চুয়াডাঙ্গা ০১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমারখালীতে এনসিপির নেতার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করতে গিয়ে থানায় অবরুদ্ধ নেতাকর্মী

Padma Sangbad
৭৯

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা করতে গিয়ে দলটির ১৭ নেতাকর্মী থানায় অবরুদ্ধ থাকার অভিযোগ করেছেন।

রোববার রাতে কুমারখালী থানায় এজাহার দিতে যান এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি ও সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহাসহ ১৭ জন নেতাকর্মী।

এনসিপির জেলা আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি জানান, রাতে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ থাকায় তারা মামলার কাগজ প্রস্তুত করতে পারছিলেন না। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সহযোগিতা চাইলে তিনি থানার কম্পিউটারে এজাহার লিখে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে পরে নানা টালবাহানা করে তা লিখে দেওয়া হয়নি। তার দাবি, একপর্যায়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার আশপাশ ঘিরে ফেলায় তারা ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে রাত ১টার দিকে পুলিশি পাহারায় তারা কুষ্টিয়া শহরে পৌঁছান। এ সময় তাদের ওপর মব হামলার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।

দলটির জেলা সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহা অভিযোগ করেন, পুলিশ মামলা নিতে নানা অজুহাত দেখিয়েছে। রাত ১২টার দিকে তাদের জানানো হয় থানায় মামলা লেখা সম্ভব নয়। এ সময় দুই শতাধিক বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী থানার ভেতরে ঢুকে তাদের উদ্দেশে বিভিন্ন স্লোগান দেন বলে দাবি করেন তিনি। এই ঘটনার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে তিনি বলেন, হামলায় কারা জড়িত তা ভিডিও ফুটেজ দেখলে স্পষ্ট হবে।

তবে এনসিপির এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বী। তিনি জানান, এই ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে সামান্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীর জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, থানার ভেতরে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন, তবে কাউকে অবরুদ্ধ রাখা হয়নি।

মামলা না নেওয়ার বিষয়ে ওসি বলেন, এনসিপির নেতাকর্মীরা লিখিত এজাহার নিয়ে এলে সঙ্গে সঙ্গে মামলা নেওয়া হতো। কিন্তু তারা কোনো লিখিত এজাহার নিয়ে আসেননি। থানার কম্পিউটারে এজাহার লিখে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে না থাকায় এবং হামলার সুনির্দিষ্ট বিবরণ বা কারা জড়িত তা জানা না থাকায় নিজের পক্ষ থেকে মামলা লিখে দেওয়া সম্ভব ছিল না। তবে এনসিপির নেতাকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতার কথা জানালে পুলিশি প্রটোকল দিয়ে তাদের নিরাপদে কুষ্টিয়া শহর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।

এর আগে গত রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে লালন আখড়াবাড়ি থেকে গান শুনে বের হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তার গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে গ্লাস ভাঙচুর করা হয়, যার ফলে মাজার এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশি পাহারায় তাকে মাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করে ঢাকার উদ্দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

আপডেট : ০৪:১৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

কুমারখালীতে এনসিপির নেতার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করতে গিয়ে থানায় অবরুদ্ধ নেতাকর্মী

আপডেট : ০৪:১৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
৭৯

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা করতে গিয়ে দলটির ১৭ নেতাকর্মী থানায় অবরুদ্ধ থাকার অভিযোগ করেছেন।

রোববার রাতে কুমারখালী থানায় এজাহার দিতে যান এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি ও সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহাসহ ১৭ জন নেতাকর্মী।

এনসিপির জেলা আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি জানান, রাতে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ থাকায় তারা মামলার কাগজ প্রস্তুত করতে পারছিলেন না। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সহযোগিতা চাইলে তিনি থানার কম্পিউটারে এজাহার লিখে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে পরে নানা টালবাহানা করে তা লিখে দেওয়া হয়নি। তার দাবি, একপর্যায়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার আশপাশ ঘিরে ফেলায় তারা ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে রাত ১টার দিকে পুলিশি পাহারায় তারা কুষ্টিয়া শহরে পৌঁছান। এ সময় তাদের ওপর মব হামলার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।

দলটির জেলা সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহা অভিযোগ করেন, পুলিশ মামলা নিতে নানা অজুহাত দেখিয়েছে। রাত ১২টার দিকে তাদের জানানো হয় থানায় মামলা লেখা সম্ভব নয়। এ সময় দুই শতাধিক বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী থানার ভেতরে ঢুকে তাদের উদ্দেশে বিভিন্ন স্লোগান দেন বলে দাবি করেন তিনি। এই ঘটনার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে তিনি বলেন, হামলায় কারা জড়িত তা ভিডিও ফুটেজ দেখলে স্পষ্ট হবে।

তবে এনসিপির এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বী। তিনি জানান, এই ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে সামান্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীর জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, থানার ভেতরে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন, তবে কাউকে অবরুদ্ধ রাখা হয়নি।

মামলা না নেওয়ার বিষয়ে ওসি বলেন, এনসিপির নেতাকর্মীরা লিখিত এজাহার নিয়ে এলে সঙ্গে সঙ্গে মামলা নেওয়া হতো। কিন্তু তারা কোনো লিখিত এজাহার নিয়ে আসেননি। থানার কম্পিউটারে এজাহার লিখে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে না থাকায় এবং হামলার সুনির্দিষ্ট বিবরণ বা কারা জড়িত তা জানা না থাকায় নিজের পক্ষ থেকে মামলা লিখে দেওয়া সম্ভব ছিল না। তবে এনসিপির নেতাকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতার কথা জানালে পুলিশি প্রটোকল দিয়ে তাদের নিরাপদে কুষ্টিয়া শহর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।

এর আগে গত রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে লালন আখড়াবাড়ি থেকে গান শুনে বের হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তার গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে গ্লাস ভাঙচুর করা হয়, যার ফলে মাজার এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশি পাহারায় তাকে মাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করে ঢাকার উদ্দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।