চুয়াডাঙ্গা ১২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের রাজনীতিতে সৌহার্দের বার্তা

Padma Sangbad
৫২

অনলাইন ডেস্ক।।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বৈরিতা, মুখোমুখি অবস্থান ও প্রতিহিংসার রাজনীতির যে চিত্র ছিল, সেখানে এক টেবিলে শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। একসময় যেসব রাজনৈতিক দল একে অপরের মুখ দেখাও এড়িয়ে চলত, আজ তারাই জাতীয় স্বার্থ, গণতন্ত্র ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির প্রশ্নে একই জায়গায় বসছে। এই দৃশ্য এখন প্রতীকী নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতারা এক টেবিলে বসে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের নজির রেখেছেন। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাঝেও এর প্রভাব পড়েছেÑ পুরনো বিভাজন ভুলে সংযমী আচরণ ও সহাবস্থানের প্রবণতা বাড়ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সৌহার্দ কেবল শোকের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং এটি যদি সংলাপ, সহনশীলতা ও প্রতিযোগিতার রাজনীতিতে রূপ নেয়, তাহলে তা দেশের গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তি দেবে। প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার সংস্কৃতির বদলে মতপার্থক্য সত্ত্বেও একসঙ্গে বসার এই চর্চা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী গতকাল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে। এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখি। এটা গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গল। তবে প্রতিহিংসা থাকবে না। চক্রান্ত থাকবে না। সংঘাত তৈরি হয় তখনই যখন একদল আরেক দলকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। এখন প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার পরিস্থিতি নেই। এখন দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সোহার্দপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য ভালো। এখন সামনের দিকে কী হবে সেটা বলা মুশকিল। যেটা আমরা অর্জন করেছি, সেটা ন্যূনতম নির্বাচন পর্যন্ত ভালো ভাবে টেনে নিতে পারি তাহলে সেটা আমাদের দেশের জন্য এবং গণতন্ত্রের জন্য মাইলফলক হবে।

প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা কমেছে এটা শুধু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য নয়, বিভিন্ন পরিসংখ্যানেও উঠে এসেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে ৬৪৯ রাজনৈতিক সহিংসতায় আহত হন ৬১৯০ জন এবং নিহত ১০০ জন। তবে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের ওপর ২৭০টি সহিংসতায় ২৩৫২ আহত, নিহত হন ৩৮ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে নিহত ১৫ জন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত হন ১৩। বাকি হতাহতের অধিকাংশ ঘটে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণ হারায় ৯ জন এবং বিএনপি-বিএনপি সংঘাতে সর্বোচ্চ ২০ জন

নিহত হন। তবে ২০২৫ সালে ৪০১টি রাজনৈতিক সংঘাত-সংঘর্ষে আহত কমে দাঁড়ায় ৪৭৪৪ জনে। একই সময় নিহত হন ১০২ জন। ২০২৫ সালের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দলের সঙ্গে ১০৯টি সহিংসতায় আহত ১৫০১ জন এবং নিহত ২৬। আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সংঘাতে নিহতের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১০ জনে। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেও নিহতের সংখ্যা কমে হয় ৪ জন। তবে বিএনপি-বিএনপির মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষে নিহত হন ৩৯ জন। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের ওপর হামলার ঘটনা কমলেও অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও হতাহতের ঘটনার চিত্র বদলাচ্ছে না।

জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়, মানুষ সংঘাতমূলক রাজনীতি চায় না। একসময় অসংখ্য তরুণ ‘রাজনীতি ঘৃণা করি’ বলে আওয়াজ তুলেছে। সহিংসতা আর ঘৃণার রাজনীতি করে শেষ পর্যন্ত কেউ সফল হতে পারেনি। সেই অবস্থা থেকেও এখন রাজনৈতিক দলের প্রধান একে অপরের সঙ্গে বসছে; এটা ইতিবাচক। এটাই গণতন্ত্র। তবে এটা শুধু রাজনৈতিক বাহ্যিক আচরণ না হয়ে কাজেও প্রকাশ করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা কিছুটা কমেছে। রাজনৈতিক সহিংসতা কমলে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়। রাজনৈতিক সংঘর্ষ সামাল দিতে যে বিপুল জনবল ও সময় ব্যয় হয় তা অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা জোরদারে কাজে লাগানো যাচ্ছে। রাজনৈতিক এই সৌহার্দপূর্ণ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আসন্ন নির্বাচনও নিবিঘ্নে অনুষ্ঠিত হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থান ঠেকেছিল বৈরী সম্পর্কে। তাদের মুখোমুখি অবস্থানের রাজনীতি চলেছে কয়েক দশক। নেতাকর্মীদের মধ্যেও ছিল দা-কুমড়া সম্পর্ক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই প্রতিহিংসার রাজনীতিতে পরিবর্তন আসে। সবশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সব ভেদাভেদ ভুলে রাজনৈতিক দলগুলো এক টেবিলে বসেছে। জামায়াত-এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছে। সমবেদনা জানাতে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমার ও এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন দলের নেতারা ছুটে গেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায়। দেশীয় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তানসহ পৃথিবীর অন্তত ৩২টি দেশের প্রতিনিধি এসেছে শ্রদ্ধা জানাতে। ভারত-পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলেছেন। দেশের রাজনীতির জন্য এটা একটা ইতিবাচক বার্তা।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, এটা অত্যন্ত ইতিবাচক দিক যে, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসে সহমর্মিতা জানিয়েছে। বৈরী সম্পর্কের ভারত-পাকিস্তানও এখানে একত্রিত হয়েছে। প্রতিবেশীর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক উন্নয়ন ও দেশের সার্বিক অবস্থার জন্য এটা খুবই ইতিবাচক।

আপডেট : ১১:১৬:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের রাজনীতিতে সৌহার্দের বার্তা

আপডেট : ১১:১৬:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
৫২

অনলাইন ডেস্ক।।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বৈরিতা, মুখোমুখি অবস্থান ও প্রতিহিংসার রাজনীতির যে চিত্র ছিল, সেখানে এক টেবিলে শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। একসময় যেসব রাজনৈতিক দল একে অপরের মুখ দেখাও এড়িয়ে চলত, আজ তারাই জাতীয় স্বার্থ, গণতন্ত্র ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির প্রশ্নে একই জায়গায় বসছে। এই দৃশ্য এখন প্রতীকী নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতারা এক টেবিলে বসে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের নজির রেখেছেন। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাঝেও এর প্রভাব পড়েছেÑ পুরনো বিভাজন ভুলে সংযমী আচরণ ও সহাবস্থানের প্রবণতা বাড়ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সৌহার্দ কেবল শোকের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং এটি যদি সংলাপ, সহনশীলতা ও প্রতিযোগিতার রাজনীতিতে রূপ নেয়, তাহলে তা দেশের গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তি দেবে। প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার সংস্কৃতির বদলে মতপার্থক্য সত্ত্বেও একসঙ্গে বসার এই চর্চা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী গতকাল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে। এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখি। এটা গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গল। তবে প্রতিহিংসা থাকবে না। চক্রান্ত থাকবে না। সংঘাত তৈরি হয় তখনই যখন একদল আরেক দলকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। এখন প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার পরিস্থিতি নেই। এখন দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সোহার্দপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য ভালো। এখন সামনের দিকে কী হবে সেটা বলা মুশকিল। যেটা আমরা অর্জন করেছি, সেটা ন্যূনতম নির্বাচন পর্যন্ত ভালো ভাবে টেনে নিতে পারি তাহলে সেটা আমাদের দেশের জন্য এবং গণতন্ত্রের জন্য মাইলফলক হবে।

প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা কমেছে এটা শুধু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য নয়, বিভিন্ন পরিসংখ্যানেও উঠে এসেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে ৬৪৯ রাজনৈতিক সহিংসতায় আহত হন ৬১৯০ জন এবং নিহত ১০০ জন। তবে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের ওপর ২৭০টি সহিংসতায় ২৩৫২ আহত, নিহত হন ৩৮ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে নিহত ১৫ জন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত হন ১৩। বাকি হতাহতের অধিকাংশ ঘটে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণ হারায় ৯ জন এবং বিএনপি-বিএনপি সংঘাতে সর্বোচ্চ ২০ জন

নিহত হন। তবে ২০২৫ সালে ৪০১টি রাজনৈতিক সংঘাত-সংঘর্ষে আহত কমে দাঁড়ায় ৪৭৪৪ জনে। একই সময় নিহত হন ১০২ জন। ২০২৫ সালের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দলের সঙ্গে ১০৯টি সহিংসতায় আহত ১৫০১ জন এবং নিহত ২৬। আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সংঘাতে নিহতের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১০ জনে। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেও নিহতের সংখ্যা কমে হয় ৪ জন। তবে বিএনপি-বিএনপির মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষে নিহত হন ৩৯ জন। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের ওপর হামলার ঘটনা কমলেও অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও হতাহতের ঘটনার চিত্র বদলাচ্ছে না।

জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়, মানুষ সংঘাতমূলক রাজনীতি চায় না। একসময় অসংখ্য তরুণ ‘রাজনীতি ঘৃণা করি’ বলে আওয়াজ তুলেছে। সহিংসতা আর ঘৃণার রাজনীতি করে শেষ পর্যন্ত কেউ সফল হতে পারেনি। সেই অবস্থা থেকেও এখন রাজনৈতিক দলের প্রধান একে অপরের সঙ্গে বসছে; এটা ইতিবাচক। এটাই গণতন্ত্র। তবে এটা শুধু রাজনৈতিক বাহ্যিক আচরণ না হয়ে কাজেও প্রকাশ করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা কিছুটা কমেছে। রাজনৈতিক সহিংসতা কমলে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়। রাজনৈতিক সংঘর্ষ সামাল দিতে যে বিপুল জনবল ও সময় ব্যয় হয় তা অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা জোরদারে কাজে লাগানো যাচ্ছে। রাজনৈতিক এই সৌহার্দপূর্ণ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আসন্ন নির্বাচনও নিবিঘ্নে অনুষ্ঠিত হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থান ঠেকেছিল বৈরী সম্পর্কে। তাদের মুখোমুখি অবস্থানের রাজনীতি চলেছে কয়েক দশক। নেতাকর্মীদের মধ্যেও ছিল দা-কুমড়া সম্পর্ক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই প্রতিহিংসার রাজনীতিতে পরিবর্তন আসে। সবশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সব ভেদাভেদ ভুলে রাজনৈতিক দলগুলো এক টেবিলে বসেছে। জামায়াত-এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছে। সমবেদনা জানাতে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমার ও এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন দলের নেতারা ছুটে গেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায়। দেশীয় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তানসহ পৃথিবীর অন্তত ৩২টি দেশের প্রতিনিধি এসেছে শ্রদ্ধা জানাতে। ভারত-পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলেছেন। দেশের রাজনীতির জন্য এটা একটা ইতিবাচক বার্তা।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, এটা অত্যন্ত ইতিবাচক দিক যে, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসে সহমর্মিতা জানিয়েছে। বৈরী সম্পর্কের ভারত-পাকিস্তানও এখানে একত্রিত হয়েছে। প্রতিবেশীর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক উন্নয়ন ও দেশের সার্বিক অবস্থার জন্য এটা খুবই ইতিবাচক।