চুয়াডাঙ্গা ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে যা বললেন মির্জা আব্বাস

Padma Sangbad

অনলাইন ডেস্ক।।
‘বিএনপির বিরুদ্ধে দলের ভেতর ও বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র হচ্ছে’ বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সতর্ক করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। আজ শনিবার বিকেলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে এ কথা বলেন তিনি।

সংসদ সদস্য বলেন, ‘এর মধ্যে অনেক কিছু হবে, হচ্ছে। সব কিছু আপনার (তারেক রহমান) কানে যায় না। আমাদের কাছে যা আসে, যেগুলো আসে, ইনশাল্লাহ আপনাকে জানাব। এই দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এখন পর্যন্ত দলের ভেতর থেকে হচ্ছে, দলের বাইরে থেকে হচ্ছে। এটা আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আর আপনারা যারা আছেন, আমার ভাইয়েরা, আমি মনে করি, সকলেই মোটামুটি দেশপ্রেমিক এবং দলপ্রেমিক।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘যেগুলো আপনি জানবেন, ওগুলো কথায় এবং কাজে নেতাকে জানিয়ে দিবেন। কারণ, কিছু গোপন থাকলেই সবকিছু শেষ হয়ে যায় না। আর হাত দিয়ে রাতের অন্ধকার কিংবা দিনের আলো ঢেকে রাখা যায় না। এটা প্রকাশ হবেই। ইনশাল্লাহ, আপনারা সবাই, আমার সহকর্মী ভাইয়েরা, আপনারা নেতাকে ফাঁকি দেওয়া মানে দেশকে ফাঁকি দেওয়া—এটা মনে রাখবেন।’

বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।

‘কিছু নেতা-কর্মীর জন্য বদনামি হচ্ছে’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমার অনেক নেতাকর্মী আছেন। কিছু মনে করবেন না, আমি খোলাখুলি বলি—কিছু নেতা-কর্মীর জন্য বদনামি হচ্ছে। আপনাদের বয়সটা আমাদের ছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে থেকে রাজনীতি করেছি, রাজনীতি শিখেছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে থেকে রাজনীতি করেছি। কিন্তু আমাদের সময়ের দুই-একজন হাতেগোনা লোক ছাড়া এই দলের কোনো বদনামি আমাদের মাধ্যমে হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমিও আশা করব, আপনারা যারা আছেন, এখন যারা আছেন এখানে, অন্তত সীমিত সংখ্যক হাতেগোনা লোক আছেন আপনারা। যদি আপনারা সঠিক নেতৃত্ব দেন এবং সঠিক বিষয়গুলো নেতার কানে তুলে ধরেন, তাহলে নিশ্চয়ই দলটা আজকে ৪৮ বছর হয়েছে। চিন্তা করে দেখেন, একটা দল ৪৮ বছর হয়েছে। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা, যিনি হত্যা করা হয়েছে, এই দলের ওপর অত্যাচার কম হয়নি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেল খেটেছেন, আমরা জেল খেটেছি। দলটা এখনো ঠিক আছে। দলটা আরও টিকে থাকবে। এ দলটা মরে যাওয়ার জন্য আসে নাই, ভেঙে যাওয়ার জন্য আসে নাই। দু-একজন লোকের জন্য দলটা বদনাম হতে পারে না, এটা একটু আপনারা খেয়াল রাখবেন। আমি মনে করি, আমি কী বলেছি, এটা আমার নেতা বুঝেছেন এবং আপনারা ভালো করে বুঝেছেন।’

‘বিএনপিকে বাঁচিয়ে রাখুন’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘দয়া করে, যে যা করেন, না করেন, দলটাকে বাঁচিয়ে রাখবেন। এই দলটা দেশটাকে বাঁচিয়ে রাখবে।’

‘বিএনপিকে আমি অনেক ভালোবাসি’

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্যে আমি যদি কিছু খারাপ কিছু বলে থাকি, কাউকে যদি আহত করে থাকি, আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি কাউকে আহত করার জন্য, দুঃখ দেওয়ার জন্য, কষ্ট দেওয়ার জন্য এ কথা বলি নাই। এই দলটাকে আমি অনেক ভালোবাসি (আবেগপ্রবণ কণ্ঠে), অনেক ভালোবাসি। আপনাদের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ।’

সাড়ে পাঁচ মাস বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বুধবার দেশে ফেরেন মির্জা আব্বাস।

অসুস্থতার মধ্যে হুইলচেয়ারে দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় আসেন তিনি। মঞ্চে একজনকে ধরে হেঁটে ওঠেন এবং নিজের আসনে বসেন। প্রধানমন্ত্রীর পাশের চেয়ারেই বসেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘বিএনপি তো একটি দলের নাম নয়, বিএনপি মানে স্বাধীনতার চেতনা, বিএনপি মানে গণতন্ত্র, বিএনপি মানে মানুষের অধিকার। আমরা একই আদর্শে অটল। অনেক ঝড় এসেছে, আমরা ভেঙে পড়িনি। নির্যাতন এসেছে, আমরা মাথা নত করিনি। কারণ, আমরা শহীদ জিয়ার সৈনিক। আজকের দিনে আমাদের শপথ, দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত আমরা রাজপথে ছিলাম, থাকব, জনগণের পাশে থাকব। আসুন, ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, শক্তিশালী করতে, মানুষের বাংলাদেশ করতে আমরা আমাদের নেতা তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করি।’

অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি পরিপূর্ণভাবে সুস্থতা লাভ করিনি। এর মধ্যে আমি দেশের মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছি, ভালোবাসা পেয়েছি দেশের গণমানুষের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান, আমাদের নেতা তারেক রহমানের। উনি নিয়মিত খোঁজখবর করেছেন। খুব ভালো লেগেছে, যদিও আমার কিছু করার ছিল না। শুধুমাত্র শুনেছি আমি। তখন ফোন করার মতো অবস্থা ছিল না।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি পেয়েছি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যেমন স্নেহ পেয়েছিলাম, তেমনি পেয়েছি আমাদের নেতা তারেক রহমানের অকুণ্ঠ সমর্থন-সহযোগিতা। সবদিক থেকেই উনি সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন, যেহেতু আমাকে অত্যন্ত সে শক্তি জুগিয়েছেন, নিঃসন্দেহে।’

‘সাবধান থাকবেন আপনি’

তিনি বলেন, ‘আজকে একটি কথা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে এই দলের বিরুদ্ধে, অনেক ষড়যন্ত্র হবে এই দলের বিরুদ্ধে। অনেক ষড়যন্ত্র হবে মাননীয় নেতা, আপনার বিরুদ্ধে।’

‘আপনি দয়া করে সাবধানে থাকবেন’

সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি বলতে চাই, বহু কর্মী আছে, নেতা আছে, যারা আপনার সামনে অনেক ভালো ভালো কথা বলে, কিন্তু বাইরে এসে কিন্তু ভালো কথা বলে না। আমি আপনাকে কখনো একাকীত্বে জিজ্ঞেস করেন, আমি আপনাকে সেগুলো বলব। কিন্তু বিষয়গুলো সম্বন্ধে আপনার একটু সাবধান হওয়া উচিত। কারণ, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, উনি বলতে পারি আমরা যে, স্বাভাবিক না। খালেদা জিয়ার কিন্তু অত্যন্ত স্বাভাবিক নয়। উনার কাছে আমি, উনার সঙ্গে, উনার স্নেহে লালিত হয়েছি। উনার সঙ্গে বহু কাজ করেছি রাজনীতিতে। উনাকে আমি চিনি। উনার মৃত্যু নিঃসন্দেহে কেউ হত্যা করেনি—এটা ঠিক আছে। কিন্তু উনি যেভাবে মারা গেছেন, এটা আমাদের কাম্য ছিল না।’

‘নিজের কথা’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আপনার সমস্ত ভালো ভালো কাজগুলো কতগুলো খারাপ লোকের খারাপ কথায়, খারাপ কাজে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এটা একটু দয়া করে আপনি লক্ষ্য রাখবেন। আজকের এই মিটিংয়ে আমি আসছি। কেন আসছি? এটা আসছি বিবেকের তাড়নায়। আমি একটা দল করি, ৪৮ বছরে বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া, অসুস্থ ছাড়া, আমার কোনোদিন এই দিনটা মিস হয়নি। আমি পালন করেছি। বিএনপির অনেক কাজ মিস হয়েছে, কিন্তু এই দিনটি আমি মিস করিনি, করব না কোনোদিন।’

তিনি বলেন, ‘আমি পরিশেষে একটি কথা বলব, আমি কোনো দল করি নাই, কোনো দল থেকে আসি নাই। আর কোনো দলে কোথাও আমি যাব না কোনোদিন, ইনশাল্লাহ। শহীদ জিয়াউর রহমানের হাতে রাজনীতিতে এসেছিলাম, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার স্নেহ পেয়েছি। আপনার সঙ্গে রাজনীতি করি, আমরা রাজনৈতিক জীবন শেষ করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে অন্য কোনো কিছু সুযোগ নাই। আমাকে আপনার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়ার। আমি আশা করি, শারীরিক কারণে, বয়সের কারণে হয়তো সবসময় যেমন শহীদ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ছিলাম, যেমন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলাম, হয়তো আমি জানি না, শারীরিক কারণে ওরকম নাও হতে পারে। কিন্তু কখনোই আপনি আমার কাছ থেকে কিংবা আমি আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। অনেক কথা বলে ফেলেছি, আমাকে ক্ষমা করবেন।’

বিএনপিতেই আমার রাজনীতি, ইনশাল্লাহ, শেষ হবে বলে মন্তব্য করেন মির্জা আব্বাস।

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুব দলের সাধারণ সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, উত্তরের সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বক্তব্য দেন।

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আপডেট : ০১:১১:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে যা বললেন মির্জা আব্বাস

আপডেট : ০১:১১:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক।।
‘বিএনপির বিরুদ্ধে দলের ভেতর ও বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র হচ্ছে’ বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সতর্ক করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। আজ শনিবার বিকেলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে এ কথা বলেন তিনি।

সংসদ সদস্য বলেন, ‘এর মধ্যে অনেক কিছু হবে, হচ্ছে। সব কিছু আপনার (তারেক রহমান) কানে যায় না। আমাদের কাছে যা আসে, যেগুলো আসে, ইনশাল্লাহ আপনাকে জানাব। এই দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এখন পর্যন্ত দলের ভেতর থেকে হচ্ছে, দলের বাইরে থেকে হচ্ছে। এটা আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আর আপনারা যারা আছেন, আমার ভাইয়েরা, আমি মনে করি, সকলেই মোটামুটি দেশপ্রেমিক এবং দলপ্রেমিক।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘যেগুলো আপনি জানবেন, ওগুলো কথায় এবং কাজে নেতাকে জানিয়ে দিবেন। কারণ, কিছু গোপন থাকলেই সবকিছু শেষ হয়ে যায় না। আর হাত দিয়ে রাতের অন্ধকার কিংবা দিনের আলো ঢেকে রাখা যায় না। এটা প্রকাশ হবেই। ইনশাল্লাহ, আপনারা সবাই, আমার সহকর্মী ভাইয়েরা, আপনারা নেতাকে ফাঁকি দেওয়া মানে দেশকে ফাঁকি দেওয়া—এটা মনে রাখবেন।’

বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।

‘কিছু নেতা-কর্মীর জন্য বদনামি হচ্ছে’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমার অনেক নেতাকর্মী আছেন। কিছু মনে করবেন না, আমি খোলাখুলি বলি—কিছু নেতা-কর্মীর জন্য বদনামি হচ্ছে। আপনাদের বয়সটা আমাদের ছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে থেকে রাজনীতি করেছি, রাজনীতি শিখেছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে থেকে রাজনীতি করেছি। কিন্তু আমাদের সময়ের দুই-একজন হাতেগোনা লোক ছাড়া এই দলের কোনো বদনামি আমাদের মাধ্যমে হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমিও আশা করব, আপনারা যারা আছেন, এখন যারা আছেন এখানে, অন্তত সীমিত সংখ্যক হাতেগোনা লোক আছেন আপনারা। যদি আপনারা সঠিক নেতৃত্ব দেন এবং সঠিক বিষয়গুলো নেতার কানে তুলে ধরেন, তাহলে নিশ্চয়ই দলটা আজকে ৪৮ বছর হয়েছে। চিন্তা করে দেখেন, একটা দল ৪৮ বছর হয়েছে। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা, যিনি হত্যা করা হয়েছে, এই দলের ওপর অত্যাচার কম হয়নি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেল খেটেছেন, আমরা জেল খেটেছি। দলটা এখনো ঠিক আছে। দলটা আরও টিকে থাকবে। এ দলটা মরে যাওয়ার জন্য আসে নাই, ভেঙে যাওয়ার জন্য আসে নাই। দু-একজন লোকের জন্য দলটা বদনাম হতে পারে না, এটা একটু আপনারা খেয়াল রাখবেন। আমি মনে করি, আমি কী বলেছি, এটা আমার নেতা বুঝেছেন এবং আপনারা ভালো করে বুঝেছেন।’

‘বিএনপিকে বাঁচিয়ে রাখুন’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘দয়া করে, যে যা করেন, না করেন, দলটাকে বাঁচিয়ে রাখবেন। এই দলটা দেশটাকে বাঁচিয়ে রাখবে।’

‘বিএনপিকে আমি অনেক ভালোবাসি’

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্যে আমি যদি কিছু খারাপ কিছু বলে থাকি, কাউকে যদি আহত করে থাকি, আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি কাউকে আহত করার জন্য, দুঃখ দেওয়ার জন্য, কষ্ট দেওয়ার জন্য এ কথা বলি নাই। এই দলটাকে আমি অনেক ভালোবাসি (আবেগপ্রবণ কণ্ঠে), অনেক ভালোবাসি। আপনাদের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ।’

সাড়ে পাঁচ মাস বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বুধবার দেশে ফেরেন মির্জা আব্বাস।

অসুস্থতার মধ্যে হুইলচেয়ারে দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় আসেন তিনি। মঞ্চে একজনকে ধরে হেঁটে ওঠেন এবং নিজের আসনে বসেন। প্রধানমন্ত্রীর পাশের চেয়ারেই বসেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘বিএনপি তো একটি দলের নাম নয়, বিএনপি মানে স্বাধীনতার চেতনা, বিএনপি মানে গণতন্ত্র, বিএনপি মানে মানুষের অধিকার। আমরা একই আদর্শে অটল। অনেক ঝড় এসেছে, আমরা ভেঙে পড়িনি। নির্যাতন এসেছে, আমরা মাথা নত করিনি। কারণ, আমরা শহীদ জিয়ার সৈনিক। আজকের দিনে আমাদের শপথ, দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত আমরা রাজপথে ছিলাম, থাকব, জনগণের পাশে থাকব। আসুন, ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, শক্তিশালী করতে, মানুষের বাংলাদেশ করতে আমরা আমাদের নেতা তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করি।’

অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি পরিপূর্ণভাবে সুস্থতা লাভ করিনি। এর মধ্যে আমি দেশের মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছি, ভালোবাসা পেয়েছি দেশের গণমানুষের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান, আমাদের নেতা তারেক রহমানের। উনি নিয়মিত খোঁজখবর করেছেন। খুব ভালো লেগেছে, যদিও আমার কিছু করার ছিল না। শুধুমাত্র শুনেছি আমি। তখন ফোন করার মতো অবস্থা ছিল না।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি পেয়েছি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যেমন স্নেহ পেয়েছিলাম, তেমনি পেয়েছি আমাদের নেতা তারেক রহমানের অকুণ্ঠ সমর্থন-সহযোগিতা। সবদিক থেকেই উনি সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন, যেহেতু আমাকে অত্যন্ত সে শক্তি জুগিয়েছেন, নিঃসন্দেহে।’

‘সাবধান থাকবেন আপনি’

তিনি বলেন, ‘আজকে একটি কথা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে এই দলের বিরুদ্ধে, অনেক ষড়যন্ত্র হবে এই দলের বিরুদ্ধে। অনেক ষড়যন্ত্র হবে মাননীয় নেতা, আপনার বিরুদ্ধে।’

‘আপনি দয়া করে সাবধানে থাকবেন’

সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি বলতে চাই, বহু কর্মী আছে, নেতা আছে, যারা আপনার সামনে অনেক ভালো ভালো কথা বলে, কিন্তু বাইরে এসে কিন্তু ভালো কথা বলে না। আমি আপনাকে কখনো একাকীত্বে জিজ্ঞেস করেন, আমি আপনাকে সেগুলো বলব। কিন্তু বিষয়গুলো সম্বন্ধে আপনার একটু সাবধান হওয়া উচিত। কারণ, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, উনি বলতে পারি আমরা যে, স্বাভাবিক না। খালেদা জিয়ার কিন্তু অত্যন্ত স্বাভাবিক নয়। উনার কাছে আমি, উনার সঙ্গে, উনার স্নেহে লালিত হয়েছি। উনার সঙ্গে বহু কাজ করেছি রাজনীতিতে। উনাকে আমি চিনি। উনার মৃত্যু নিঃসন্দেহে কেউ হত্যা করেনি—এটা ঠিক আছে। কিন্তু উনি যেভাবে মারা গেছেন, এটা আমাদের কাম্য ছিল না।’

‘নিজের কথা’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আপনার সমস্ত ভালো ভালো কাজগুলো কতগুলো খারাপ লোকের খারাপ কথায়, খারাপ কাজে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এটা একটু দয়া করে আপনি লক্ষ্য রাখবেন। আজকের এই মিটিংয়ে আমি আসছি। কেন আসছি? এটা আসছি বিবেকের তাড়নায়। আমি একটা দল করি, ৪৮ বছরে বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া, অসুস্থ ছাড়া, আমার কোনোদিন এই দিনটা মিস হয়নি। আমি পালন করেছি। বিএনপির অনেক কাজ মিস হয়েছে, কিন্তু এই দিনটি আমি মিস করিনি, করব না কোনোদিন।’

তিনি বলেন, ‘আমি পরিশেষে একটি কথা বলব, আমি কোনো দল করি নাই, কোনো দল থেকে আসি নাই। আর কোনো দলে কোথাও আমি যাব না কোনোদিন, ইনশাল্লাহ। শহীদ জিয়াউর রহমানের হাতে রাজনীতিতে এসেছিলাম, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার স্নেহ পেয়েছি। আপনার সঙ্গে রাজনীতি করি, আমরা রাজনৈতিক জীবন শেষ করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে অন্য কোনো কিছু সুযোগ নাই। আমাকে আপনার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়ার। আমি আশা করি, শারীরিক কারণে, বয়সের কারণে হয়তো সবসময় যেমন শহীদ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ছিলাম, যেমন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলাম, হয়তো আমি জানি না, শারীরিক কারণে ওরকম নাও হতে পারে। কিন্তু কখনোই আপনি আমার কাছ থেকে কিংবা আমি আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। অনেক কথা বলে ফেলেছি, আমাকে ক্ষমা করবেন।’

বিএনপিতেই আমার রাজনীতি, ইনশাল্লাহ, শেষ হবে বলে মন্তব্য করেন মির্জা আব্বাস।

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুব দলের সাধারণ সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, উত্তরের সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বক্তব্য দেন।

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।