ফলাফলে অবনতি যশোর বোর্ডে পাসের হার-৭৩.৬৯ : শীর্ষে রাজশাহী তলানিতে বরিশাল

রাজশাহী-৭৭.৬৩, ঢাকা-৬৭.৫১, বরিশাল-৫৬.৩৮, চট্টগ্রাম-৭২.০৭, কুমিল্লা-৬৩.৬০, দিনাজপুর-৬৭.০৩, ময়মনসিংহ-৫৮.২২, সিলেট বোর্ড-৬৮.৫৭, মাদ্রাসা-৬৮.০৯ শতাংশ ভোকেশনাল-৭৩.৬৩,
এসএসসির ফলাফলে পাসের হার কমেছে যশোর শিক্ষাবোর্ডে। কমেছে জিপিএ-৫ও। এ বছর পাস করেছে ৭৩.৬৯ শতাংশ। যা গত তিন বছরের চেয়ে কম। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৯২.৩৩। তার আগের বছর ২০২৩ সালে ছিল ৮৬.১৭ এবং ২০২২ সালে ছিল ৯৫.১৭ শতাংশ। যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এ বছর পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে এক লাখ ৩৮ হাজার ৮৫১ জন পরীক্ষার্থী। এরমধ্যে পাস করেছে এক লাখ দু’হাজার ৩১৯ জন। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৪১০ জন।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩৯ হাজার ৮৫৭ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৩৬ হাজার ১৭৭ জন। এরমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৩৭৪ জন। মানবিক বিভাগ থেকে ৮৩ হাজার ৪৪৪ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৫৩ হাজার ৮৩১ জন পরীক্ষার্থী। এরমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ৩৭৪ জন। এছাড়া, বাণিজ্য বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়েছে ১৫ হাজার ৫৫০ জন। এরমধ্যে পাস করেছে ১২ হাজার ৩১১ জন। এরমধ্যে ৫৫৭ জন পরীক্ষার্থী।
দুপুর দুটোর দিকে বোর্ডের সম্মেলন করে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর মোসাম্মৎ আসমা বেগম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সচিব প্রফেসর এসএম মাহবুবুল আলম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ডক্টর আব্দুল মতিন, কলেজ পরিদর্শক তৌহিদুজ্জামান, সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট জাহাঙ্গীর কবির, উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। এ বছর দু’টি স্কুল থেকে একজনও পাস করতে পারেনি বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, এ বছর সারাদেশে ৩০ হাজার ৮৮ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৯ লাখ ২৮ হাজার ১৮১ জন শিক্ষার্থী তিন হাজার ৭১৪ টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়।
এদের মধ্যে পাস করেছে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ পরীক্ষার্থী। অকৃতকার্য হয়েছে ছয় লাখ ৬৬০ পরীক্ষার্থী। গড়ে পাস করেছে ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী।
দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হারের দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ। আর সবচেয়ে পিছিয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ।
চলতি বছর মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে দাখিল পরীক্ষায় এক লাখ ৯৫ হাজার ১১৫ জন পরীক্ষার্থী করেছে। মোট পরীক্ষার্থী ছিল দু’লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ জন। দাখিলে ৬৮ দশমিক ০৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গতবার এই পাসের হার ছিল ৭৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এবার দাখিলে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে নয় হাজার ৬৬ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৪ হাজার ২০৬ পরীক্ষার্থী। এবার দাখিলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে।
এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষায় ৭৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। মোট পরীক্ষার্থী ছিল এক লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন। গত বছর এই পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে চার হাজার ৯৪৮ জন।
গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল চার হাজার ৭৮ জন পরীক্ষার্থী। এবার এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে ও জিপিএ ৫ বেড়েছে।
এ বছর ঢাকা বোর্ডে ৬৭ দশমিক ৫১ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। এবার এ বোর্ডের মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭ হাজার ৬৮ পরীক্ষার্থী। গত বছর এই বোর্ডের পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৯ হাজার ২৯০ পরীক্ষার্থী।
কুমিল্লা বোর্ডে ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে নয় হাজার ৯০২ জন। গত বছর এই পাসের হার ছিল ৭৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১২ হাজার ১০০ জন পরীক্ষার্থী।
চট্টগ্রাম বোর্ডে ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৮৪৩ জন। গত বছর এই পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১০ হাজার ৮২৪ জন পরীক্ষার্থী।
দিনাজপুর বোর্ডে ৬৭ দশমিক ০৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৬২ জন। গত বছর এই পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৮ হাজার ১০৫ জন পরীক্ষার্থী।
বরিশাল বোর্ডে ৬৭ দশমিক ০৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন হাজার ১১৪ জন। গতবার এই পাসের হার ছিল ৮৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ছয় হাজার ১৪৫ জন পরীক্ষার্থী। বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কমেছে।
ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫৮ দশমিক ২২ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ছয় হাজার ৬৭৮ জন। গতবছর পাসের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ। গতবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ১৭৫ জন জন। ময়মনসিংহ বোর্ডের পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে।
রাজশাহী বোর্ডে ৭৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ হাজার ৩২৭ জন। গত বছর এই পাসের হার ছিল ৮৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৮ হাজার ৭৪ জন পরীক্ষার্থী।
এবং সিলেট বোর্ডে ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এ বছর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিন হাজার ৬১৪ জন। গতবার এই পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল পাঁচ হাজার ৪৭১ জন পরীক্ষার্থী।

















