চুয়াডাঙ্গা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কঠোর অবস্থানে পুলিশ, যশোরে অর্ধশত পয়েন্টে চেকপোস্ট

Padma Sangbad
৪১

যশোর সংবাদদাতা।।

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যশোর জেলা জুড়ে একযোগে ব্যাপক চেকপোস্ট ও তল্লাশি অভিযান । ছবি-গ্রামের কাগজ

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়ন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যশোর জেলা জুড়ে একযোগে ব্যাপক চেকপোস্ট ও তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষ নির্দেশনায় শনিবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা এই অভিযান চলে। পুরো অভিযানের তদারকি ও নেতৃত্বে ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। এমনকি তিনি নিজেই মাঠে নামেন।

যশোর জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযানের অংশ হিসেবে যশোর জেলা জুড়ে মোট ৪৯টি স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়। এসব চেকপোস্টে ১৪শ’ ৭০টি মোটরসাইকেল এবং ৫’শ ৪টি অন্যান্য যানবাহন (প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য) থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, হেলমেট, কাগজপত্রের অনিয়মসহ বিভিন্ন অপরাধে ৩৮টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ৩৮টি মামলা দায়ের করা হয়। এই অভিযানে জেলা ট্রাফিক পুলিশ, থানা পুলিশ, ফাঁড়ি ও পুলিশ ক্যাম্পের সমন্বয়ে প্রায় ৫শ’ পুলিশ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করেন। একযোগে এত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মাঠে নামায় শহরজুড়ে দৃশ্যমান কড়া নিরাপত্তা তৈরি হয়।

দেশব্যাপী চলমান এই বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে যশোর শহরের জজকোর্ট মোড়, দড়াটানা চৌরাস্তা, মণিহার চত্বর, চাঁচড়া চেকপোস্ট, পালবাড়ি মোড়সহ শহরের প্রধান প্রবেশপথ ও ব্যস্ততম মোড়গুলোতে পুলিশের একাধিক টিম মোতায়েন করা হয়। একইসঙ্গে সদর উপজেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড় ও প্রবেশপথে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

প্রতিটি চেকপোস্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থেকে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল আরোহী, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি চালক ও আরোহীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। মাদক বহন, অবৈধ অস্ত্র পরিবহন কিংবা অপরাধী চলাচল ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়।

অভিযান প্রসঙ্গে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করছে। যশোরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধ করতে এবং অপরাধীদের গতিবিধি শনাক্ত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ যানচলাচলে কঠোর অবস্থানে পুলিশ। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধের ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের চেকপোস্ট ও তল্লাশি অভিযান নিয়মিতভাবে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পরিচালনা করা হবে। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে।

আপডেট : ১২:০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কঠোর অবস্থানে পুলিশ, যশোরে অর্ধশত পয়েন্টে চেকপোস্ট

আপডেট : ১২:০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
৪১

যশোর সংবাদদাতা।।

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যশোর জেলা জুড়ে একযোগে ব্যাপক চেকপোস্ট ও তল্লাশি অভিযান । ছবি-গ্রামের কাগজ

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়ন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যশোর জেলা জুড়ে একযোগে ব্যাপক চেকপোস্ট ও তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষ নির্দেশনায় শনিবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা এই অভিযান চলে। পুরো অভিযানের তদারকি ও নেতৃত্বে ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। এমনকি তিনি নিজেই মাঠে নামেন।

যশোর জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযানের অংশ হিসেবে যশোর জেলা জুড়ে মোট ৪৯টি স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়। এসব চেকপোস্টে ১৪শ’ ৭০টি মোটরসাইকেল এবং ৫’শ ৪টি অন্যান্য যানবাহন (প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য) থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, হেলমেট, কাগজপত্রের অনিয়মসহ বিভিন্ন অপরাধে ৩৮টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ৩৮টি মামলা দায়ের করা হয়। এই অভিযানে জেলা ট্রাফিক পুলিশ, থানা পুলিশ, ফাঁড়ি ও পুলিশ ক্যাম্পের সমন্বয়ে প্রায় ৫শ’ পুলিশ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করেন। একযোগে এত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মাঠে নামায় শহরজুড়ে দৃশ্যমান কড়া নিরাপত্তা তৈরি হয়।

দেশব্যাপী চলমান এই বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে যশোর শহরের জজকোর্ট মোড়, দড়াটানা চৌরাস্তা, মণিহার চত্বর, চাঁচড়া চেকপোস্ট, পালবাড়ি মোড়সহ শহরের প্রধান প্রবেশপথ ও ব্যস্ততম মোড়গুলোতে পুলিশের একাধিক টিম মোতায়েন করা হয়। একইসঙ্গে সদর উপজেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড় ও প্রবেশপথে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

প্রতিটি চেকপোস্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থেকে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল আরোহী, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি চালক ও আরোহীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। মাদক বহন, অবৈধ অস্ত্র পরিবহন কিংবা অপরাধী চলাচল ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়।

অভিযান প্রসঙ্গে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করছে। যশোরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধ করতে এবং অপরাধীদের গতিবিধি শনাক্ত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ যানচলাচলে কঠোর অবস্থানে পুলিশ। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধের ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের চেকপোস্ট ও তল্লাশি অভিযান নিয়মিতভাবে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পরিচালনা করা হবে। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে।