চুয়াডাঙ্গা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালের সুড়ঙ্গে ৯ দিন পর জীবিত ২ শ্রমিক উদ্ধার

Padma Sangbad

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"effects":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নেপালের ত্রিশূলী-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দীর্ঘ ন’দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে দুই শ্রমিককে। তাঁদের উদ্ধারের পর সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে আরও মানুষের গলার স্বর শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা আরও শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের আশা জোরালো হয়েছে।
শুক্রবার সকালে উদ্ধার করা দুই শ্রমিক হলেন সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজন। সঞ্জয় প্রকল্পটির মেকানিক্যাল ফোরম্যান এবং কবীর মেকানিক্যাল সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছিলেন। উদ্ধারের পর দু’জনকেই অক্সিজেন সহায়তা দেওয়া হয় এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
কবীরের স্ত্রী নেপালি সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর স্বামী যেন নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বামীকে জীবিত দেখতে পাওয়ায় পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে।
গত ২৬ আগস্ট ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ হড়পা বান আঘাত হানার পর নেপালের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ত্রিশূলী-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কর্মরত প্রায় ৪০ জন শ্রমিকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকেই তাঁদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছিল নেপালি সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল।
তবে প্রবল বৃষ্টি, কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধার অভিযান বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। হড়পা বানে উদ্ধারকাজের বেশ কিছু সরঞ্জামও ভেসে যায়। সীমিত ও ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম ব্যবহার করেই উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের মুখ পরিষ্কার করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উদ্ধারকারীদের দাবি, সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে আরও কয়েকজনের গলার স্বর শোনা যাচ্ছে। এতে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তাঁরা। দ্রুত ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তাঁদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
এদিকে রাসুয়া জেলার লাংটাং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। সেখানে সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রায় ১৫০ মিটার অগ্রসর হয়ে উদ্ধারকারীরা দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। ওই প্রকল্পে মোট ৪১ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। ফলে সেখানে আরও শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
হড়পা বান ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১,২৫৯ জনের মরদেহ উদ্ধার এবং ৫,০৫৩ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় পর্যটকরাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ত্রিশূলী-৩ সুড়ঙ্গ থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা তাই ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যেও নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে ভেসে আসা কণ্ঠস্বরের সূত্র ধরে অন্য শ্রমিকদেরও জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হবে—এমন আশাতেই জোরদার করা হয়েছে অভিযান।

আপডেট : ০৫:৪৬:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালের সুড়ঙ্গে ৯ দিন পর জীবিত ২ শ্রমিক উদ্ধার

আপডেট : ০৫:৪৬:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নেপালের ত্রিশূলী-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দীর্ঘ ন’দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে দুই শ্রমিককে। তাঁদের উদ্ধারের পর সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে আরও মানুষের গলার স্বর শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা আরও শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের আশা জোরালো হয়েছে।
শুক্রবার সকালে উদ্ধার করা দুই শ্রমিক হলেন সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজন। সঞ্জয় প্রকল্পটির মেকানিক্যাল ফোরম্যান এবং কবীর মেকানিক্যাল সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছিলেন। উদ্ধারের পর দু’জনকেই অক্সিজেন সহায়তা দেওয়া হয় এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
কবীরের স্ত্রী নেপালি সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর স্বামী যেন নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বামীকে জীবিত দেখতে পাওয়ায় পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে।
গত ২৬ আগস্ট ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ হড়পা বান আঘাত হানার পর নেপালের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ত্রিশূলী-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কর্মরত প্রায় ৪০ জন শ্রমিকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকেই তাঁদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছিল নেপালি সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল।
তবে প্রবল বৃষ্টি, কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধার অভিযান বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। হড়পা বানে উদ্ধারকাজের বেশ কিছু সরঞ্জামও ভেসে যায়। সীমিত ও ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম ব্যবহার করেই উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের মুখ পরিষ্কার করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উদ্ধারকারীদের দাবি, সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে আরও কয়েকজনের গলার স্বর শোনা যাচ্ছে। এতে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তাঁরা। দ্রুত ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তাঁদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
এদিকে রাসুয়া জেলার লাংটাং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। সেখানে সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রায় ১৫০ মিটার অগ্রসর হয়ে উদ্ধারকারীরা দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। ওই প্রকল্পে মোট ৪১ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। ফলে সেখানে আরও শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
হড়পা বান ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১,২৫৯ জনের মরদেহ উদ্ধার এবং ৫,০৫৩ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় পর্যটকরাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ত্রিশূলী-৩ সুড়ঙ্গ থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা তাই ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যেও নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে ভেসে আসা কণ্ঠস্বরের সূত্র ধরে অন্য শ্রমিকদেরও জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হবে—এমন আশাতেই জোরদার করা হয়েছে অভিযান।