চুয়াডাঙ্গা ০১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধে ইসরায়েলের গোপন সামরিক নেটওয়ার্কের দাবি

Padma Sangbad
১২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সময় মধ্যপ্রাচ্য ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে একটি বিস্তৃত গোপন সামরিক ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল ইসরায়েল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের অভ্যন্তরে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনার সুবিধার্থে ইসরায়েল ইরানের প্রতিবেশী দেশ আজারবাইজানসহ বিভিন্ন স্থানে গোপন ঘাঁটি স্থাপন করেছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজারবাইজানের দক্ষিণাঞ্চলে ইরান সীমান্তসংলগ্ন কয়েকটি গোপন ঘাঁটিতে ইসরায়েলি এলিট সামরিক ও গোয়েন্দা ইউনিট মোতায়েন ছিল। এসব ঘাঁটি ইরানের তাবরিজ শহর থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে অবস্থিত। সূত্রগুলোর দাবি, সেখান থেকে ড্রোন পরিচালনা, নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চালানো হতো।

তবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত আজারবাইজান দূতাবাস এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।

সূত্রগুলোর দাবি, ইসরায়েলের এই গোপন নেটওয়ার্ক শুধু আজারবাইজানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং আফ্রিকার সোমালিল্যান্ডেও তাদের সামরিক ও গোয়েন্দা উপস্থিতি ছিল। এর ফলে সংঘাতের সময় ইরানের উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম তিন দিকেই কৌশলগত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয় ইসরায়েল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই আজারবাইজানে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়। সীমান্ত এলাকায় আড়ি পাতার যন্ত্র এবং উন্নত গোয়েন্দা সরঞ্জাম স্থাপনের মাধ্যমে নজরদারি কার্যক্রম বাড়ানো হয়।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে এসব ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান রহমান মোকাদ্দামকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। এর পরদিন নাখচিভান বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। পাশাপাশি আজারবাইজানের নিরাপত্তা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পরিকল্পিত একটি বড় হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে সোমালিল্যান্ডকে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের জ্বালানি পুনরায় সরবরাহের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি ইরাকে দুটি গোপন লজিস্টিক ও উদ্ধারকেন্দ্র পরিচালনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গোপনে একটি আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল বলেও সূত্রগুলোর দাবি।

আপডেট : ০৯:৫১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

ইরান যুদ্ধে ইসরায়েলের গোপন সামরিক নেটওয়ার্কের দাবি

আপডেট : ০৯:৫১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
১২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সময় মধ্যপ্রাচ্য ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে একটি বিস্তৃত গোপন সামরিক ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল ইসরায়েল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের অভ্যন্তরে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনার সুবিধার্থে ইসরায়েল ইরানের প্রতিবেশী দেশ আজারবাইজানসহ বিভিন্ন স্থানে গোপন ঘাঁটি স্থাপন করেছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজারবাইজানের দক্ষিণাঞ্চলে ইরান সীমান্তসংলগ্ন কয়েকটি গোপন ঘাঁটিতে ইসরায়েলি এলিট সামরিক ও গোয়েন্দা ইউনিট মোতায়েন ছিল। এসব ঘাঁটি ইরানের তাবরিজ শহর থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে অবস্থিত। সূত্রগুলোর দাবি, সেখান থেকে ড্রোন পরিচালনা, নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চালানো হতো।

তবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত আজারবাইজান দূতাবাস এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।

সূত্রগুলোর দাবি, ইসরায়েলের এই গোপন নেটওয়ার্ক শুধু আজারবাইজানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং আফ্রিকার সোমালিল্যান্ডেও তাদের সামরিক ও গোয়েন্দা উপস্থিতি ছিল। এর ফলে সংঘাতের সময় ইরানের উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম তিন দিকেই কৌশলগত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয় ইসরায়েল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই আজারবাইজানে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়। সীমান্ত এলাকায় আড়ি পাতার যন্ত্র এবং উন্নত গোয়েন্দা সরঞ্জাম স্থাপনের মাধ্যমে নজরদারি কার্যক্রম বাড়ানো হয়।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে এসব ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান রহমান মোকাদ্দামকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। এর পরদিন নাখচিভান বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। পাশাপাশি আজারবাইজানের নিরাপত্তা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পরিকল্পিত একটি বড় হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে সোমালিল্যান্ডকে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের জ্বালানি পুনরায় সরবরাহের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি ইরাকে দুটি গোপন লজিস্টিক ও উদ্ধারকেন্দ্র পরিচালনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গোপনে একটি আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল বলেও সূত্রগুলোর দাবি।