গাংনীতে এক রাতেই ৩টি ট্রান্সফরমার চুরি, অনিশ্চয়তায় ৩শ বিঘা জমির ফসল

মেহেরপুর সংবাদদাতা।।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার করমদি মাঠ থেকে কৃষকদের সেচ পাম্পের তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।
ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় স্কিমের আওতায় থাকা প্রায় ৩শ বিঘা আবাদি জমির সেচ কার্যক্রম নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
রোববার (১০ মে) রাতের কোনো এক সময় গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদি গ্রামের মাঠ থেকে সৌরভ, পারুলা ও মিলনের পৃথক স্থানে থাকা তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়।
করমদি গ্রামের মিলন হোসেন জানান, রাতের আঁধারে সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমারটি চুরি করে নিয়ে গেছে চোরচক্র। এই সেচ প্রকল্প থেকেই তার সংসার চলে। এখন তার স্কিমের আওতায় থাকা প্রায় ১২০ বিঘা জমি সেচ সংকটে পড়বে। নতুন ট্রান্সফরমার কিনতে প্রায় এক লাখ টাকা লাগবে, যা তার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।
একই এলাকার আরেক ভুক্তভোগী সৌরভ হোসেন বলেন, সকালে মাঠে গিয়ে দেখেন খুঁটিতে থাকা ট্রান্সফরমারটি মাটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। ট্রান্সফরমারের ভেতরের তেল ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ চোরেরা নিয়ে গেছে। বিষয়টি বামন্দী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে জানানো হলে তারা পুরো ট্রান্সফরমারের মূল্য জমা দেওয়ার কথা জানায়।
পারুল খাতুন বলেন, তার ট্রান্সফরমারটি লোহার শেকল ও রড দিয়ে শক্তভাবে বাঁধা ছিল। তারপরও চোরেরা সেটি চুরি করে নিয়ে গেছে। একই রাতে তিনটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় প্রায় ৩২০ বিঘা ফসলি জমির সেচ কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়েছে।
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুতের বামন্দী জোনাল অফিসের এজিএম (কম) সৌমিক জানান, উপজেলার করমদি গ্রামের মাঠ থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার চুরির খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এসে নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করলে দ্রুত নতুন ট্রান্সফরমার সরবরাহ করা হবে।
গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন জানান, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে চোরচক্রের এক সদস্যকে চোরাই মালামালসহ আটক করেছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুরো চক্রকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


















