চুয়াডাঙ্গা ০৩:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুর যুদ্ধনীতির ওপর আস্থা শেষ হয়ে গেছে: ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী

Padma Sangbad
৫২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ বলেছেন, ‘গাজা উপত্যকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধনীতির ওপর আমার আস্থা শেষ হয়ে গেছে।’

স্মোটরিচ এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘গত মন্ত্রিসভার বৈঠকে (শুক্রবার ভোরে) আমি বিশ্বাস হারিয়েছি যে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীকে একটি চূড়ান্ত জয়ের পথে নেতৃত্ব দিতে পারেন বা চান।’

গত শনিবার তিনি এসব কথা বলেন।

ডানপন্থী কট্টর এই মন্ত্রী গাজা পুরোপুরি দখলের জন্য নেতানিয়াহুর পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি অবিলম্বে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে গাজায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পক্ষে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উৎখাতেরও সমর্থন করেন এই মন্ত্রী।

এদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা নেতানিয়াহুর ধাপে ধাপে গাজা দখল পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে, যাতে ফিলিস্তিনিদের উত্তর দিক থেকে দক্ষিণে সরিয়ে দেওয়া যায়। তবে এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন দেশটির নিরাপত্তা নেতৃত্ব। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলি বন্দীদের জীবন এবং সেনাদের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।

এই পরিকল্পনাকে গুরুত্বহীন বলে উল্লেখ করে স্মোটরিচ বলেন, ‘নেতানিয়াহু ও মন্ত্রিসভা এমন একটি সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যার লক্ষ্য জয় নয়, বরং আংশিক বন্দী বিনিময় চুক্তির জন্য হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।’

তিনি নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানান ‘আবার মন্ত্রিসভা আহ্বান করে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে, কোনো অর্ধেক পথে থামা হবে না, কোনো আংশিক চুক্তি হবে না, এবার জয়ের দিকে স্পষ্ট ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, স্মোটরিচ বরাবরই কেবল বিমান হামলার মধ্যে গাজায় ইসরায়েলি পদক্ষেপ সীমিত রাখার আহ্বানের বিরোধিতা করে এসেছেন। তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে, যতক্ষণ না ফিলিস্তিনিদের উৎখাত করে বসতি স্থাপনের শর্ত তৈরি হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের প্রাণঘাতী যুদ্ধের ফলে গাজায় এখন পর্যন্ত ৬১ হাজার ৪০০ এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা উপত্যকা, আর দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে অঞ্চলটি।

গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং তার তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এছাড়া গাজায় যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার অভিযোগে মামলা চলছে।

আপডেট : ১২:৩৫:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

নেতানিয়াহুর যুদ্ধনীতির ওপর আস্থা শেষ হয়ে গেছে: ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ১২:৩৫:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
৫২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ বলেছেন, ‘গাজা উপত্যকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধনীতির ওপর আমার আস্থা শেষ হয়ে গেছে।’

স্মোটরিচ এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘গত মন্ত্রিসভার বৈঠকে (শুক্রবার ভোরে) আমি বিশ্বাস হারিয়েছি যে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীকে একটি চূড়ান্ত জয়ের পথে নেতৃত্ব দিতে পারেন বা চান।’

গত শনিবার তিনি এসব কথা বলেন।

ডানপন্থী কট্টর এই মন্ত্রী গাজা পুরোপুরি দখলের জন্য নেতানিয়াহুর পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি অবিলম্বে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে গাজায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পক্ষে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উৎখাতেরও সমর্থন করেন এই মন্ত্রী।

এদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা নেতানিয়াহুর ধাপে ধাপে গাজা দখল পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে, যাতে ফিলিস্তিনিদের উত্তর দিক থেকে দক্ষিণে সরিয়ে দেওয়া যায়। তবে এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন দেশটির নিরাপত্তা নেতৃত্ব। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলি বন্দীদের জীবন এবং সেনাদের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।

এই পরিকল্পনাকে গুরুত্বহীন বলে উল্লেখ করে স্মোটরিচ বলেন, ‘নেতানিয়াহু ও মন্ত্রিসভা এমন একটি সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যার লক্ষ্য জয় নয়, বরং আংশিক বন্দী বিনিময় চুক্তির জন্য হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।’

তিনি নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানান ‘আবার মন্ত্রিসভা আহ্বান করে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে, কোনো অর্ধেক পথে থামা হবে না, কোনো আংশিক চুক্তি হবে না, এবার জয়ের দিকে স্পষ্ট ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, স্মোটরিচ বরাবরই কেবল বিমান হামলার মধ্যে গাজায় ইসরায়েলি পদক্ষেপ সীমিত রাখার আহ্বানের বিরোধিতা করে এসেছেন। তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে, যতক্ষণ না ফিলিস্তিনিদের উৎখাত করে বসতি স্থাপনের শর্ত তৈরি হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের প্রাণঘাতী যুদ্ধের ফলে গাজায় এখন পর্যন্ত ৬১ হাজার ৪০০ এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা উপত্যকা, আর দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে অঞ্চলটি।

গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং তার তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এছাড়া গাজায় যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার অভিযোগে মামলা চলছে।