বিদায়বেলায় যা বললেন ডি মারিয়া

বর্তমানে সবচেয়ে ভাল সময় পার করছে টিম আর্জেন্টিনা। ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৪টি মেজর টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে দলটি। আর সামনে থেকে এই দলটাকে নেতৃত্বে দিয়েছেন মেসি এবং ডি মারিয়া। ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত যে ৪টি ফাইনাল জিতেছে, তার তিনটিতেই গোল করে দলের জয়ে অবদান রেখেছেন ডি মারিয়া। শুধু নিজের শেষ ফাইনালটাতেই গোলবিহীন থেকে গেলেন এই কিংবদন্তী। প্রায় দেড় যুগ পর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ডি মারিয়া।
কোপা আমেরিকার শিরোপা হাতে নিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন আর্জেন্টিনার এই তারকা ফুটবলার। শিরোপা উৎসবের মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলে দেন ডি মারিয়া।
এমন বিদায়ই তিনি চেয়েছিলেন, যা ফাইনাল শেষে জানিয়েছেন নিজের প্রতিক্রিয়া। বিদায়ী ম্যাচের প্রায় পুরো সময়ই তিনি খেলেছেন। ১১৬ মিনিট মাঠে ছিলেন ডি মারিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে কোনও ম্যাচে এত লম্বা সময় তাকে খেলতে যায়নি। তবে ৬৬ মিনিটে মেসি মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দলের নেতৃত্বভারটা তার কাঁধেই ছিল। দলকে নেতৃত্ব দিয়ে নিজের দায়িত্বটাও যে তিনি ভালভাবেই পালন করেছেন তিনি। আর যার জন্য তিনি জিতেছেন ম্যান অব দ্যা ফাইনাল পুরস্কার।
আরও পড়ুন: তিন বছরে চার ট্রফি, ফুটবলে আর দেখার বাকি নেই: মাশরাফী
এর আগে ম্যাচের শুরুতে ডি মারিয়ার দুই কন্যা সন্তান ফাইনালের বল নিয়ে এসে বাবার হাতে তুলে দেন। সেই বল নিয়ে মাঝমাঠ থেকে গড়ায় আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়া মহারণ। কলম্বিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নও হরো শেষ পর্যন্ত। এমন বিদায়ে বাধভাঙা উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ার কথা ডি মারিয়ার। জয়ের আনন্দ এবং বিদায়ের অশ্রু যেন মিলেমিশে একাকার।
বিদায়বেলায় নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ডি মারিয়া বলেন, ‘এটি (শিরোপা জয়) লিখা হয়েছিল এবং আমি এমনটাই চেয়েছিলাম। এমন মুহূর্ত পাওয়ার স্বপ্ন ছিল আমার এবং সেটি সতীর্থদেরও বলেছি। আমার মাঝে অনেক সুন্দর অনুভূতি কাজ করছে।’
কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনা এখন রেকর্ড সর্বোচ্চ সংখ্যক শিরোপাধারী দল। এ বিষয়ে ডি মারিয়া বলেন, ‘মনে হয়েছিল এটি খুব সহজ, কিন্তু এই যাত্রা বেশ কঠিন ছিল। আমি নিজেকে একপাশে রাখছি, আরেকপাশে থাকা আর্জেন্টিনার এই প্রজন্মের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমি যেমনটা চেয়েছিলাম সেটি পূরণে তারা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করেছে। দারুণ এই অর্জন নিয়েই আমি বিদায় নিচ্ছি। আমি আগের প্রজন্মের সঙ্গে বিশেষ কিছু জয়ের আশা করেছিলাম, যা তারা ডিজার্ভ করতো।’
আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেড়যুগ একসঙ্গে খেলেছেন মেসি ও ডি মারিয়া। যদিও তার বিদায়ী ম্যাচে বন্ধুকে পুরো সময় তিনি মাঠে পাননি। ৬৬ মিনিটে ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন মেসি। বেঞ্চে বসে অঝরে কেদেছেন এলএমটেন। পরে সেই বন্ধুর হাতে থাকা অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেই চ্যাম্পিয়নের মুকুট এনে দেন ডি মারিয়া। মেসির জন্যও আক্ষেপ করেছেন তিনি। বলেলন, ‘ আমি খুশি নই, কারণ সে (মেসি) এভাবে মাঠ ছেড়েছে। ডান পায়ের অ্যাঙ্কলে চোট পেয়েছে সে। তবে জয় পেয়েছি এবং এটাই মেসির জন্য আনন্দের। এটি সত্যিই দারুণ এক রাত।’
এ নিয়ে গত তিন বছরে চারটি শিরোপা জিতলো আর্জেন্টিনা। সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে ১৪৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ডি মারিয়া। তার বিদায়বেলায় আর্জেন্টিনার হয়ে ষষ্ঠ কোনও মেজর টাইটেল জিতেছেন তিনি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে বিশ্বকাপ, একই বছর ফিনালিসিমা, ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা, অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ অলিম্পিকে গোল্ড মেডেল জিতেছেন তিনি।
একের পর এক ফাইনালে হার, মেসির অবসরের ঘোষণা। কী কঠিন সময়ই না কাটিয়েছে আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। মেসি অবসর ভেঙে ফিরলেন, ২০২১ সালে আর্জেন্টিনাকে ২৮ বছর পর কোপা আমেরিকা জেতালেন। এরপর শুধু জিতেই চলেছে আর্জেন্টিনা। ক্লাব ফুটবলে আগেই সর্বজয়ী খেলোয়াড়ের তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়েও তার আর জেতার বাকি নেই কিছুই।
টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছে আর্জেন্টিনা। ছবি: রয়টার্স
টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছে
২০২১ এর কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে শুরু। এরপর কাতারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। এবার কোপা আমেরিকায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। সোমবার (১৫ জুলাই) ফাইনালে কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকার ১৬তম শিরোপা ঘরে তুলেছে আর্জেন্টিনা। সেই সঙ্গে স্পেনের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট-বিশ্বকাপ-মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট জেতার বিরল রেকর্ডে নাম লিখিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
আর্জেন্টিনার কোপা আমেরিকা জয় দেখে আনন্দে আটখানা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। আর্জেন্টিনার তিন বছরে চার ট্রফি জেতা দেখার পর আর ফুটবলে আর কিছুই চাওয়ার নেই বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন মাশরাফী। ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, ‘তিন বছর চার ট্রফি!
আর কিছু জিততে দেখার বাকি নাই, সত্যিই নাই। আজ প্রথম কোপার একটা ম্যাচ দেখলাম তাও হাফ টাইম, ঘুম থেকে উঠে খেলার দেরি দেখে আবার ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। পরে হুমায়রা ডেকে দিলে শেষ অর্ধেক দেখেছি। আসলেই বিশ্বকাপ জিতার পর সব চাওয়া ওখানেই শেষ হয়ে গেছে, ঐ কাপটাই একবার জেতা দেখতে চেয়েছিলাম। আজ অবশ্য ডি মারিয়ার জন্য জয়টা দরকার ছিলো। পুরো বিশ্বকাপে গালি খাওয়া লাউতারো এই কোপায় সর্বোচ্চ গোল করে ফেললো, তাও ফাইনালসহ যেখানে আবার মেসি নাই। আর্জেন্টিনা এখন মেসিবিহীনও দারুণ দল, সেটা আবারও করে দেখালো।’
আরও পড়ুন: স্পেনের রেকর্ডে ভাগ বসাল আর্জেন্টিনা
মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা আর্জেন্টিনার বিজয়ে দারুণ খুশি। ছবি: ফেসবুক
ফুটবলে আর কিছুই জেতার বাকি নেই মেসির। ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়েছেন এরই মধ্যে। কিন্তু এই শিরোপাটি আর্জেন্টিনার আরেক কিংবদন্তি অ্যানহেল ডি মারিয়ার বিদায়ী ম্যাচে দরকার ছিল বলে মনে করেন মাশরাফী, ‘লিও এ পৃথিবীর সম্ভবত সব পাওয়া একজন মানুষ, সেটা আজ আরও একটু ভারি হলো। স্ক্যালোনি এখন পকেটে কয়েক কোটি ডলারের অফার নিয়ে ঘুমাতে যায়। তরুণ খেলোয়াড়গুলো তো এই বয়সেই প্রায় সব জিতে নিলো। আর, আনহেল ডি মারিয়া আপনাকে আবারও কুর্নিশ, আপনার জন্মই হয়েছে সব সময়ই বড় ম্যাচের জন্য। আপনার বিদায় এ ভাবেই হওয়া উচিত ছিলো।
ভামোস আর্জেন্টিনা, তোমরা যা দেখিয়েছো, শেষ তিন বছরে তাতে আমার এই জীবনে ফুটবল থেকে আর কিছু দেখার নাই।’


























