চুয়াডাঙ্গা ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবনার ডেমড়া-আতাইকুলা আঞ্চলিক সড়ক বেহাল, ১০ লাখ মানুষের চরম দুর্ভোগ

Padma Sangbad
২২

পাবনা প্রতিনিধি:

দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় পাবনার ফরিদপুরের ডেমড়া থেকে সাঁথিয়া ও পাবনা সদরের আতাইকুলা পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বর্তমানে পাবনার ফরিদপুর, সাঁথিয়া এবং পাবনা সদর—এই তিন উপজেলার প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের সবচেয়ে বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ ও বিশাল আকৃতির গর্ত। একটু বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে জলকাদা তৈরি হয়, ফলে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর, চাকরিজীবীসহ সিএনজি, ভ্যান, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও বাসচালকরা চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে দেশের অন্যতম বিখ্যাত কাপড়ের বাজার শাহজাদপুর ও আতাইকুলা হাটের ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য আনা-নেওয়ার প্রধান এই রুটটি ভেঙে পড়ায় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নেওয়া কিংবা কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারে সরবরাহ করার ক্ষেত্রেও প্রতিনিয়ত পড়তে হচ্ছে বড় ধরনের বিপাকে।

ডেমড়ার বৃকালিয়ানী গ্রামের কৃষক আলম হোসেন জানান, সড়কটি চলাচলের পুরোপুরি অযোগ্য হয়ে পড়ায় কৃষিপণ্য স্থানীয় ধুলউড়ি হাটে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ঘুরে দূরের অন্য হাটে নিতে হওয়ায় অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। সিএনজিচালক আবুল হোসেন বলেন, “কিছুদিন আগে সড়কের একটি গর্ত পার হওয়ার সময় সামনের আরেকটি বিশাল গর্ত বুঝতে না পেরে আমার গাড়িটি কাত হয়ে উল্টে যায়। এ সময় আমি ও যাত্রীরা আহত হই এবং যাত্রীদের চিকিৎসার পেছনে আমার প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।”

এ বিষয়ে পাবনা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সর্বশেষ প্রায় ৭ বছর আগে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছিল। সংস্কারের পর প্রথম চার বছর মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারলেও গত প্রায় তিন বছর ধরে সড়কটিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ফরিদপুর ও সাঁথিয়া এলাকার দুই সংসদ সদস্যের (এমপি) ডিও লেটার ও সুপারিশ নিয়ে সড়কটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

আপডেট : ০১:১১:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

পাবনার ডেমড়া-আতাইকুলা আঞ্চলিক সড়ক বেহাল, ১০ লাখ মানুষের চরম দুর্ভোগ

আপডেট : ০১:১১:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
২২

পাবনা প্রতিনিধি:

দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় পাবনার ফরিদপুরের ডেমড়া থেকে সাঁথিয়া ও পাবনা সদরের আতাইকুলা পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বর্তমানে পাবনার ফরিদপুর, সাঁথিয়া এবং পাবনা সদর—এই তিন উপজেলার প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের সবচেয়ে বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ ও বিশাল আকৃতির গর্ত। একটু বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে জলকাদা তৈরি হয়, ফলে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর, চাকরিজীবীসহ সিএনজি, ভ্যান, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও বাসচালকরা চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে দেশের অন্যতম বিখ্যাত কাপড়ের বাজার শাহজাদপুর ও আতাইকুলা হাটের ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য আনা-নেওয়ার প্রধান এই রুটটি ভেঙে পড়ায় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নেওয়া কিংবা কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারে সরবরাহ করার ক্ষেত্রেও প্রতিনিয়ত পড়তে হচ্ছে বড় ধরনের বিপাকে।

ডেমড়ার বৃকালিয়ানী গ্রামের কৃষক আলম হোসেন জানান, সড়কটি চলাচলের পুরোপুরি অযোগ্য হয়ে পড়ায় কৃষিপণ্য স্থানীয় ধুলউড়ি হাটে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ঘুরে দূরের অন্য হাটে নিতে হওয়ায় অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। সিএনজিচালক আবুল হোসেন বলেন, “কিছুদিন আগে সড়কের একটি গর্ত পার হওয়ার সময় সামনের আরেকটি বিশাল গর্ত বুঝতে না পেরে আমার গাড়িটি কাত হয়ে উল্টে যায়। এ সময় আমি ও যাত্রীরা আহত হই এবং যাত্রীদের চিকিৎসার পেছনে আমার প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।”

এ বিষয়ে পাবনা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সর্বশেষ প্রায় ৭ বছর আগে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছিল। সংস্কারের পর প্রথম চার বছর মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারলেও গত প্রায় তিন বছর ধরে সড়কটিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ফরিদপুর ও সাঁথিয়া এলাকার দুই সংসদ সদস্যের (এমপি) ডিও লেটার ও সুপারিশ নিয়ে সড়কটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।