চুয়াডাঙ্গা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা, ১১৬ মণ্ডপে পূজার সার্বিক নিরাপত্তার নির্দেশ

Padma Sangbad
১২

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দঘন এবং সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ প্রস্তুতিমূলক সভার আয়োজন করা হয়।
চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী।
সভায় জানানো হয়, চলতি বছর চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলায় মোট ১১৬টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা। এর মধ্যে দামুড়হুদা উপজেলায় ২০টি, জীবননগর উপজেলায় ২৪টি, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৩৩টি এবং আলমডাঙ্গা উপজেলায় সর্বাধিক ৩৯টি মণ্ডপে উদযাপিত হবে দেবী দুর্গার আরাধনা।
পূজা চলাকালীন সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রতিটি মণ্ডপে বাধ্যতামূলক সিসিটিভি ও নাইটভিশন ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা রাখা এবং ইভটিজিং প্রতিরোধে নারী ও পুরুষ দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আজান ও নামাজের সময় মণ্ডপের ঢাক-ঢোল ও সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি বিজয়া দশমীর দিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার সভায় স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে। পূজাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো প্রোপাগান্ডা বা অপপ্রচার চালানো হলে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো মণ্ডপের আশেপাশে বড় মেলা বসানো যাবে না এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পূজা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে পর্যাপ্ত নৈশ স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন রাখতে হবে।”
সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরীফ, পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তার, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, এনএসআইয়ের সহকারী পরিচালক এস এম তারিকুল, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম রঞ্জন দেবনাথ, জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক উৎপল বিশ্বাস, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির প্রধান সমন্বায়ক হেমন্ত কুমার সিংহ রায়, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি ও জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমসহ বিভিন্ন মণ্ডপ কমিটির নেতারা।।

আপডেট : ১২:১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা, ১১৬ মণ্ডপে পূজার সার্বিক নিরাপত্তার নির্দেশ

আপডেট : ১২:১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
১২

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দঘন এবং সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ প্রস্তুতিমূলক সভার আয়োজন করা হয়।
চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী।
সভায় জানানো হয়, চলতি বছর চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলায় মোট ১১৬টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা। এর মধ্যে দামুড়হুদা উপজেলায় ২০টি, জীবননগর উপজেলায় ২৪টি, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৩৩টি এবং আলমডাঙ্গা উপজেলায় সর্বাধিক ৩৯টি মণ্ডপে উদযাপিত হবে দেবী দুর্গার আরাধনা।
পূজা চলাকালীন সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রতিটি মণ্ডপে বাধ্যতামূলক সিসিটিভি ও নাইটভিশন ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা রাখা এবং ইভটিজিং প্রতিরোধে নারী ও পুরুষ দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আজান ও নামাজের সময় মণ্ডপের ঢাক-ঢোল ও সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি বিজয়া দশমীর দিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার সভায় স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে। পূজাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো প্রোপাগান্ডা বা অপপ্রচার চালানো হলে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো মণ্ডপের আশেপাশে বড় মেলা বসানো যাবে না এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পূজা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে পর্যাপ্ত নৈশ স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন রাখতে হবে।”
সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরীফ, পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তার, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, এনএসআইয়ের সহকারী পরিচালক এস এম তারিকুল, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম রঞ্জন দেবনাথ, জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক উৎপল বিশ্বাস, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির প্রধান সমন্বায়ক হেমন্ত কুমার সিংহ রায়, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি ও জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমসহ বিভিন্ন মণ্ডপ কমিটির নেতারা।।