আর্জেন্টিনার ৭-০ গোলের দাপুটে জয়

খেলাধুলা ডেস্ক।।
আন্তর্জাতিক বিরতির দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে স্মরণীয় এক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে আর্জেন্টিনা। রোববার রাতে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।
এর আগে বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফলে টানা দুই ম্যাচে দাপুটে জয় পেল তারা। এই দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে মোট ১১ বার বল পাঠিয়েছে আর্জেন্টিনা, বিপরীতে কোনো গোল হজম করেনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তোলে আর্জেন্টিনা। খেলা শুরুর মাত্র চার মিনিটের মাথায় বুরকিনা ফাসোর মুমুনি দিয়ালো বক্সের ভেতর আগুস্তিন জিয়াইকে ফাউল করলে সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।
পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন লাওতারো মার্তিনেজ। তবে বুরকিনা ফাসোর গোলরক্ষক রাজাক গুইরা তার প্রথম শটটি ঠেকিয়ে দেন। কিন্তু ফিরতি বলের দখল নিতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি মার্তিনেজ। দ্রুত বলের কাছে গিয়ে বাঁ পায়ের শটে জালে পাঠান তিনি। এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
জাতীয় দলের হয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করলেন মার্তিনেজ। বলিভিয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ের ম্যাচেও আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম গোলটি করেছিলেন তিনি। জাতীয় দলের জার্সিতে ৮৬ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা এখন ৪২। আর্জেন্টিনার হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার ৫৪ গোলের রেকর্ড ছোঁয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে ১২৫ গোল নিয়ে অনেকটাই এগিয়ে শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি।
অষ্টম মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে আর্জেন্টিনা। এবারও ঘটনার কেন্দ্রে মুমুনি দিয়ালো। বুরকিনা ফাসোর এই ডিফেন্ডার বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করে নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দেন। ফলে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা।
দাপট ধরে রেখে ১২ মিনিটে তৃতীয় গোলও পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। বক্সে ঢুকে জোরালো শটে বল জালে পাঠান জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি। জাতীয় দলের হয়ে এটিই তার প্রথম গোল।
ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটও পূর্ণ হয়নি, এর মধ্যেই তিন গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
৩৫ মিনিটে ব্যবধান ৪-০ করেন নিকোলাস পাস। ফাঁকা জায়গায় দারুণ সময়ে দৌড় দিয়ে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন তিনি।
এর মাত্র এক মিনিট পরই পঞ্চম গোল পায় আর্জেন্টিনা। এবার গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ। তার গোলেই প্রথমার্ধ শেষ হয় ৫-০ ব্যবধানে।
বিরতির পরও আর্জেন্টিনার দাপট কমেনি। ৫৭ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো। মাঠে নামার পরপরই জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন তরুণ এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। গোলরক্ষকের সঙ্গে একা হয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৬-০ করেন তিনি।
মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে হওয়ায় গোলটি মাস্তান্তুয়োনোর জন্য আরও বিশেষ হয়ে ওঠে। রিভার প্লেটের হয়ে খেলার সময় এই মাঠেই দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে গোল করেছিলেন তিনি। একই মাঠে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোলটিও তাই তার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকল।
পুরো ম্যাচেই আর্জেন্টিনার আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খেয়েছে বুরকিনা ফাসো। বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পরও একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে স্বাগতিকেরা।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আসে সপ্তম ও শেষ গোল। গোল করেন জিওভান্নি সিমেওনে। তার গোলে ৭-০ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
টানা দুই ম্যাচে ১১ গোল করে এবং একটিও গোল না খেয়ে আন্তর্জাতিক বিরতির সময়টা দারুণভাবে শেষ করল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
























