চুয়াডাঙ্গা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সাংবাদিক কন্ট্রোল করবেন’ বক্তব্যে ক্ষোভ।। দর্শনা প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ সভা, নিন্দা ও কঠোর হুশিয়ারি

Padma Sangbad
২৯

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।।

সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে জেলা প্রশাসকের প্রকাশ্য বাধা ও ইউএনও কে উদ্দেশ্য করে ‘সাংবাদিক কন্ট্রোল করবেন’ মন্তব্যের ঘটনায় এবার ক্ষোভে ফেটে পড়েছে দর্শনা প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমাজ। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার (২০ মে) বাদ মাগরিব দর্শনা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে জরুরি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা কোনো দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্র স্বীকৃত সাংবিধানিক অধিকার। একজন জেলা প্রশাসক সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হলেও তিনি কোনোভাবেই সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার অধিকার রাখেন না। সরকারি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে বাধা প্রদান এবং প্রকাশ্যে মাইকে ইউএনও উবায়দুর রহমান সাহেলকে উদ্দেশ্য করে ‘সাংবাদিক কন্ট্রোল করবেন’ মন্তব্য করা শুধু অসৌজন্যমূলক আচরণ নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং গণমাধ্যমকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল।
বক্তারা আরও বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব জনগণের সেবা করা, সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করা নয়। যারা মাঠে থেকে জনগণের সমস্যা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও বাস্তবতা তুলে ধরেন, তাদের প্রতি এমন তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ কোনো সভ্য প্রশাসনিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না। একজন জেলা প্রশাসকের মুখ থেকে এমন বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক, ন্যাক্কারজনক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পরিপন্থী।

তারা অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের নির্ধারিত সময়ের অনেক দেরিতে উপস্থিত হওয়ায় তীব্র গরমের মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। এরপর অনুষ্ঠান শুরু হলে সাংবাদিকরা স্বাভাবিক নিয়মে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে জেলা প্রশাসক বিরক্তি প্রকাশ করে ভিডিও করতে নিষেধ করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে ‘সাংবাদিক কন্ট্রোল করবেন’ বলে নির্দেশ দেন। এতে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

সভায় বক্তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার খর্বের যেকোনো অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা হবে। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ কিংবা ভয় দেখিয়ে সত্য প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। প্রশাসনের কোনো ব্যক্তি বা মহল যদি সাংবাদিকদের স্বাধীন পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান করেন, তাহলে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

সভা থেকে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশের দাবিও জানান বক্তারা।

দর্শনা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন, দর্শনা, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি চঞ্চল মেহমুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, সহ সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, হাসমত আলী, ওয়াসীম রয়েল, আব্দুর রহমান, সুকমল চন্দ্র দাস বাধন,ইমতিয়াজ রয়েল,ফরহাদ হোসেন সহ প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির সদস্যবৃন্দ।।

আপডেট : ০৮:৩৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

‘সাংবাদিক কন্ট্রোল করবেন’ বক্তব্যে ক্ষোভ।। দর্শনা প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ সভা, নিন্দা ও কঠোর হুশিয়ারি

আপডেট : ০৮:৩৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
২৯

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।।

সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে জেলা প্রশাসকের প্রকাশ্য বাধা ও ইউএনও কে উদ্দেশ্য করে ‘সাংবাদিক কন্ট্রোল করবেন’ মন্তব্যের ঘটনায় এবার ক্ষোভে ফেটে পড়েছে দর্শনা প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমাজ। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার (২০ মে) বাদ মাগরিব দর্শনা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে জরুরি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা কোনো দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্র স্বীকৃত সাংবিধানিক অধিকার। একজন জেলা প্রশাসক সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হলেও তিনি কোনোভাবেই সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার অধিকার রাখেন না। সরকারি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে বাধা প্রদান এবং প্রকাশ্যে মাইকে ইউএনও উবায়দুর রহমান সাহেলকে উদ্দেশ্য করে ‘সাংবাদিক কন্ট্রোল করবেন’ মন্তব্য করা শুধু অসৌজন্যমূলক আচরণ নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং গণমাধ্যমকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল।
বক্তারা আরও বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব জনগণের সেবা করা, সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করা নয়। যারা মাঠে থেকে জনগণের সমস্যা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও বাস্তবতা তুলে ধরেন, তাদের প্রতি এমন তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ কোনো সভ্য প্রশাসনিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না। একজন জেলা প্রশাসকের মুখ থেকে এমন বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক, ন্যাক্কারজনক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পরিপন্থী।

তারা অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের নির্ধারিত সময়ের অনেক দেরিতে উপস্থিত হওয়ায় তীব্র গরমের মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। এরপর অনুষ্ঠান শুরু হলে সাংবাদিকরা স্বাভাবিক নিয়মে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে জেলা প্রশাসক বিরক্তি প্রকাশ করে ভিডিও করতে নিষেধ করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে ‘সাংবাদিক কন্ট্রোল করবেন’ বলে নির্দেশ দেন। এতে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

সভায় বক্তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার খর্বের যেকোনো অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা হবে। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ কিংবা ভয় দেখিয়ে সত্য প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। প্রশাসনের কোনো ব্যক্তি বা মহল যদি সাংবাদিকদের স্বাধীন পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান করেন, তাহলে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

সভা থেকে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশের দাবিও জানান বক্তারা।

দর্শনা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন, দর্শনা, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি চঞ্চল মেহমুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, সহ সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, হাসমত আলী, ওয়াসীম রয়েল, আব্দুর রহমান, সুকমল চন্দ্র দাস বাধন,ইমতিয়াজ রয়েল,ফরহাদ হোসেন সহ প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির সদস্যবৃন্দ।।