চুয়াডাঙ্গা ০২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার ভোট চাই

Padma Sangbad
৫৩

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, নতুন গঠিত নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি এবং দলটি এই কমিশনের ওপর আস্থা গঠনের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি জানান, এই কমিশন দলীয় সরকারের অধীনে নয় বরং অন্তর্বর্তী সরকারের পর গঠিত হওয়ায় পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি। ড. আযাদের নেতৃত্বে জামায়াতের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল এই বৈঠকে অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা ছিলেন- সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার।
ড. আযাদ বলেন, “আমরা সিইসিকে বলেছি জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে। যে সরকারই নির্বাচনকালীন দায়িত্বে থাকুক না কেন—তত্ত্বাবধায়ক হোক বা অন্তর্বর্তীকালীন—সেই সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে তা আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সরকারি দলের প্রার্থীরা প্রভাব বিস্তার করে জয়ী হন, যা সুষ্ঠু ভোটের পথে বাধা।

জামায়াত নির্বাচন ব্যবস্থায় “সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি (PR)” চালুর দাবি জানায়, যা নমিনেশন বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর হতে পারে বলে মনে করেন ড. আযাদ। তিনি বলেন, “আমরা ১ শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে আসন বণ্টনের প্রস্তাব দিয়েছি।”

তিনি আরো জানান, প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা দেশের বাইরে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে বড় ভূমিকা রাখছেন, তাই তাদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশন উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে।

জামায়াতের নেতা বলেন, “আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন আমাদের নিবন্ধন ও প্রতীকের গেজেট প্রকাশ করেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় যে বেআইনিভাবে আমাদের নিবন্ধন বাতিল ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তা ছিল চরম অন্যায়। কমিশনের এই পদক্ষেপ গণআন্দোলনের একটি সফল পরিণতি।”

ড. আযাদ বলেন, “আমরা আশা করি, নতুন বাংলাদেশের যাত্রায় নির্বাচন কমিশন বাস্তবভিত্তিক সংস্কার করবে, শুধু কাগজে নয়। জনতার প্রত্যাশা পূরণে সত্যিকারের সুষ্ঠু ভোট আয়োজন জরুরি।” তিনি বলেন, “যেসব দাবি কমিশনকে জানিয়েছি, সেগুলো কমিশনেরই দায়িত্বের মধ্যে পড়ে এবং ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমেও আমরা সেগুলো তুলে ধরেছি।”

আপডেট : ০১:১৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার ভোট চাই

আপডেট : ০১:১৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
৫৩

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, নতুন গঠিত নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি এবং দলটি এই কমিশনের ওপর আস্থা গঠনের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি জানান, এই কমিশন দলীয় সরকারের অধীনে নয় বরং অন্তর্বর্তী সরকারের পর গঠিত হওয়ায় পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি। ড. আযাদের নেতৃত্বে জামায়াতের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল এই বৈঠকে অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা ছিলেন- সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার।
ড. আযাদ বলেন, “আমরা সিইসিকে বলেছি জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে। যে সরকারই নির্বাচনকালীন দায়িত্বে থাকুক না কেন—তত্ত্বাবধায়ক হোক বা অন্তর্বর্তীকালীন—সেই সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে তা আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সরকারি দলের প্রার্থীরা প্রভাব বিস্তার করে জয়ী হন, যা সুষ্ঠু ভোটের পথে বাধা।

জামায়াত নির্বাচন ব্যবস্থায় “সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি (PR)” চালুর দাবি জানায়, যা নমিনেশন বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর হতে পারে বলে মনে করেন ড. আযাদ। তিনি বলেন, “আমরা ১ শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে আসন বণ্টনের প্রস্তাব দিয়েছি।”

তিনি আরো জানান, প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা দেশের বাইরে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে বড় ভূমিকা রাখছেন, তাই তাদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশন উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে।

জামায়াতের নেতা বলেন, “আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন আমাদের নিবন্ধন ও প্রতীকের গেজেট প্রকাশ করেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় যে বেআইনিভাবে আমাদের নিবন্ধন বাতিল ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তা ছিল চরম অন্যায়। কমিশনের এই পদক্ষেপ গণআন্দোলনের একটি সফল পরিণতি।”

ড. আযাদ বলেন, “আমরা আশা করি, নতুন বাংলাদেশের যাত্রায় নির্বাচন কমিশন বাস্তবভিত্তিক সংস্কার করবে, শুধু কাগজে নয়। জনতার প্রত্যাশা পূরণে সত্যিকারের সুষ্ঠু ভোট আয়োজন জরুরি।” তিনি বলেন, “যেসব দাবি কমিশনকে জানিয়েছি, সেগুলো কমিশনেরই দায়িত্বের মধ্যে পড়ে এবং ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমেও আমরা সেগুলো তুলে ধরেছি।”