চুয়াডাঙ্গা ০৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিয়েভের দ্বিতীয় প্রধান সেতুতেও রুশ হামলা

Padma Sangbad
১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের দ্বিতীয় প্রধান সেতু পিভনিচনি (নর্দার্ন) ব্রিজে রুশ হামলায় দুইজন আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে রুশ ড্রোন হামলায় সেতুটির সড়কের অংশ ও ওপর দিয়ে থাকা ট্রলিবাসের বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো। এতে সেতুটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

এর আগে চলতি সপ্তাহে কিয়েভের পিভদেননি (সাউদার্ন) ব্রিজে একাধিকবার রুশ ড্রোন হামলা হয়। এর ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, রেল ও ট্রলিবাস যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। কিয়েভের মেয়র সতর্ক করে বলেছেন, ‘শত্রুরা কিয়েভকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে।’

দনিপ্রো নদীর ওপর নির্মিত এই দুটি সেতু কিয়েভের পশ্চিম ও পূর্ব অংশকে যুক্ত করেছে। বৃহস্পতিবারের আগে সেতু দুটিতে হামলার ঘটনা ঘটেনি। রুশ হামলার কারণে নদীর ওপর দিয়ে সড়ক, রেল ও ট্রলিবাস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ড্রোন হামলার আশঙ্কায় অন্যান্য পথেও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ফলে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শহরে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে।

শনিবার সকালে টেলিগ্রামে ক্লিৎসকো বলেন, পিভনিচনি ব্রিজে হামলার পর জরুরি সেবাদানকারী দল ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছে। তিনি জানান, সেতুটির বাম প্রান্ত থেকে ডান প্রান্তে যাওয়ার পথ আপাতত বন্ধ রয়েছে।

পিভদেননি ব্রিজে আগের হামলার পর শুক্রবার কিয়েভের প্রতিরক্ষা পরিষদ জরুরি বৈঠক করে। বৈঠকের পর ক্লিৎসকো বলেন, শহর এখন ‘অত্যন্ত সংকটজনক পরিস্থিতির’ মধ্যে রয়েছে। রাশিয়া কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরবরাহব্যবস্থা, আবাসিক এলাকা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রুশ ড্রোন দিয়ে সেতু পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলা কঠিন। তবে বারবার হামলা হলে সেতু বন্ধ রাখতে হতে পারে এবং এতে এর কাঠামোগত দুর্বলতা বাড়তে পারে। শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করা হলে সেতু ধসে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। কিয়েভের কয়েকটি সেতু এরই মধ্যে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। কারণ, বহু বছর ধরে এগুলো নকশায় নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যানবাহনের চাপ বহন করছে।

সেতু ধ্বংস হয়ে গেলে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেছেন ইউক্রেনের আইনপ্রণেতারা। এর মধ্যে ফেরি এবং অস্থায়ী ভাসমান সেতু ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রায় ৩০ লাখ মানুষের শহর কিয়েভে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এক অংশ থেকে অন্য অংশে যাতায়াত করেন। তাদের বড় একটি অংশ মেট্রোর ওপর নির্ভরশীল। তবে সেতুগুলোতে ধারাবাহিক হামলা হলে রাজধানী কার্যত দুই ভাগে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রাশিয়া জানিয়েছে, তাদের ড্রোন হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনীয় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি সেতু। একই সঙ্গে মস্কো আবারও বিদেশি নাগরিক, এমনকি কূটনীতিকদেরও কিয়েভ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলার জবাবেই ইউক্রেনের অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় হামলা চালানো হচ্ছে। তবে ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার যুদ্ধের অর্থায়নে সহায়তা করা তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করেই তারা রুশ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, পুতিন এখন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে হামলায় ‘কোনো নিয়ম’ মানছেন না। তিনি বলেন, রাশিয়া সেতু, তথ্যকেন্দ্র, ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, হাসপাতাল, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করে মানুষকে শহর ছেড়ে যেতে বাধ্য করতে চাইছে।

অন্যান্য হামলায় হতাহত

শনিবার ইউক্রেনের ওদেসা অঞ্চলের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরে রুশ হামলায় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি বেসামরিক জাহাজের এক নাবিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

এ ছাড়া রাতভর রুশ হামলায় ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, খারকিভ ও কিয়েভ অঞ্চলে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, রাশিয়ার দখলে থাকা পূর্বাঞ্চলীয় লুহানস্কে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন বলে মস্কো-নিযুক্ত আঞ্চলিক প্রধান জানিয়েছেন।

এদিকে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রতিবেশী মলদোভা জানিয়েছে, পাঁচটি রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমা অতিক্রম করে চারটি জেলার কয়েকটি এলাকার কাছে বিস্ফোরিত হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। ঘটনার প্রতিবাদে মলদোভা রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।

আপডেট : ১০:২৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

কিয়েভের দ্বিতীয় প্রধান সেতুতেও রুশ হামলা

আপডেট : ১০:২৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের দ্বিতীয় প্রধান সেতু পিভনিচনি (নর্দার্ন) ব্রিজে রুশ হামলায় দুইজন আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে রুশ ড্রোন হামলায় সেতুটির সড়কের অংশ ও ওপর দিয়ে থাকা ট্রলিবাসের বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো। এতে সেতুটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

এর আগে চলতি সপ্তাহে কিয়েভের পিভদেননি (সাউদার্ন) ব্রিজে একাধিকবার রুশ ড্রোন হামলা হয়। এর ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, রেল ও ট্রলিবাস যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। কিয়েভের মেয়র সতর্ক করে বলেছেন, ‘শত্রুরা কিয়েভকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে।’

দনিপ্রো নদীর ওপর নির্মিত এই দুটি সেতু কিয়েভের পশ্চিম ও পূর্ব অংশকে যুক্ত করেছে। বৃহস্পতিবারের আগে সেতু দুটিতে হামলার ঘটনা ঘটেনি। রুশ হামলার কারণে নদীর ওপর দিয়ে সড়ক, রেল ও ট্রলিবাস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ড্রোন হামলার আশঙ্কায় অন্যান্য পথেও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ফলে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শহরে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে।

শনিবার সকালে টেলিগ্রামে ক্লিৎসকো বলেন, পিভনিচনি ব্রিজে হামলার পর জরুরি সেবাদানকারী দল ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছে। তিনি জানান, সেতুটির বাম প্রান্ত থেকে ডান প্রান্তে যাওয়ার পথ আপাতত বন্ধ রয়েছে।

পিভদেননি ব্রিজে আগের হামলার পর শুক্রবার কিয়েভের প্রতিরক্ষা পরিষদ জরুরি বৈঠক করে। বৈঠকের পর ক্লিৎসকো বলেন, শহর এখন ‘অত্যন্ত সংকটজনক পরিস্থিতির’ মধ্যে রয়েছে। রাশিয়া কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরবরাহব্যবস্থা, আবাসিক এলাকা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রুশ ড্রোন দিয়ে সেতু পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলা কঠিন। তবে বারবার হামলা হলে সেতু বন্ধ রাখতে হতে পারে এবং এতে এর কাঠামোগত দুর্বলতা বাড়তে পারে। শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করা হলে সেতু ধসে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। কিয়েভের কয়েকটি সেতু এরই মধ্যে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। কারণ, বহু বছর ধরে এগুলো নকশায় নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যানবাহনের চাপ বহন করছে।

সেতু ধ্বংস হয়ে গেলে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেছেন ইউক্রেনের আইনপ্রণেতারা। এর মধ্যে ফেরি এবং অস্থায়ী ভাসমান সেতু ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রায় ৩০ লাখ মানুষের শহর কিয়েভে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এক অংশ থেকে অন্য অংশে যাতায়াত করেন। তাদের বড় একটি অংশ মেট্রোর ওপর নির্ভরশীল। তবে সেতুগুলোতে ধারাবাহিক হামলা হলে রাজধানী কার্যত দুই ভাগে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রাশিয়া জানিয়েছে, তাদের ড্রোন হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনীয় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি সেতু। একই সঙ্গে মস্কো আবারও বিদেশি নাগরিক, এমনকি কূটনীতিকদেরও কিয়েভ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলার জবাবেই ইউক্রেনের অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় হামলা চালানো হচ্ছে। তবে ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার যুদ্ধের অর্থায়নে সহায়তা করা তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করেই তারা রুশ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, পুতিন এখন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে হামলায় ‘কোনো নিয়ম’ মানছেন না। তিনি বলেন, রাশিয়া সেতু, তথ্যকেন্দ্র, ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, হাসপাতাল, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করে মানুষকে শহর ছেড়ে যেতে বাধ্য করতে চাইছে।

অন্যান্য হামলায় হতাহত

শনিবার ইউক্রেনের ওদেসা অঞ্চলের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরে রুশ হামলায় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি বেসামরিক জাহাজের এক নাবিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

এ ছাড়া রাতভর রুশ হামলায় ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, খারকিভ ও কিয়েভ অঞ্চলে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, রাশিয়ার দখলে থাকা পূর্বাঞ্চলীয় লুহানস্কে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন বলে মস্কো-নিযুক্ত আঞ্চলিক প্রধান জানিয়েছেন।

এদিকে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রতিবেশী মলদোভা জানিয়েছে, পাঁচটি রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমা অতিক্রম করে চারটি জেলার কয়েকটি এলাকার কাছে বিস্ফোরিত হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। ঘটনার প্রতিবাদে মলদোভা রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।