চুয়াডাঙ্গা ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে: বিরোধীদলীয় নেতা

Padma Sangbad
১৭

অনলাইন ডেস্ক।।
আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

আজ শনিবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসনসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।

বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘বিএনপি জাতির সাথে দেওয়া কথা রাখেনি। আমরা বিএনপিকে বলছি, দেশ এবং জাতির স্বার্থে আপনারা ভুল করছেন, ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে আসুন। জনরায়কে সম্মান করুন, জনরায়কে সম্মান করার পরিণতি কি হতে পারে দফায় দফায় দেখার পরেও যদি শিক্ষা না হয়, জীবনেও আপনাদের শিক্ষা হবে না।’

তিনি বলেন, ‘খুলনাবাসী আপনারা যে রায় দিয়েছিলেন, সেই রায়টিই আপনাদের কাছে চেয়েছিলাম। আর আমরা বলেছিলাম, এই রায় বাস্তবায়ন করা হবে সংসদে গিয়ে, আমাদের দায়িত্ব। চুরি, ডাকাতি, ইঞ্জিনিয়ারিং করে ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নেওয়া হোক। আমরা সংসদে যা আছি তাই নিয়ে আমরা সিংহের মতো লড়াই করে যাব। আমরা জানি সহজে কানে পানি ঢুকবে না, তখন সিরিঞ্জ দিয়ে যদি ঢুকাতে হয়, তাহলে আমরা ঢুকাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি ফয়সালা সংসদে না হয়, তাহলে যেখানে কথা বলতে মাননীয় স্পীকার বলতে হয় না, যেখানে কথা বলতে স্পীকারের অনুমোদন লাগে না। সেই খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর. রাজশাহী, বগুরার মাঠ সব জায়গা থেকে আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে। এই আগ্নেয়গিরির দাবানলে সমস্ত আবর্জনা পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘শত যন্ত্রণা বুকে নিয়ে নির্বাচনের ফলাফলকে আমরা মেনে নিয়েছি। দেশে একটা গৃহযুদ্ধ শুরু না হোক সেই জন্য আমরা মেনে নিয়েছিলাম। আমরা কারও বাপ-দাদার চোখ রাঙানোকে পরোয়া করব না। অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করবো না। আমাদের নেতৃবৃন্দ হারতে হারতে ফাঁসির তক্তায় দাঁড়িয়ে মুচকি হাসি দিয়ে শিখিয়ে দিয়েছেন জাতির জন্য প্রয়োজনে তোমাদেরকেও এই মুচকি হাসি দেওয়ার জন্য তৈরি থাকতে হবে। খানজাহান আলী, শাহাজালালের এই বাংলাদেশে জনগণ সেই মুচকি হাসি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। সরকারকে স্পষ্ট বলে দিচ্ছি, যদি এই দেশবাসী এবং আমরা দেখতে পাই আধিপত্যবাদের সামনে আপনারা মাথা নত করছেন, আপনাদেরকেও আমরা ছেড়ে কথা বলব না।’

সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সীমান্তে সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছে। পুশইনের নামে একটা দেশে তাদের নাগরিকদের অবৈধভাবে আমাদের দেশে ফেলে দিতে চাচ্ছে। আমাদের মুষ্টিমেয় বিজিবি সদস্য সীমান্তে যখন দাঁড়িয়ে গিয়েছে, জনগণ তখন তাদের ডান হাতে পরিণত হয়েছে। এই ডান হাত সারা বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ। আমরা চাই না আমাদের কোনো প্রতিবেশীর ঘুম এবং শান্তি কেড়ে নিতে। আবার কোনো প্রতিবেশী আমাদের দিকে তাদের কালো হাত বাড়াক, ওইটাও আমরা চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি কেউ আমাদের দিকে কালো হাত বাড়ায়, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বলছি- সেই কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এই বিপ্লব কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কোনো গোষ্ঠী এবং পরিবারকে তোষামোদ করার জন্য নয়। কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করার জন্য নয়। বরং দুনিয়ার বুকে স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, ইজ্জত, শক্তি, সাহস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য হবে আগামীর বিপ্লব।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেই অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি শোষণ, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমি যুব সমাজের প্রতি আর একবার প্রাণ খুলে আহ্বান জানাচ্ছি।’

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক ও নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার, ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, এনসিপির নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।

আপডেট : ০১:০১:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে: বিরোধীদলীয় নেতা

আপডেট : ০১:০১:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
১৭

অনলাইন ডেস্ক।।
আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

আজ শনিবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসনসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।

বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘বিএনপি জাতির সাথে দেওয়া কথা রাখেনি। আমরা বিএনপিকে বলছি, দেশ এবং জাতির স্বার্থে আপনারা ভুল করছেন, ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে আসুন। জনরায়কে সম্মান করুন, জনরায়কে সম্মান করার পরিণতি কি হতে পারে দফায় দফায় দেখার পরেও যদি শিক্ষা না হয়, জীবনেও আপনাদের শিক্ষা হবে না।’

তিনি বলেন, ‘খুলনাবাসী আপনারা যে রায় দিয়েছিলেন, সেই রায়টিই আপনাদের কাছে চেয়েছিলাম। আর আমরা বলেছিলাম, এই রায় বাস্তবায়ন করা হবে সংসদে গিয়ে, আমাদের দায়িত্ব। চুরি, ডাকাতি, ইঞ্জিনিয়ারিং করে ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নেওয়া হোক। আমরা সংসদে যা আছি তাই নিয়ে আমরা সিংহের মতো লড়াই করে যাব। আমরা জানি সহজে কানে পানি ঢুকবে না, তখন সিরিঞ্জ দিয়ে যদি ঢুকাতে হয়, তাহলে আমরা ঢুকাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি ফয়সালা সংসদে না হয়, তাহলে যেখানে কথা বলতে মাননীয় স্পীকার বলতে হয় না, যেখানে কথা বলতে স্পীকারের অনুমোদন লাগে না। সেই খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর. রাজশাহী, বগুরার মাঠ সব জায়গা থেকে আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে। এই আগ্নেয়গিরির দাবানলে সমস্ত আবর্জনা পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘শত যন্ত্রণা বুকে নিয়ে নির্বাচনের ফলাফলকে আমরা মেনে নিয়েছি। দেশে একটা গৃহযুদ্ধ শুরু না হোক সেই জন্য আমরা মেনে নিয়েছিলাম। আমরা কারও বাপ-দাদার চোখ রাঙানোকে পরোয়া করব না। অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করবো না। আমাদের নেতৃবৃন্দ হারতে হারতে ফাঁসির তক্তায় দাঁড়িয়ে মুচকি হাসি দিয়ে শিখিয়ে দিয়েছেন জাতির জন্য প্রয়োজনে তোমাদেরকেও এই মুচকি হাসি দেওয়ার জন্য তৈরি থাকতে হবে। খানজাহান আলী, শাহাজালালের এই বাংলাদেশে জনগণ সেই মুচকি হাসি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। সরকারকে স্পষ্ট বলে দিচ্ছি, যদি এই দেশবাসী এবং আমরা দেখতে পাই আধিপত্যবাদের সামনে আপনারা মাথা নত করছেন, আপনাদেরকেও আমরা ছেড়ে কথা বলব না।’

সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সীমান্তে সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছে। পুশইনের নামে একটা দেশে তাদের নাগরিকদের অবৈধভাবে আমাদের দেশে ফেলে দিতে চাচ্ছে। আমাদের মুষ্টিমেয় বিজিবি সদস্য সীমান্তে যখন দাঁড়িয়ে গিয়েছে, জনগণ তখন তাদের ডান হাতে পরিণত হয়েছে। এই ডান হাত সারা বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ। আমরা চাই না আমাদের কোনো প্রতিবেশীর ঘুম এবং শান্তি কেড়ে নিতে। আবার কোনো প্রতিবেশী আমাদের দিকে তাদের কালো হাত বাড়াক, ওইটাও আমরা চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি কেউ আমাদের দিকে কালো হাত বাড়ায়, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বলছি- সেই কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এই বিপ্লব কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কোনো গোষ্ঠী এবং পরিবারকে তোষামোদ করার জন্য নয়। কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করার জন্য নয়। বরং দুনিয়ার বুকে স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, ইজ্জত, শক্তি, সাহস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য হবে আগামীর বিপ্লব।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেই অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি শোষণ, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমি যুব সমাজের প্রতি আর একবার প্রাণ খুলে আহ্বান জানাচ্ছি।’

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক ও নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার, ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, এনসিপির নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।