চুয়াডাঙ্গা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবিধানের মৌলিক বিষয়ে সংশোধনের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে

Padma Sangbad
৩২

অনলাইন ডেস্ক।।
সংবিধানের যেসব মৌলিক বিষয়ে সংশোধন আনা হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ১৪২ বা সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধানে পরিবর্তন এলে গণভোটের বাধ্যবাধকতা থাকবে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠকে তিনি এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন হতে পারে, ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। এরপর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিল আনবে।’

বৈঠকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। তারা সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। আজ দুপুর আড়াইটায় শুরু হওয়া বৈঠকটি বিকেল সোয়া ৫টা পর্যন্ত চলে।

বৈঠক শেষে দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের পর আবারও গণভোট আয়োজনের কথা জানিয়েছে বিশেষ কমিটি। কমিটির প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংবিধানেও বলা আছে, মৌলিক পরিবর্তন করতে হলে গণভোটে যেতে হয়। যেহেতু এবার মৌলিক পরিবর্তন হবে, তাই আবারও গণভোট দিতে হবে। এটি হবে সাংবিধানিক গণভোট।’

বৈঠকে জানানো হয়, ‘আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধন বিল পাস হবে বলে আশা করছে বিশেষ কমিটি। এ লক্ষ্যেই সব অংশীজনের মতামত নিয়ে বিলটি চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে।’

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বিরোধী দলকে সর্বোচ্চ আস্থায় নিয়ে কমিটির বৈঠকে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

মুস্তাফিজ শফি বলেন, ‘সাংবাদিকদের এ আহ্বানের জবাবে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে বিরোধী দলকে উপস্থিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। তবে তারা বৈঠকে উপস্থিত হয়ে মতামত না দিলেও সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবে বলে আশা করছে বিশেষ কমিটি।’

গণভোটের ধরন ব্যাখ্যা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গণভোট সাধারণত দুই ধরনের। একটি সাংবিধানিক গণভোট, অন্যটি আইনের কোনও বিষয়ে গণভোট। আইনের কোনও বিষয়ে জাতীয় ভিত্তিতে গণভোটের আহ্বান করা যেতে পারে। সংবিধানে সাংবিধানিক গণভোটের বাইরে অন্য কোনও বিষয়ে গণভোট হতে পারবে না, এমন বিধান নেই।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে আগে সাংবিধানিক গণভোটের বিধান ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে হওয়া মামলার রায়ের পর ১৪২ অনুচ্ছেদের ওই বিধান আবার এসেছে বলে তিনি জানান।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনী সংসদে পাস হওয়ার পর যেসব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বাধ্যবাধকতা থাকবে, সেগুলো রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোটে পাঠানো হবে। গণভোটে পক্ষে ভোট পড়লে সংশোধনী অনুমোদিত হবে এবং এরপর রাষ্ট্রপতি তাতে স্বাক্ষর করবেন।’

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়েও মতামত দেওয়া হয় বলে জানান মুস্তাফিজ শফি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে যে বিশাল ও একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা রাষ্ট্র ও জাতির জন্য ভালো হয়নি বলে মত দিয়েছেন সাংবাদিকরা। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসতে সংবিধান সংশোধনে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

আপডেট : ০৯:৪৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংবিধানের মৌলিক বিষয়ে সংশোধনের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে

আপডেট : ০৯:৪৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩২

অনলাইন ডেস্ক।।
সংবিধানের যেসব মৌলিক বিষয়ে সংশোধন আনা হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ১৪২ বা সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধানে পরিবর্তন এলে গণভোটের বাধ্যবাধকতা থাকবে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠকে তিনি এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন হতে পারে, ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। এরপর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিল আনবে।’

বৈঠকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। তারা সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। আজ দুপুর আড়াইটায় শুরু হওয়া বৈঠকটি বিকেল সোয়া ৫টা পর্যন্ত চলে।

বৈঠক শেষে দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের পর আবারও গণভোট আয়োজনের কথা জানিয়েছে বিশেষ কমিটি। কমিটির প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংবিধানেও বলা আছে, মৌলিক পরিবর্তন করতে হলে গণভোটে যেতে হয়। যেহেতু এবার মৌলিক পরিবর্তন হবে, তাই আবারও গণভোট দিতে হবে। এটি হবে সাংবিধানিক গণভোট।’

বৈঠকে জানানো হয়, ‘আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধন বিল পাস হবে বলে আশা করছে বিশেষ কমিটি। এ লক্ষ্যেই সব অংশীজনের মতামত নিয়ে বিলটি চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে।’

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বিরোধী দলকে সর্বোচ্চ আস্থায় নিয়ে কমিটির বৈঠকে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

মুস্তাফিজ শফি বলেন, ‘সাংবাদিকদের এ আহ্বানের জবাবে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে বিরোধী দলকে উপস্থিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। তবে তারা বৈঠকে উপস্থিত হয়ে মতামত না দিলেও সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবে বলে আশা করছে বিশেষ কমিটি।’

গণভোটের ধরন ব্যাখ্যা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গণভোট সাধারণত দুই ধরনের। একটি সাংবিধানিক গণভোট, অন্যটি আইনের কোনও বিষয়ে গণভোট। আইনের কোনও বিষয়ে জাতীয় ভিত্তিতে গণভোটের আহ্বান করা যেতে পারে। সংবিধানে সাংবিধানিক গণভোটের বাইরে অন্য কোনও বিষয়ে গণভোট হতে পারবে না, এমন বিধান নেই।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে আগে সাংবিধানিক গণভোটের বিধান ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে হওয়া মামলার রায়ের পর ১৪২ অনুচ্ছেদের ওই বিধান আবার এসেছে বলে তিনি জানান।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনী সংসদে পাস হওয়ার পর যেসব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বাধ্যবাধকতা থাকবে, সেগুলো রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোটে পাঠানো হবে। গণভোটে পক্ষে ভোট পড়লে সংশোধনী অনুমোদিত হবে এবং এরপর রাষ্ট্রপতি তাতে স্বাক্ষর করবেন।’

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়েও মতামত দেওয়া হয় বলে জানান মুস্তাফিজ শফি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে যে বিশাল ও একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা রাষ্ট্র ও জাতির জন্য ভালো হয়নি বলে মত দিয়েছেন সাংবাদিকরা। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসতে সংবিধান সংশোধনে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।