চুয়াডাঙ্গা ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান তেলআবিবে হামলা করলে কঠোর জবাব দেবে ইসরায়েল

Padma Sangbad
১২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরানের হুমকির পর এবার সরাসরি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিল ইসরায়েল। তেলআবিবে যদি কোনও ধরনের হামলা হয়, তবে ইরান এমন প্রতিশোধমূলক জবাব পাবে, যা তারা আগে কখনও দেখেনি—এমনই কঠোর বার্তা দিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু।

সোমবার এক বক্তব্যে এই হুঁশিয়ারি দেন যুদ্ধবাজ এই প্রধানমন্ত্রী। এর আগের দিন রোববার (১৮ জানুয়ারি) কোনও দেশের নাম উল্লেখ না করে ইরান তাদের ‘শত্রুদের’ উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেয়। তেহরান জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর যেকোনও ধরনের হামলাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এই বক্তব্যের পরই নেতানিয়াহুর কড়া প্রতিক্রিয়া সামনে আসে। তিনি বলেন, যদি ইরান ভুল করেও আমাদের ওপর আক্রমণ চালায়, তাহলে আমরা এমন শক্তি দিয়ে জবাব দেব, যা তারা কল্পনাও করেনি।

নেতানিয়াহু আরও জানান, ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির দিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখছে ইসরায়েল। ইরানের শাসকবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের ‘সাহসিকতা’র প্রশংসাও করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মদদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে খামেনি-বিরোধী গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ তেহরানের। যদিও বর্তমানে সেই আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত, তবে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

শুরু থেকেই ইরান দাবি করে আসছে, এই বিক্ষোভের পেছনে আমেরিকা ও ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ সমর্থন রয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশকেই একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দায়ী আমেরিকা ও তার মিত্রদের ‘অমানবিক’ নিষেধাজ্ঞা। তিনি আরও বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি যেকোনও অবমাননা পুরো জাতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।

এদিকে, ইরানের গণবিক্ষোভে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিক্ষোভকারীদের সহায়তা পাঠানোর কথাও বলেন তিনি। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে শাসক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

এই সব ঘটনার প্রেক্ষাপটেই ইরানের আশঙ্কা, তাদের ওপর যেকোনও সময় হামলা হতে পারে। আশঙ্কার পেছনে বাস্তব কারণও রয়েছে। গত বছর ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষ চলাকালে নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় মার্কিন বোমারু বিমান ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলিতে হামলাও চালিয়েছিল।

আপডেট : ১০:০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

ইরান তেলআবিবে হামলা করলে কঠোর জবাব দেবে ইসরায়েল

আপডেট : ১০:০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
১২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরানের হুমকির পর এবার সরাসরি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিল ইসরায়েল। তেলআবিবে যদি কোনও ধরনের হামলা হয়, তবে ইরান এমন প্রতিশোধমূলক জবাব পাবে, যা তারা আগে কখনও দেখেনি—এমনই কঠোর বার্তা দিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু।

সোমবার এক বক্তব্যে এই হুঁশিয়ারি দেন যুদ্ধবাজ এই প্রধানমন্ত্রী। এর আগের দিন রোববার (১৮ জানুয়ারি) কোনও দেশের নাম উল্লেখ না করে ইরান তাদের ‘শত্রুদের’ উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেয়। তেহরান জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর যেকোনও ধরনের হামলাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এই বক্তব্যের পরই নেতানিয়াহুর কড়া প্রতিক্রিয়া সামনে আসে। তিনি বলেন, যদি ইরান ভুল করেও আমাদের ওপর আক্রমণ চালায়, তাহলে আমরা এমন শক্তি দিয়ে জবাব দেব, যা তারা কল্পনাও করেনি।

নেতানিয়াহু আরও জানান, ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির দিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখছে ইসরায়েল। ইরানের শাসকবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের ‘সাহসিকতা’র প্রশংসাও করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মদদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে খামেনি-বিরোধী গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ তেহরানের। যদিও বর্তমানে সেই আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত, তবে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

শুরু থেকেই ইরান দাবি করে আসছে, এই বিক্ষোভের পেছনে আমেরিকা ও ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ সমর্থন রয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশকেই একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দায়ী আমেরিকা ও তার মিত্রদের ‘অমানবিক’ নিষেধাজ্ঞা। তিনি আরও বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি যেকোনও অবমাননা পুরো জাতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।

এদিকে, ইরানের গণবিক্ষোভে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিক্ষোভকারীদের সহায়তা পাঠানোর কথাও বলেন তিনি। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে শাসক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

এই সব ঘটনার প্রেক্ষাপটেই ইরানের আশঙ্কা, তাদের ওপর যেকোনও সময় হামলা হতে পারে। আশঙ্কার পেছনে বাস্তব কারণও রয়েছে। গত বছর ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষ চলাকালে নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় মার্কিন বোমারু বিমান ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলিতে হামলাও চালিয়েছিল।