দেশে আসেন, রাজপথে দেখা হবে :রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ

অনলাইন ডেস্ক।।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করে আছি, আসেন দেশে। দেশে আসেন, দেখা হবে ইনশাআল্লাহ, রাজপথে।’
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আপনাদের নির্বাচিত সরকার আমরা। ভুল হলে আমাদের শুধরিয়ে দেবেন। আমরা তো আর আওয়ামী লীগ হতে পারবো না, হতেও চাই না।’
আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটির মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। তিনি অভিযোগ করেন, অন্যায়, অবিচার, খুন, গুম, মানি লন্ডারিং, হত্যা, নির্যাতন ও আয়নাঘরের মতো নানা ঘটনার পরও তারা কোনো লজ্জাবোধ করে না।
নিজের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২৭ বছর বয়সে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। এখন ৮২ বছর বয়সে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি লড়াই করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের শাসন ও গণতন্ত্রকে চিরস্থায়ী করতে তারা কাজ করে যাবেন। ১৯৭১ সালে দেশের জন্য রক্ত দিয়েছেন এবং যুদ্ধে আহত হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন বাংলাদেশ দেখার জন্য তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেননি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাদের দেখভাল করা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তিনি বলেন, যারা জুলাইয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন, তাদের পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ এবং যারা আহত হয়ে দৃষ্টিশক্তি বা অঙ্গ হারিয়েছেন, তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের অনেকেই প্রাপ্য সম্মান ও সুবিধা পাননি। জুলাইয়ের শহীদ ও আহতরাও হয়তো তাদের প্রাপ্য সবকিছু নাও পেতে পারেন, তবে সরকারের পক্ষ থেকে তারা অবশ্যই সম্মান পাবেন। দেশের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের কল্যাণে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই। একইভাবে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংঘটিত হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের অন্যতম অনুষঙ্গ। দেশে যতদিন গণতন্ত্র থাকবে, ততদিন সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও বজায় থাকবে।
তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, ‘আমাদের যাত্রাপথ সহজ নয়। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমাদের ঐক্য, সংযম ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। সজাগ থাকতে হবে যাতে কোনো বিভাজন বা সংকীর্ণ স্বার্থ যেন আমাদের জাতীয় অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে।’
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি ডকুমেন্টারিতে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ এবং খালেদা জিয়ার ছবি না থাকার অভিযোগে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ভুল তো মানুষ করেই।
নিশ্চয়ই ডকুমেন্টারিতে অনেক ভুল রয়েছে। আবু সাঈদ এই বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি, তার ছবি না থাকলে এটা কোনো ডকুমেন্টারি হলো না। সেখানে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ছবিও নাই। কিছু ভুল হয়েছে এবং এই ভুল মাননীয় মন্ত্রী জোড় হাতে স্বীকার করে বারংবার ক্ষমা চেয়েছেন। এরপর তো শান্ত হওয়া উচিত। জাতীয় অনুষ্ঠানে এটাকে পুষে রেখে সংসদের মতো ওয়াকআউট করা বাঞ্ছনীয় নয়।’
বিশৃঙ্খলা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আজ এই অনুষ্ঠানটি একটি জাতীয় অনুষ্ঠান। কিন্তু এখানে যে দৃশ্য দেখলাম, সেটি দেখে অত্যন্ত দুঃখিত, লজ্জিত এবং ব্যথিত হয়েছি। সকালে জাতীয় ঐক্য সহজেই প্রতিভাত হয়েছিল। কিন্তু বিকেলের এই অনুষ্ঠানে যা দেখলাম, তা একেবারেই অনভিপ্রেত। এখানে বিদেশিরা বসা ছিলেন, আমি মনে মনে চিন্তা করছিলাম যে ইংরেজিতেই ভাষণ দেবো, বিদেশিরা দেখুক ১৬ বছর আমরা কীভাবে কাটিয়েছি। জাতীয় অনুষ্ঠানে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা মোটেই কাম্য ছিল না। বিদেশিদের সামনে যে নাস্তানাবুদ হলাম, এটি আমাকে খুবই ব্যথিত করেছে।’
নেতা ও অনুসারীদের আচরণের সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করেছি মাননীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তার অনুসারীদের প্রশমিত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে নেতাকে তো সহজে অনুসারীরা মানে না। প্রতি মুহূর্তেই তারা যে নেতার চেয়ে বড়, এটা প্রমাণের জন্য মুখিয়ে থাকে। সেই কারণেই এই ধরনের একটা অনুষ্ঠানের এই পরিণতি হলো। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে কেউ ভুয়া ভুয়া বলে চিৎকার করে, এগুলো কি মানায়? কবে আমরা শিখবো?’























