চুয়াডাঙ্গা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়িয়ায় বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকার মারামারি, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তদন্তের সিদ্ধান্ত

Padma Sangbad
২৪

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক:
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকার মধ্যে হাতাহাতি, ধস্তাধস্তি ও মারামারির একটি দৃশ্য ভিডিও হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর চাঞ্চল্যকর ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে পুরো অঞ্চলজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে হাতাহাতিতে লিপ্ত হওয়া ওই প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকা পেশাগত সম্পর্কের বাইরেও তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। দীর্ঘদিনের পারিবারিক অমীমাংসিত দ্বন্দ্বের জের ধরে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ দিন আগে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে তাদের মধ্যে এই মারামারির ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৪ সালে এই শিক্ষাদম্পতির পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় এবং তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের কারণে গত প্রায় ১৪ বছর ধরে তাঁরা আলাদা বসবাস করছেন এবং আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০১১ সালে তাঁরা দুজনেই একই বিদ্যালয়ে যোগ দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নিজের ভুল স্বীকার করে জানান, তাদের মধ্যে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে পারিবারিকভাবে বিরোধ চলছে। কিন্তু আইনি কোনো বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেনি। ঘটনার দিন উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে অপ্রীতিকর এ মারামারির সৃষ্টি হয়, যা তিনি সহকর্মী শিক্ষককে দিয়ে ভিডিও ধারণ করিয়েছিলেন। বিদ্যালয়ে এমন আচরণ করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি বলেও তিনি অনুশোচনা প্রকাশ করেন।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, “ঘটনাটি ১০-১২ দিন আগের হলেও ভিডিওটি সম্প্রতি নজরে এসেছে। স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র স্থানে এমন অনভিপ্রেত আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে বিভাগীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।”

আপডেট : ০১:০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ফুলবাড়িয়ায় বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকার মারামারি, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তদন্তের সিদ্ধান্ত

আপডেট : ০১:০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
২৪

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক:
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকার মধ্যে হাতাহাতি, ধস্তাধস্তি ও মারামারির একটি দৃশ্য ভিডিও হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর চাঞ্চল্যকর ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে পুরো অঞ্চলজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে হাতাহাতিতে লিপ্ত হওয়া ওই প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকা পেশাগত সম্পর্কের বাইরেও তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। দীর্ঘদিনের পারিবারিক অমীমাংসিত দ্বন্দ্বের জের ধরে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ দিন আগে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে তাদের মধ্যে এই মারামারির ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৪ সালে এই শিক্ষাদম্পতির পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় এবং তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের কারণে গত প্রায় ১৪ বছর ধরে তাঁরা আলাদা বসবাস করছেন এবং আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০১১ সালে তাঁরা দুজনেই একই বিদ্যালয়ে যোগ দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নিজের ভুল স্বীকার করে জানান, তাদের মধ্যে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে পারিবারিকভাবে বিরোধ চলছে। কিন্তু আইনি কোনো বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেনি। ঘটনার দিন উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে অপ্রীতিকর এ মারামারির সৃষ্টি হয়, যা তিনি সহকর্মী শিক্ষককে দিয়ে ভিডিও ধারণ করিয়েছিলেন। বিদ্যালয়ে এমন আচরণ করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি বলেও তিনি অনুশোচনা প্রকাশ করেন।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, “ঘটনাটি ১০-১২ দিন আগের হলেও ভিডিওটি সম্প্রতি নজরে এসেছে। স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র স্থানে এমন অনভিপ্রেত আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে বিভাগীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।”