আলমডাঙ্গায় ২০৩ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ ২৬ মামলার আসামি গ্রেপ্তার, গোডাউন থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

দৈনিক পদ্মা সংবাদ :
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২০৩ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ মোঃ পিয়াল আহম্মেদ ওরফে পিয়াল মাহামুদ সাদ্দাম (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে ২৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া একটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে তিনি পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার এবং তাঁর ব্যবহৃত গোডাউন থেকে দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশের একটি আভিযানিক দল শুক্রবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে আলমডাঙ্গা থানাধীন মিয়াপাড়া-ক্যানালপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়।
এ সময় জনৈক কুদ্দুসের বাড়ির পেছনে শমসের মল্লিকের ডোবা পুকুরের উত্তর-পূর্ব কোণ থেকে পিয়াল আহম্মেদ ওরফে পিয়াল মাহামুদ সাদ্দামের হেফাজত থেকে ২০৩ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গোডাউন থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে আলমডাঙ্গা থানাধীন গোবিন্দপুর মাঠপাড়া গ্রামে তাঁর নিজস্ব গোডাউনে বিধি অনুযায়ী তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় গোডাউনের একটি টেবিলের নিচ থেকে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা অস্ত্র ও সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে—
১. ১৪ ইঞ্চি লম্বা একটি লোহার চাপাতি। ২. কাঠের বাটযুক্ত একটি দেশীয় লোহার কুড়াল। ৩. ১০ দশমিক ৫ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের দুটি লোহার ছুরি। ৪. কাঠের বাটযুক্ত ২৪ ইঞ্চি লম্বা একটি বড় লোহার ছোরা। ৫. স্টিলের বাটযুক্ত ৩৩ ইঞ্চি লম্বা একটি বড় ছোরা। ৬. ৪৪ দশমিক ৫ ইঞ্চি লম্বা একটি লোহার রড।
২৬টি মামলা বিচারাধীন, একটি মামলায় কারাদণ্ড
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত পিয়াল আহম্মেদ ওরফে পিয়াল মাহামুদ সাদ্দামের বিরুদ্ধে ২৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া জিআর-৪৪/২০ (আলমডাঙ্গা) মামলায় বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি ছিল।
পুলিশ তাঁকে জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচারাধীন বিষয় এবং আদালতের রায়ের তথ্য সংশ্লিষ্ট নথির ভিত্তিতে বিবেচ্য।
আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ ব্যবসা প্রতিরোধ এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।




















