চুয়াডাঙ্গা ০২:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজা অভিমুখে ৪৪ দেশের ১০০ জাহাজের যাত্রা শুরু

Padma Sangbad
৪৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইসরায়েলের কঠোর নজরদারি ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ইউরোপ থেকে গাজার মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে একটি বিশাল নৌবহর সমুদ্র পথে যাত্রা শুরু করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক কর্মীরা অংশগ্রহণকারী এই মিশনকে বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সংগঠকরা জানিয়েছেন, এই নৌবহরে অন্তত ৪৪টি দেশের প্রতিনিধি এবং প্রায় ১০০টি জাহাজ একত্রিত হয়েছে। নৌবহরের প্রথম ধাপে ডজনখানেক ছোট আকারের জাহাজ রয়েছে, যা চিকিৎসক, মানবিক কর্মী, স্বেচ্ছাসেবী এবং জরুরি সাহায্য সামগ্রী বহন করছে। এই বহর ৩১ আগস্ট স্পেনের একটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে এবং বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) তিউনিসিয়ায় দ্বিতীয় দলে যোগ দিয়েছে।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার তথ্যানুযায়ী, ছয়টি মহাদেশের বিভিন্ন দেশ এই অভিযানে অংশ নিয়েছে। এতে রয়েছে স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। অংশগ্রহণকারীরা কোনো সরকার বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়; তারা সম্পূর্ণভাবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

নৌবহরটি চারটি প্রধান কোয়ালিশন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এতে স্বেচ্ছাসেবী, চিকিৎসক, মানবিক কর্মী, শিল্পী, ধর্মীয় নেতা, আইনজীবী, সমাজবিদ এবং নাবিকরা অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের একত্রিত করেছে শুধু মানবিক মর্যাদা, অহিংস কর্মের শক্তি এবং একটি মূল লক্ষ্য—গাজার অবরোধ ও গণহত্যা বন্ধ করা।

বার্সেলোনার প্লাকা ডেল রেই-তে এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার কারণে নির্দিষ্ট জাহাজ ও বন্দরের তথ্য প্রকাশ করা হবে না। তবে প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার পথ সম্পন্ন করতে ফ্লোটিলাকে ৭-৮ দিন সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফ্লোটিলা হলো একটি নৌবহর, যা খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী সংগ্রহ করে সংকটাপন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেয়। যখন বিমান বা স্থল রুট বন্ধ থাকে বা নিরাপদ নয়, তখন এই ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়।

২০০৭ সালের পর থেকে ইসরায়েল গাজার আকাশ ও জলসীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। এর ফলে পণ্য ও মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে গেছে। গাজার বিমানবন্দর যুদ্ধের আগে কার্যকর ছিল না, কারণ ২০০১ সালে ইয়াসির আরাফাত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে ধ্বংস হয়ে যায়।

এ কারণে গাজার অবরোধ ভাঙতে এবং জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এই ফ্লোটিলা সমুদ্রপথে এগিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে এটি একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠাচ্ছে যে, গাজার অবরোধ অবিলম্বে শেষ হতে হবে।

বিশ্বজুড়ে এই ধরনের ফ্লোটিলা অভিযানের মাধ্যমে কেবল সরবরাহ পৌঁছানোই নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবিক সংকটের দিকে নজর দেওয়া হয়। এটি দেখায় যে সাধারণ মানুষও সক্রিয়ভাবে ন্যায় ও মানবতার পক্ষে কাজ করতে পারে।।

আপডেট : ১২:৫২:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গাজা অভিমুখে ৪৪ দেশের ১০০ জাহাজের যাত্রা শুরু

আপডেট : ১২:৫২:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
৪৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইসরায়েলের কঠোর নজরদারি ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ইউরোপ থেকে গাজার মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে একটি বিশাল নৌবহর সমুদ্র পথে যাত্রা শুরু করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক কর্মীরা অংশগ্রহণকারী এই মিশনকে বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সংগঠকরা জানিয়েছেন, এই নৌবহরে অন্তত ৪৪টি দেশের প্রতিনিধি এবং প্রায় ১০০টি জাহাজ একত্রিত হয়েছে। নৌবহরের প্রথম ধাপে ডজনখানেক ছোট আকারের জাহাজ রয়েছে, যা চিকিৎসক, মানবিক কর্মী, স্বেচ্ছাসেবী এবং জরুরি সাহায্য সামগ্রী বহন করছে। এই বহর ৩১ আগস্ট স্পেনের একটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে এবং বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) তিউনিসিয়ায় দ্বিতীয় দলে যোগ দিয়েছে।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার তথ্যানুযায়ী, ছয়টি মহাদেশের বিভিন্ন দেশ এই অভিযানে অংশ নিয়েছে। এতে রয়েছে স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। অংশগ্রহণকারীরা কোনো সরকার বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়; তারা সম্পূর্ণভাবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

নৌবহরটি চারটি প্রধান কোয়ালিশন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এতে স্বেচ্ছাসেবী, চিকিৎসক, মানবিক কর্মী, শিল্পী, ধর্মীয় নেতা, আইনজীবী, সমাজবিদ এবং নাবিকরা অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের একত্রিত করেছে শুধু মানবিক মর্যাদা, অহিংস কর্মের শক্তি এবং একটি মূল লক্ষ্য—গাজার অবরোধ ও গণহত্যা বন্ধ করা।

বার্সেলোনার প্লাকা ডেল রেই-তে এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার কারণে নির্দিষ্ট জাহাজ ও বন্দরের তথ্য প্রকাশ করা হবে না। তবে প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার পথ সম্পন্ন করতে ফ্লোটিলাকে ৭-৮ দিন সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফ্লোটিলা হলো একটি নৌবহর, যা খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী সংগ্রহ করে সংকটাপন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেয়। যখন বিমান বা স্থল রুট বন্ধ থাকে বা নিরাপদ নয়, তখন এই ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়।

২০০৭ সালের পর থেকে ইসরায়েল গাজার আকাশ ও জলসীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। এর ফলে পণ্য ও মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে গেছে। গাজার বিমানবন্দর যুদ্ধের আগে কার্যকর ছিল না, কারণ ২০০১ সালে ইয়াসির আরাফাত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে ধ্বংস হয়ে যায়।

এ কারণে গাজার অবরোধ ভাঙতে এবং জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এই ফ্লোটিলা সমুদ্রপথে এগিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে এটি একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠাচ্ছে যে, গাজার অবরোধ অবিলম্বে শেষ হতে হবে।

বিশ্বজুড়ে এই ধরনের ফ্লোটিলা অভিযানের মাধ্যমে কেবল সরবরাহ পৌঁছানোই নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবিক সংকটের দিকে নজর দেওয়া হয়। এটি দেখায় যে সাধারণ মানুষও সক্রিয়ভাবে ন্যায় ও মানবতার পক্ষে কাজ করতে পারে।।