চুয়াডাঙ্গা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় খেলাফত মজলিসের সমাবেশ: প্রধান অতিথি আল্লামা মামুনুল হক

Padma Sangbad
১২

স্টাফ রিপোর্টার:

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় এক বিশাল নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম) জেলা শাখা। গতকাল শনিবার বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গা শহরের সাহিদ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আমীর আল্লামা মামুনুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মুফতী শোয়াইব আহমাদ কাসেমী।

সমাবেশ শেষে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সংসদীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন আল্লামা মামুনুল হক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “জনগণের ভোটের রায় কার্যকর না করে এই সংসদ চলতে পারে না। অনতিবিলম্বে গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই রায় কার্যকর করতে বাধ্য হব।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ বরদাশত করা হবে না। আপনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি। কিন্তু এই রায় বাস্তবায়নে আপনারা যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখাচ্ছেন, তা এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি আপনাদের রক্ষা করতেই হবে।”

পাশাপাশি প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি যদি ভারতের সামান্যতম সম্মান থাকে, তবে পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি হিসেবে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের আদালতের হাতে সোপর্দ করাই হবে তাদের একমাত্র সঠিক পদক্ষেপ। এই দেশ কোনো বিদেশি প্রেসক্রিপশনে চলবে না এবং এ দেশের জনগণ আর কোনো আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না।”

অতীতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে মামুনুল হক বলেন, “১৯৭০ সালে জনগণের ম্যান্ডেটকে অবজ্ঞা করার ফলেই পশ্চিম পাকিস্তানি শোষকদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ঠিক একইভাবে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অপরাধে এ দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশছাড়া করেছে।”

খেলাফত মজলিসের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জুবায়ের খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ। তিনি বলেন, “বিএনপি গণভোটের বিষয় নিয়ে টালবাহানা করে জনগণের সাথে এক ধরনের প্রতারণা করছে। এই রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব করলে তাদেরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।”

সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শারাফাত হুসাইন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসনাত জালালী, কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মুহাম্মদ শাহরিয়ার আলম, মেহেরপুর জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা আব্দুল লতিফ খান, কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি মাওলানা আরিফুজ্জামান আরিফ, ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লালসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। পরিশেষে, সভাপতির বিশেষ মোনাজাত ও দোয়ার মাধ্যমে এই নাগরিক সমাবেশের সমাপ্তি ঘটে।

আপডেট : ০১:৫৪:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় খেলাফত মজলিসের সমাবেশ: প্রধান অতিথি আল্লামা মামুনুল হক

আপডেট : ০১:৫৪:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
১২

স্টাফ রিপোর্টার:

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় এক বিশাল নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম) জেলা শাখা। গতকাল শনিবার বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গা শহরের সাহিদ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আমীর আল্লামা মামুনুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মুফতী শোয়াইব আহমাদ কাসেমী।

সমাবেশ শেষে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সংসদীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন আল্লামা মামুনুল হক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “জনগণের ভোটের রায় কার্যকর না করে এই সংসদ চলতে পারে না। অনতিবিলম্বে গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই রায় কার্যকর করতে বাধ্য হব।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ বরদাশত করা হবে না। আপনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি। কিন্তু এই রায় বাস্তবায়নে আপনারা যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখাচ্ছেন, তা এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি আপনাদের রক্ষা করতেই হবে।”

পাশাপাশি প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি যদি ভারতের সামান্যতম সম্মান থাকে, তবে পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি হিসেবে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের আদালতের হাতে সোপর্দ করাই হবে তাদের একমাত্র সঠিক পদক্ষেপ। এই দেশ কোনো বিদেশি প্রেসক্রিপশনে চলবে না এবং এ দেশের জনগণ আর কোনো আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না।”

অতীতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে মামুনুল হক বলেন, “১৯৭০ সালে জনগণের ম্যান্ডেটকে অবজ্ঞা করার ফলেই পশ্চিম পাকিস্তানি শোষকদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ঠিক একইভাবে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অপরাধে এ দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশছাড়া করেছে।”

খেলাফত মজলিসের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জুবায়ের খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ। তিনি বলেন, “বিএনপি গণভোটের বিষয় নিয়ে টালবাহানা করে জনগণের সাথে এক ধরনের প্রতারণা করছে। এই রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব করলে তাদেরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।”

সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শারাফাত হুসাইন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসনাত জালালী, কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মুহাম্মদ শাহরিয়ার আলম, মেহেরপুর জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা আব্দুল লতিফ খান, কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি মাওলানা আরিফুজ্জামান আরিফ, ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লালসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। পরিশেষে, সভাপতির বিশেষ মোনাজাত ও দোয়ার মাধ্যমে এই নাগরিক সমাবেশের সমাপ্তি ঘটে।