চুয়াডাঙ্গা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিটনেস পরীক্ষার টাকা আত্মসাৎ ঘটনা ফাঁস, ফেরত দিয়ে বাঁচার চেষ্টা

Padma Sangbad
৩৬

সরকারি রশিদ ছাড়াই বিদেশ গমনেচ্ছুক ৩৮ জনের কাছ থেকে ফিটনেস পরীক্ষার নামে ৩৩ হাজার টাকা হাতিয়ে আত্মসাৎ করার ঘটনায় যশোর জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ পারভেজ মোশারফকে নিয়ে তুমুল হৈচৈ শুরু হয়েছে। ফিটনেস পরীক্ষার টাকা আত্মসাৎ ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়ায় শেষমেশ সরকারি কোষাগারে টাকা দিয়ে তত্ত্বাবধায়কের কাছে ক্ষমা চেয়ে পার পেয়েছেন তিনি।
একের পর এক তার দুর্নীতি ধরা পড়লেও অজ্ঞাত করনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে ক্ষমা চাওয়ার কোনো সুযোগ আছে কিনা তা নিয়ে নানামুখি প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
হাসপাতাল সূত্র থেকে তথ্য মিলেছে, ঈদুল আযহার দুইদিন আগে থেকে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরু হয়। এ কাজের জন্য হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ বন্ধ থাকে। ঈদের ছুটিতে কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদার বাড়তি ৩ দিন সময় চান তত্ত্বাবধায়কের কাছে। ফলে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হাসপাতালে প্যাথলজি পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়। এরই মধ্যে প্যাথলজি ইনচার্জ পারভেজ মোশাররফ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ক্যাশ কাউন্টারের রশিদ বাদেই ঈদের ছুটির পর থেকে হাসপাতালে আগত কিছু রোগীদের প্যাথলজি পরীক্ষা করেন। বিদেশ গমনেচ্ছুক ৩৮ জনের কাছ থেকে মাথাপ্রতি ফিটনেস পরীক্ষার নামে ৮শ’ টাকা করে হাতিয়ে নেন। এছাড়া বাকি রোগীদের শহরের বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করার জন্য পরামর্শ দিয়ে গোপন কমিশন হিসেবেও মোটা টাকা হাতিয়ে নেন পারভেজ মোশাররফ।
সূত্র বলছে, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে আর্থিক স্বচ্ছতা আনতে ২০১৮ সালের মে মাসে ক্যাশ কাউন্টার চালু করা হয়। ক্যাশ কাউন্টারের রশিদ ছাড়া কোন বিভাগে পরীক্ষা না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্যাথলজি বিভাগে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করা হচ্ছিলো না। এ বিভাগে রশিদ ছাড়া পরীক্ষা নিরীক্ষা করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেখানে দায়িত্বরত ইনচার্জ পারভেজ হোসেনের নির্দেশে এই অনিয়ম করা হয়। ক্যাশ কাউন্টারের রশিদের অর্থ ছাড়া আর কোন টাকা রাজস্ব খাতে জমা করা হয় না। প্যাথলজি বিভাগে পরীক্ষার নগদ টাকা ভাগাভাগি হয়ে যাচ্ছে। এতে করে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অপর সূত্রের দাবি, আস্থাভাজন দু’জন দিয়ে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন প্যাথলজি ইনচার্জ। প্যাথলজি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ওই বিভাগ বন্ধ ঘোষণা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ কর্তৃপক্ষ পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বিভাগটি বন্ধ থাকবে। কিন্তু গোপনে সেটি খুলে রেখে রশিদ বাদে টাকা আদায় করেছে মোশররফ চক্রটি। ওই টাকা ভাগাভাগিও করে নেয়। কিন্তু ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে ওই টাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন। আর ফেরত দেয়ার সময় ‘বৈকালীন সেবা’ আদায়ের রশিদ বই ব্যবহার করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কেননা, একমাত্র যারা বিকেলে হাসপাতাল থেকে বৈকালীন সেবা নিয়ে থাকেন, ক্যাশ কাউন্টার বন্ধ থাকায় প্যাথলজি বিভাগ থেকে তাদের এ রশিদ দেয়া হয়। অর্থাৎ তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়েছেন। আর তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেনেও নিয়েছেন।
অপর একটি সূত্রের দাবি, ঘটনার সাথে শুধু মোশাররফই নয় কর্মকর্তা গোছের আরো কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারেন। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটিও করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে প্যাথলজি ইনচার্জ পারভেজ মোশারফের সাথে কথা বললে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। এসময় তিনি তার দপ্তরে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
তবে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, প্যাথলজি বিভাগকে উন্নত করতে সংস্কার কার্যক্রমের জন্য কিছুদিন বন্ধ ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার থেকে এ বিভাগ থেকে আবারও সেবা পাচ্ছে রোগীরা। বন্ধ থাকার সময় পারভেজ মোশারফ অর্থ নয় ছয় করেছে। পরে ৩২ হাজার ৮শ’ টাকা হাসপাতাল কোষাগারে জমা করে ক্ষমা চেয়েছেন।

আপডেট : ০২:৩৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪

ফিটনেস পরীক্ষার টাকা আত্মসাৎ ঘটনা ফাঁস, ফেরত দিয়ে বাঁচার চেষ্টা

আপডেট : ০২:৩৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪
৩৬

সরকারি রশিদ ছাড়াই বিদেশ গমনেচ্ছুক ৩৮ জনের কাছ থেকে ফিটনেস পরীক্ষার নামে ৩৩ হাজার টাকা হাতিয়ে আত্মসাৎ করার ঘটনায় যশোর জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ পারভেজ মোশারফকে নিয়ে তুমুল হৈচৈ শুরু হয়েছে। ফিটনেস পরীক্ষার টাকা আত্মসাৎ ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়ায় শেষমেশ সরকারি কোষাগারে টাকা দিয়ে তত্ত্বাবধায়কের কাছে ক্ষমা চেয়ে পার পেয়েছেন তিনি।
একের পর এক তার দুর্নীতি ধরা পড়লেও অজ্ঞাত করনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে ক্ষমা চাওয়ার কোনো সুযোগ আছে কিনা তা নিয়ে নানামুখি প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
হাসপাতাল সূত্র থেকে তথ্য মিলেছে, ঈদুল আযহার দুইদিন আগে থেকে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরু হয়। এ কাজের জন্য হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ বন্ধ থাকে। ঈদের ছুটিতে কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদার বাড়তি ৩ দিন সময় চান তত্ত্বাবধায়কের কাছে। ফলে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হাসপাতালে প্যাথলজি পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়। এরই মধ্যে প্যাথলজি ইনচার্জ পারভেজ মোশাররফ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ক্যাশ কাউন্টারের রশিদ বাদেই ঈদের ছুটির পর থেকে হাসপাতালে আগত কিছু রোগীদের প্যাথলজি পরীক্ষা করেন। বিদেশ গমনেচ্ছুক ৩৮ জনের কাছ থেকে মাথাপ্রতি ফিটনেস পরীক্ষার নামে ৮শ’ টাকা করে হাতিয়ে নেন। এছাড়া বাকি রোগীদের শহরের বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করার জন্য পরামর্শ দিয়ে গোপন কমিশন হিসেবেও মোটা টাকা হাতিয়ে নেন পারভেজ মোশাররফ।
সূত্র বলছে, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে আর্থিক স্বচ্ছতা আনতে ২০১৮ সালের মে মাসে ক্যাশ কাউন্টার চালু করা হয়। ক্যাশ কাউন্টারের রশিদ ছাড়া কোন বিভাগে পরীক্ষা না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্যাথলজি বিভাগে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করা হচ্ছিলো না। এ বিভাগে রশিদ ছাড়া পরীক্ষা নিরীক্ষা করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেখানে দায়িত্বরত ইনচার্জ পারভেজ হোসেনের নির্দেশে এই অনিয়ম করা হয়। ক্যাশ কাউন্টারের রশিদের অর্থ ছাড়া আর কোন টাকা রাজস্ব খাতে জমা করা হয় না। প্যাথলজি বিভাগে পরীক্ষার নগদ টাকা ভাগাভাগি হয়ে যাচ্ছে। এতে করে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অপর সূত্রের দাবি, আস্থাভাজন দু’জন দিয়ে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন প্যাথলজি ইনচার্জ। প্যাথলজি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ওই বিভাগ বন্ধ ঘোষণা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ কর্তৃপক্ষ পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বিভাগটি বন্ধ থাকবে। কিন্তু গোপনে সেটি খুলে রেখে রশিদ বাদে টাকা আদায় করেছে মোশররফ চক্রটি। ওই টাকা ভাগাভাগিও করে নেয়। কিন্তু ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে ওই টাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন। আর ফেরত দেয়ার সময় ‘বৈকালীন সেবা’ আদায়ের রশিদ বই ব্যবহার করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কেননা, একমাত্র যারা বিকেলে হাসপাতাল থেকে বৈকালীন সেবা নিয়ে থাকেন, ক্যাশ কাউন্টার বন্ধ থাকায় প্যাথলজি বিভাগ থেকে তাদের এ রশিদ দেয়া হয়। অর্থাৎ তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়েছেন। আর তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেনেও নিয়েছেন।
অপর একটি সূত্রের দাবি, ঘটনার সাথে শুধু মোশাররফই নয় কর্মকর্তা গোছের আরো কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারেন। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটিও করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে প্যাথলজি ইনচার্জ পারভেজ মোশারফের সাথে কথা বললে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। এসময় তিনি তার দপ্তরে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
তবে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, প্যাথলজি বিভাগকে উন্নত করতে সংস্কার কার্যক্রমের জন্য কিছুদিন বন্ধ ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার থেকে এ বিভাগ থেকে আবারও সেবা পাচ্ছে রোগীরা। বন্ধ থাকার সময় পারভেজ মোশারফ অর্থ নয় ছয় করেছে। পরে ৩২ হাজার ৮শ’ টাকা হাসপাতাল কোষাগারে জমা করে ক্ষমা চেয়েছেন।