চুয়াডাঙ্গা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমি জেল থেকে বলছি’ ছাত্রনেতা শান্তর হাত কড়া পড়া বিদায়ী দৃশ্যে উত্তাল মোংলা !

Padma Sangbad
৫০

মোংলা প্রতিনিধি।।

‘আমি জেলখানা থেকে বলছি আমি গর্বিত, আমি ছাত্রদল কর্মী। মোংলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আজ আমার এই কারাবরণ-যা পূর্বের যেকোনো কষ্টের চেয়ে হাজার গুণ বেশি বেদনাদায়ক।’

মোংলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সজীব মিয়া শান্তর এই আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস এবং গত ১ এপ্রিল তাকে নৌকায় করে জেলহাজতে প্রেরণের সময় হাত উঁচিয়ে বিদায় নেওয়ার দৃশ্যটি মোংলার মানুষকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া সেই ছবি ও বার্তার পর থেকেই স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও সহমর্মিতা তৈরি হয়েছে। এরই প্রতিফলন দেখা গেছে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বেলা ১১টায় মোংলা সরকারি কলেজ গেট চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ মার্চ ভোরে। বিষপান করা এক মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনুপম মজুমদারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় এখন পর্যন্ত সজীব মিয়া শান্ত ও যুবদল কর্মী হাফিজুর রহমান মানিকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বাদী চিকিৎসক ডা. অনুপম মজুমদারের অভিযোগ, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে তাঁর ওপর চড়াও হন এবং জরুরি বিভাগের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন, যা হাসপাতালের সেবামূলক পরিবেশকে ব্যাহত করে।

তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহিন দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসপাতালের সেবার মান উন্নত হলেও কিছু চিকিৎসকের অপেশাদার আচরণ ও গাফিলতির অভিযোগ রয়ে গেছে। তাদের মতে, শান্ত একজন ত্যাগী ছাত্রনেতা হিসেবে সেই অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়েই আজ মামলার শিকার হয়েছেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, চিকিৎসায় অবহেলা আড়াল করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে। তারা শান্তসহ আটক নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহিন ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে মোংলা থানা পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।

তবে শান্তর হাত উঁচিয়ে বিদায় নেওয়ার সেই দৃশ্য ইতোমধ্যেই জনমনে গভীর আবেগের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তার মুক্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই মোংলার বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

আপডেট : ১২:২৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

‘আমি জেল থেকে বলছি’ ছাত্রনেতা শান্তর হাত কড়া পড়া বিদায়ী দৃশ্যে উত্তাল মোংলা !

আপডেট : ১২:২৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
৫০

মোংলা প্রতিনিধি।।

‘আমি জেলখানা থেকে বলছি আমি গর্বিত, আমি ছাত্রদল কর্মী। মোংলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আজ আমার এই কারাবরণ-যা পূর্বের যেকোনো কষ্টের চেয়ে হাজার গুণ বেশি বেদনাদায়ক।’

মোংলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সজীব মিয়া শান্তর এই আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস এবং গত ১ এপ্রিল তাকে নৌকায় করে জেলহাজতে প্রেরণের সময় হাত উঁচিয়ে বিদায় নেওয়ার দৃশ্যটি মোংলার মানুষকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া সেই ছবি ও বার্তার পর থেকেই স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও সহমর্মিতা তৈরি হয়েছে। এরই প্রতিফলন দেখা গেছে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বেলা ১১টায় মোংলা সরকারি কলেজ গেট চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ মার্চ ভোরে। বিষপান করা এক মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনুপম মজুমদারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় এখন পর্যন্ত সজীব মিয়া শান্ত ও যুবদল কর্মী হাফিজুর রহমান মানিকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বাদী চিকিৎসক ডা. অনুপম মজুমদারের অভিযোগ, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে তাঁর ওপর চড়াও হন এবং জরুরি বিভাগের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন, যা হাসপাতালের সেবামূলক পরিবেশকে ব্যাহত করে।

তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহিন দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসপাতালের সেবার মান উন্নত হলেও কিছু চিকিৎসকের অপেশাদার আচরণ ও গাফিলতির অভিযোগ রয়ে গেছে। তাদের মতে, শান্ত একজন ত্যাগী ছাত্রনেতা হিসেবে সেই অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়েই আজ মামলার শিকার হয়েছেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, চিকিৎসায় অবহেলা আড়াল করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে। তারা শান্তসহ আটক নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহিন ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে মোংলা থানা পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।

তবে শান্তর হাত উঁচিয়ে বিদায় নেওয়ার সেই দৃশ্য ইতোমধ্যেই জনমনে গভীর আবেগের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তার মুক্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই মোংলার বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।