম্পৃক্ততা নেই বললেই চলে। তিনি ছিলেন রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত। আইন পেশায় তিনি ছিলেন অনিয়মিত। যা আইনজীবীদের অনেকেই নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।
এই দু’জনের বাইরে সাধারণ সম্পাদক পদে আরেক প্রার্থী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য ফোরামের গোলাম মোস্তফা মন্টু। তিনি এক প্রকার আলোচনার বাইরেই রয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন তাকে ব্যবহার করা হয়েছে দু’নেতার স্বার্থে। ওই দু’নেতা মন্টুকে প্রার্থী করে অন্য প্রার্থীর হয়ে গোপনে কাজ করছেন বলে মন্তব্য তাদের।






















