আগে বলা হতো বিএনপি-জামায়াত, আমি বলতাম আওয়ামী-জামায়াত: জ্বালানি মন্ত্রী

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি।।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘আগে বলা হতো বিএনপি-জামায়াত। ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর হাজারীবাগের জনসভায় আমি বলেছিলাম, ‘‘বিএনপি-জামায়াত না, এটা আওয়ামী-জামায়াত।’’ তখন আমার অনেক বন্ধু-সহযোদ্ধা আমার প্রতি বিরক্ত হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করি, আমরা জামায়াতকে চিনি জামায়াত কি জিনিস!’
আজ শনিবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া কলেজ মাঠে জেলা বিএনপি এবং সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যৌথ উদ্যোগে দেশব্যাপী ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামী নিয়ে জ্বালানি মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর দেখলাম, জামায়াতের কেউ আগে ছাত্রলীগের ছিল, কেউ যুবলীগের ছিল, কেউ আওয়ামী লীগের ছিল। পতনের পর সবাই হয়ে গেল বিপ্লবী। আজ যে আমাদের মধ্যে নেই, তারও কোনো গ্যারান্টি নেই। এরা হলো গুপ্ত বাহিনী।’
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার উদ্দেশে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগের নেত্রী এত সাহস, পতনের পরে ভারতে গিয়ে বসে আছে। সেখান থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে হুংকার দিচ্ছে। তারেক রহমানের সরকারকে পতন করিয়ে দেবে। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি। জনগণ যে কদিনের জন্য আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে, আমরা সে কদিন দায়িত্ব পালন করব। হুমকি-ধামকি দিয়ে কিছু হবে না।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর সিরাজগঞ্জের মাটিতে এমন একটা নেতাকর্মী (বিএনপির) নাই যে আওয়ামী লীগ দ্বারা নির্যাতিত হয় নাই। আওয়ামী লীগ আমার নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার করেছে। অন্যায়ের দাঁড়িপাল্লা যখন ভারি হয়েছিল, তখনই জুলাই বিপ্লব হয়েছিল। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই বিপ্লবীদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করছে।’
জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, ‘তারেক রহমান যে সব ওয়াদা জনগণের কাছে করেছিলেন তা পালন করা শুরু করেছেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে।’
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাড়িতে বসে বসে খাচ্ছেন জানি, মামলার আসামি আপনারা তাও জানি, পুলিশ কেন ধরছে না তাও জানি। আমার বাহিনী দিয়ে বাড়ি থেকে উঠাইয়ে এনে শাস্তি দিতে পারি, কিন্তু আমরা আইনের শাসন মানি। পুলিশ আছে বিভিন্ন বাহিনী আছে, যারা আসামি তাদের গ্রেপ্তার করবে। আমরা করব না। তার অর্থ এই নয়, আপনারা ম্যানেজ হয়ে চলবেন।’
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম এমপি, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের এমপি মো. সেলিম রেজা, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ভিপি আইনুল হক, সাবেক সংসদ সদস্য এম আকবর আলী, ভিপি শামীম খান, মুন্সি জাহেদ আলম, নুর কায়েম সবুজ প্রমুখ।
























