চুয়াডাঙ্গা ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনআইডি সংশোধনে কোন ভুলে লাগবে কোন কাগজ? জেনে নিন প্রয়োজনীয় নথির তালিকা

Padma Sangbad

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"remove":1,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

১০

অনলাইন ডেক্স।

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) নিজের নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম কিংবা ঠিকানায় ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে সংশোধনের ধরন ও ভুলের মাত্রা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকায় ভিন্নতা থাকতে পারে। তাই আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা জরুরি।
নাম সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নামের বানান বা আংশিক সংশোধনের জন্য সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদসহ নামের সঠিকতা প্রমাণের উপযোগী নথি প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজনে পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিবাহিত ব্যক্তিদের কাবিননামা কিংবা স্বামী-স্ত্রীর এনআইডির অনুলিপিও জমা দিতে হতে পারে।
অন্যদিকে, সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসএসসি বা সমমানের সনদের সত্যায়িত অনুলিপি, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা এবং জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের কপি চাওয়া হতে পারে। জটিল আবেদন হলে মূল কাগজপত্রসহ ব্যক্তিগত শুনানিতেও অংশ নিতে হতে পারে।
বাবা-মায়ের নাম সংশোধনে যেসব নথি লাগতে পারে
এনআইডিতে বাবা বা মায়ের নামের বানান, পদবি কিংবা সম্পূর্ণ নাম সংশোধনের জন্য শিক্ষাগত সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ এবং বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া নাগরিকত্ব বা চাকরিসংক্রান্ত প্রমাণপত্রও চাওয়া হতে পারে।
বাবা-মায়ের নাম বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসএসসি, এইচএসসি বা সমমানের সনদ কিংবা রেজিস্ট্রেশন কার্ড, বাবা-মায়ের এনআইডির সত্যায়িত অনুলিপি এবং অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র জমা দিতে হতে পারে। বাবা-মা মারা গেলে ক্ষেত্রবিশেষে ভাই-বোনদের এনআইডির অনুলিপিও প্রয়োজন হতে পারে।
জন্মতারিখ সংশোধনে প্রয়োজনীয় নথি
জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য প্রমাণের ওপর নির্ভর করে কাগজপত্রের ধরন নির্ধারিত হতে পারে।
এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সাধারণত সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার সনদের সত্যায়িত অনুলিপি প্রয়োজন হয়। জন্মতারিখের ব্যবধান অস্বাভাবিক হলে মূল সনদ প্রদর্শন কিংবা ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা আসতে পারে।
এসএসসি বা সমমানের নিচে শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এনআইডি ইস্যুর আগের তারিখের সার্ভিস বুক, এমপিওর কপি, জন্মনিবন্ধন সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট কিংবা নিকাহনামার মতো নথি চাওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে সিভিল সার্জনের বয়স নির্ধারণ প্রতিবেদনসহ অতিরিক্ত প্রমাণপত্রও জমা দিতে হতে পারে।
ঠিকানা সংশোধনে যেসব কাগজ লাগবে
এনআইডিতে বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানা সংশোধনের জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ, বিদ্যুৎ, গ্যাস বা টেলিফোন বিল, পৌরকর কিংবা চৌকিদারি করের রসিদ এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঠিকানা সংশোধন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। আর ভোটার এলাকা অপরিবর্তিত রেখে ঠিকানার বানান বা বাড়ি-সড়কের নম্বর সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রসহ আবেদন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের কোনো সদস্যের এনআইডির অনুলিপিও চাওয়া হতে পারে।
আবেদনের আগে যেসব বিষয় মনে রাখতে হবে
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশোধনের ধরন, আবেদনের তথ্য এবং জমা দেওয়া প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। জটিল বা বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শুনানি কিংবা সরেজমিন তদন্তের প্রয়োজনও হতে পারে।
তাই এনআইডি সংশোধনের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসের নির্দেশনা জেনে নেওয়া এবং তথ্যের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখা উচিত। এতে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় নথির ঘাটতির কারণে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

আপডেট : ০৬:২৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

এনআইডি সংশোধনে কোন ভুলে লাগবে কোন কাগজ? জেনে নিন প্রয়োজনীয় নথির তালিকা

আপডেট : ০৬:২৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১০

অনলাইন ডেক্স।

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) নিজের নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম কিংবা ঠিকানায় ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে সংশোধনের ধরন ও ভুলের মাত্রা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকায় ভিন্নতা থাকতে পারে। তাই আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা জরুরি।
নাম সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নামের বানান বা আংশিক সংশোধনের জন্য সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদসহ নামের সঠিকতা প্রমাণের উপযোগী নথি প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজনে পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিবাহিত ব্যক্তিদের কাবিননামা কিংবা স্বামী-স্ত্রীর এনআইডির অনুলিপিও জমা দিতে হতে পারে।
অন্যদিকে, সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসএসসি বা সমমানের সনদের সত্যায়িত অনুলিপি, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা এবং জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের কপি চাওয়া হতে পারে। জটিল আবেদন হলে মূল কাগজপত্রসহ ব্যক্তিগত শুনানিতেও অংশ নিতে হতে পারে।
বাবা-মায়ের নাম সংশোধনে যেসব নথি লাগতে পারে
এনআইডিতে বাবা বা মায়ের নামের বানান, পদবি কিংবা সম্পূর্ণ নাম সংশোধনের জন্য শিক্ষাগত সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ এবং বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া নাগরিকত্ব বা চাকরিসংক্রান্ত প্রমাণপত্রও চাওয়া হতে পারে।
বাবা-মায়ের নাম বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসএসসি, এইচএসসি বা সমমানের সনদ কিংবা রেজিস্ট্রেশন কার্ড, বাবা-মায়ের এনআইডির সত্যায়িত অনুলিপি এবং অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র জমা দিতে হতে পারে। বাবা-মা মারা গেলে ক্ষেত্রবিশেষে ভাই-বোনদের এনআইডির অনুলিপিও প্রয়োজন হতে পারে।
জন্মতারিখ সংশোধনে প্রয়োজনীয় নথি
জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য প্রমাণের ওপর নির্ভর করে কাগজপত্রের ধরন নির্ধারিত হতে পারে।
এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সাধারণত সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার সনদের সত্যায়িত অনুলিপি প্রয়োজন হয়। জন্মতারিখের ব্যবধান অস্বাভাবিক হলে মূল সনদ প্রদর্শন কিংবা ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা আসতে পারে।
এসএসসি বা সমমানের নিচে শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এনআইডি ইস্যুর আগের তারিখের সার্ভিস বুক, এমপিওর কপি, জন্মনিবন্ধন সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট কিংবা নিকাহনামার মতো নথি চাওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে সিভিল সার্জনের বয়স নির্ধারণ প্রতিবেদনসহ অতিরিক্ত প্রমাণপত্রও জমা দিতে হতে পারে।
ঠিকানা সংশোধনে যেসব কাগজ লাগবে
এনআইডিতে বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানা সংশোধনের জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ, বিদ্যুৎ, গ্যাস বা টেলিফোন বিল, পৌরকর কিংবা চৌকিদারি করের রসিদ এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঠিকানা সংশোধন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। আর ভোটার এলাকা অপরিবর্তিত রেখে ঠিকানার বানান বা বাড়ি-সড়কের নম্বর সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রসহ আবেদন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের কোনো সদস্যের এনআইডির অনুলিপিও চাওয়া হতে পারে।
আবেদনের আগে যেসব বিষয় মনে রাখতে হবে
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশোধনের ধরন, আবেদনের তথ্য এবং জমা দেওয়া প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। জটিল বা বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শুনানি কিংবা সরেজমিন তদন্তের প্রয়োজনও হতে পারে।
তাই এনআইডি সংশোধনের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসের নির্দেশনা জেনে নেওয়া এবং তথ্যের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখা উচিত। এতে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় নথির ঘাটতির কারণে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।