ঝিকরগাছায় অপ্রাপ্তবয়স্ক কলেজছাত্রীর গোপন বিয়ের আসর পণ্ড করল প্রশাসন, পুলিশ হেফাজতে ছাত্রী

যশোর প্রতিনিধি:
যশোরের ঝিকরগাছায় একাদশ শ্রেণির এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কলেজছাত্রীর গোপন ও অসম বিয়ের আয়োজন পণ্ড করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনতা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঝিকরগাছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মোড়সংলগ্ন কালভার্ট এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পুলিশ ওই কলেজছাত্রী ঐশ্বরিয়া বসুকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। ঐশ্বরিয়া বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার খরণখালী গ্রামের তপন ও অর্পণা বসু দম্পতির মেয়ে এবং তিনি স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিবারের অমতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অভিমান করে বাড়ি ছেড়েছিলেন ওই ছাত্রী। প্রথমে ট্রেনে চেপে তিনি ঝিকরগাছা রেলস্টেশনে এসে পৌঁছান। সেখানে মোবারকপুর রেললাইনপাড়ের এক নারী তাকে ফুসলিয়ে নিজের বাড়িতে তিন দিন ধরে আশ্রয় দেন। পরবর্তীতে ওই আশ্রয়দাতা নারীসহ একটি অসাধু চক্রের সহায়তায় এই অসম বিয়ের আয়োজন চূড়ান্ত করা হয়।
বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার খবরটি গোপনে জানতে পেরে ঝিকরগাছা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে মুঠোফোনে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) জানান। খবর পেয়ে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল্লাহ দ্রুত ঝিকরগাছা থানা-পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে রাস্তার খোলা স্থানে কাজি ডেকে এমন অস্বাভাবিক বিয়ের আয়োজন চলতে দেখে স্থানীয় লোকজনের মনে সন্দেহ জাগে। সাধারণ মানুষ সেখানে ভিড় জমালে পরিস্থিতি টের পেয়ে কথিত বর ও ভুয়া কাজি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় এক চা-দোকানি শিমুল সাহসিকতা দেখিয়ে মেয়েটিকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখেন।
খবর পেয়ে ঝিকরগাছা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই হোসাইনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ভুয়া বিয়ের আয়োজনের সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্ত কথিত বর ও আশ্রয়দাতা নারীকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম সাইফুল্লাহ এবং ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান যৌথভাবে জানান, উদ্ধার হওয়া কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















